আজঃ ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - রাত ৩:৪৪

মৌলভীবাজারে প্রবাসীর স্ত্রীকে পালিয়ে নিয়ে যাওয়া ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

Published: মার্চ ১৪, ২০১৮ - ৩:০২ অপরাহ্ণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে শেষ পর্যন্ত কপাল পুড়ল উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তুহিনুজ্জামান ইয়াকুবের। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সংসদের এক জরুরী বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ মার্চ) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন এর যৌথ স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বহিষ্কারের বিষয়টি সিলেট প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান রনি।

এর আগে প্রবাসী সালামত মিয়া আরব আমিরাতের কনসুলেটর জেনারেল অব বাংলাদেশের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো লিখিত অভিযোগে প্রেক্ষিতে ‘ ছাত্রলীগ নেতার হাত ধরে ঘর ছাড়লেন প্রবাসীর স্ত্রী’ শিরোনামে সিলেট প্রতিদিনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

লিখিত অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, ঘরের আসবাব পত্রসহ নগদ ৪৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ও কন্যা সন্তানসহ ছাত্রলীগ নেতা তুহিনুজ্জামান ইয়াকুব তার স্ত্রী রহিমা আক্তারকে নিয়ে পালিয়ে যান।

যদিও প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা আক্তার উল্টো দাবী করেছেন তার স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত ছিলো।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী সালামত মিয়ার সাথে ২০১৩ সালে ইসলামি শরিহা মোতাবেক একই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা আছকর আলীর মেয়ে রহিমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের এ দাম্পত্য জীবনে আসে এক কন্যা সন্তান। কিন