আজঃ ৩০শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ - ১৪ই ডিসেম্বর ২০১৮ - রাত ১০:০২

শেষমেশ ‘জাতীয় ঐক্যে’ স্বাধীনতা বিরোধীর দল

Published: সেপ্টে ২৩, ২০১৮ - ৯:৫২ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন::দল সঙ্গে থাকলে বিএনপির সঙ্গে কোনো ঐক্য নয়- গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন এবং যুক্তফ্রন্টের এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রকাশ্যে একাধিকবার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত কথা রাখলেন না তারা। মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইনে দণ্ডিত নেতার দলকে সঙ্গে নিয়েই হয়েছে ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ। আর এই সমাবেশ থেকেই একসঙ্গে কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে।

আবার স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি সম্পর্ক ত্যাগেরও ঘোষণা দেয়নি। ফলে ‘জাতীয় ঐক্যে’ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা দলটিও পরোক্ষভাবে থাকছে না, এটি বলারও সুযোগ নেই।

শনিবার কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগ ছিল না, এটা সত্য। তবে ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে গভর্নর আবদুল মোতালেব মালেকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের উপস্থিত ছিলেন মঞ্চে।

মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইনে গ্রেপ্তারের পর ইসহাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলার বাণী পত্রিকার একটি খবরের শিরোনাম ‘দালাল মন্ত্রী ইসহাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’।

৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর ইসহাক আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন আর কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলে যোগ দেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ভেঙে গেলে তিনি একটি অংশের প্রধান নেতা হন। খেলাফত মজলিস নামে তার দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। এখনও তিনি বিএনপির সঙ্গে ২০ দলীয় জোটে আছেন।

ইসহাকের নেতৃত্বে দলের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরেই সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৮২ সালে সংগঠনের সভাপতিও হন। পরে দ্বন্দ্বের জেরে শিবির ত্যাগ করেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগবিরোধী যে বৃহৎ ঐক্য গড়ার চেষ্টা হচ্ছে তাতে বিএনপি ছাড়া আছে কামাল হোসেনের গণফোরাম এবং দুই প্রধান দলের বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দেয়া যুক্তফ্রন্ট।

এর মধ্যে কামাল হোসেন একাধিকবার এমনকি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে জানিয়েছেন, জামায়াত থাকলে তিনি ঐক্যের আলোচনায় নেই।

একই কথা একাধিকবার জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী। এমনকি শনিবার ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের আগের দিন বিএনপির তিন নেতা মির্জা ফখরুল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং মওদুদ আহমদ যখন বি. চৌধুরীর বাড়িতে যান, তখনও সে কথাই উল্লেখ করেন তিনি ও তার সন্তান মাহী।

মাহী  নিজে বলেছেন, বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ স্বাধীনতাবিরোধী দল থাকলে ঐক্য হবে না।

এমনকি ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে বি. চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী কোনো দলের সঙ্গে তারা ঐক্য করবেন না। তবে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হতে পারে।

এর মধ্যে জামায়াতকে বাদ না দিলেও বিএনপি এবং দালাল আইনে দণ্ডিত নেতার দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ার ঘোষণা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা আসেনি গণফোরাম বা যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কেউই কথা বলতে রাজি হননি। ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন।

বি. চৌধুরীর দলের মহাসচিবই স্বাধীনতাবিরোধী

রাজনৈতিক দলের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বি. চৌধুরীর বক্তব্যের সঙ্গে আবার তার কর্মকাণ্ডের মিল নেই। তিনি তার দল বিকল্পধারার মহাসচিব হিসেবে এমন একজনকে নিয়েছেন যিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে।

বি. চৌধুরীর দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা আবদুল মান্নান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। বাঙালি যে ৮০ জন সেনা কর্মকর্তা পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল, তিনি তাদেরই একজন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তিনিও আত্মসমর্পণ করেন আর এরপর যুদ্ধবন্দি হিসেবে ভারতে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে পাকিস্তানে যান। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকেই অবসরে যান মান্নান।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান হন মান্নান আর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে হন সংসদ সদস্য।

স্বাধীনতাবিরোধীর সঙ্গে ঐক্য নয়- এমন ঘোষণা দিয়েও পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্রধারী নেতাকে পাশে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে নেতারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

আছেন ফখরুদ্দিনের উপদেষ্টাও

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর দুই বছর দেশ চালানো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনায় মুখর বিএনপি। ছদ্ম সেনাশাসন হিসেবে বিবেচিত এই আমলেই গ্রেপ্তার হন দুই প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। এই আমলেই দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে বন্দী বিএনপি নেত্রী। অথচ জাতীয় ঐক্যের ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন এই সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনও।

ঐক্যের সমাবেশে বিএনপি নেতা মওদুদের হাত ধরে ছবি তোলেন মইনুল। মইনুলের হাত ধরেন কামান হোসেন আর কামাল হোসেনের হাত উঁচিয়ে ধরে ছবি তোলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০১৬ সালের ৫ আগস্ট দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও কার্য্কর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ঘোষণা দেন।

আর এক যুগ ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে থাকা বিএনপি জাতীয় ঐক্যের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে খালেদা জিয়ার দণ্ডের পর থেকে।

এই আলোচনার সময় তিনশ আসনের মধ্যে ১৫০ আসনে ছাড় দেয়া, দুই বছর প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়ার মতো দাবিও শুনতে হয়েছে দলটিকে। আর ঐক্যের স্বার্থে ছাড় দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

জাতীয় ঐক্যের যে ঘোষণা এসেছে তাতে বিএনপির অবস্থান কোথায় সেটি স্পষ্ট নয়। অথচ নিঃসন্দেহে এখানে সবচেয়ে বড় দল তারাই। অন্যদের মধ্যে কামাল হোসেনের গণফোরাম, যুক্তফ্রন্টের বিকল্প ধারা ও জেএসডির প্রার্থীরা ভোটে জামানত রক্ষা করতে পারবেন কি না, এই নিয়েই আলোচনা তুঙ্গে। আরেক শরিক নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না যতবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তার কোনোটিতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। এর মধ্যে দুইবার তিনি জামানত রক্ষা করতে পারেন আওয়ামী লীগের নৌকা পেয়ে আর একবার অন্য দলের হয়ে প্রার্থী হয়ে নগন্য সংখ্যক ভোট পান।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন::দল সঙ্গে থাকলে বিএনপির সঙ্গে কোনো ঐক্য নয়- গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন এবং যুক্তফ্রন্টের এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রকাশ্যে একাধিকবার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত কথা রাখলেন না তারা। মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইনে দণ্ডিত নেতার দলকে সঙ্গে নিয়েই হয়েছে ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ। আর এই সমাবেশ থেকেই একসঙ্গে কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে।

আবার স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি সম্পর্ক ত্যাগেরও ঘোষণা দেয়নি। ফলে ‘জাতীয় ঐক্যে’ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা দলটিও পরোক্ষভাবে থাকছে না, এটি বলারও সুযোগ নেই।

শনিবার কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগ ছিল না, এটা সত্য। তবে ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে গভর্নর আবদুল মোতালেব মালেকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের উপস্থিত ছিলেন মঞ্চে।

মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইনে গ্রেপ্তারের পর ইসহাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলার বাণী পত্রিকার একটি খবরের শিরোনাম ‘দালাল মন্ত্রী ইসহাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’।

৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর ইসহাক আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন আর কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলে যোগ দেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ভেঙে গেলে তিনি একটি অংশের প্রধান নেতা হন। খেলাফত মজলিস নামে তার দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। এখনও তিনি বিএনপির সঙ্গে ২০ দলীয় জোটে আছেন।

ইসহাকের নেতৃত্বে দলের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরেই সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৮২ সালে সংগঠনের সভাপতিও হন। পরে দ্বন্দ্বের জেরে শিবির ত্যাগ করেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগবিরোধী যে বৃহৎ ঐক্য গড়ার চেষ্টা হচ্ছে তাতে বিএনপি ছাড়া আছে কামাল হোসেনের গণফোরাম এবং দুই প্রধান দলের বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দেয়া যুক্তফ্রন্ট।

এর মধ্যে কামাল হোসেন একাধিকবার এমনকি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে জানিয়েছেন, জামায়াত থাকলে তিনি ঐক্যের আলোচনায় নেই।

একই কথা একাধিকবার জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী। এমনকি শনিবার ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের আগের দিন বিএনপির তিন নেতা মির্জা ফখরুল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং মওদুদ আহমদ যখন বি. চৌধুরীর বাড়িতে যান, তখনও সে কথাই উল্লেখ করেন তিনি ও তার সন্তান মাহী।

মাহী  নিজে বলেছেন, বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ স্বাধীনতাবিরোধী দল থাকলে ঐক্য হবে না।

এমনকি ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে বি. চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী কোনো দলের সঙ্গে তারা ঐক্য করবেন না। তবে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হতে পারে।

এর মধ্যে জামায়াতকে বাদ না দিলেও বিএনপি এবং দালাল আইনে দণ্ডিত নেতার দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ার ঘোষণা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা আসেনি গণফোরাম বা যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কেউই কথা বলতে রাজি হননি। ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন।

বি. চৌধুরীর দলের মহাসচিবই স্বাধীনতাবিরোধী

রাজনৈতিক দলের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বি. চৌধুরীর বক্তব্যের সঙ্গে আবার তার কর্মকাণ্ডের মিল নেই। তিনি তার দল বিকল্পধারার মহাসচিব হিসেবে এমন একজনকে নিয়েছেন যিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে।

বি. চৌধুরীর দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা আবদুল মান্নান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। বাঙালি যে ৮০ জন সেনা কর্মকর্তা পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল, তিনি তাদেরই একজন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তিনিও আত্মসমর্পণ করেন আর এরপর যুদ্ধবন্দি হিসেবে ভারতে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে পাকিস্তানে যান। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকেই অবসরে যান মান্নান।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান হন মান্নান আর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে হন সংসদ সদস্য।

স্বাধীনতাবিরোধীর সঙ্গে ঐক্য নয়- এমন ঘোষণা দিয়েও পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্রধারী নেতাকে পাশে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে নেতারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

আছেন ফখরুদ্দিনের উপদেষ্টাও

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর দুই বছর দেশ চালানো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনায় মুখর বিএনপি। ছদ্ম সেনাশাসন হিসেবে বিবেচিত এই আমলেই গ্রেপ্তার হন দুই প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। এই আমলেই দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে বন্দী বিএনপি নেত্রী। অথচ জাতীয় ঐক্যের ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন এই সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনও।

ঐক্যের সমাবেশে বিএনপি নেতা মওদুদের হাত ধরে ছবি তোলেন মইনুল। মইনুলের হাত ধরেন কামান হোসেন আর কামাল হোসেনের হাত উঁচিয়ে ধরে ছবি তোলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০১৬ সালের ৫ আগস্ট দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও কার্য্কর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ঘোষণা দেন।

আর এক যুগ ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে থাকা বিএনপি জাতীয় ঐক্যের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে খালেদা জিয়ার দণ্ডের পর থেকে।

এই আলোচনার সময় তিনশ আসনের মধ্যে ১৫০ আসনে ছাড় দেয়া, দুই বছর প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়ার মতো দাবিও শুনতে হয়েছে দলটিকে। আর ঐক্যের স্বার্থে ছাড় দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

জাতীয় ঐক্যের যে ঘোষণা এসেছে তাতে বিএনপির অবস্থান কোথায় সেটি স্পষ্ট নয়। অথচ নিঃসন্দেহে এখানে সবচেয়ে বড় দল তারাই। অন্যদের মধ্যে কামাল হোসেনের গণফোরাম, যুক্তফ্রন্টের বিকল্প ধারা ও জেএসডির প্রার্থীরা ভোটে জামানত রক্ষা করতে পারবেন কি না, এই নিয়েই আলোচনা তুঙ্গে। আরেক শরিক নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না যতবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তার কোনোটিতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। এর মধ্যে দুইবার তিনি জামানত রক্ষা করতে পারেন আওয়ামী লীগের নৌকা পেয়ে আর একবার অন্য দলের হয়ে প্রার্থী হয়ে নগন্য সংখ্যক ভোট পান।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর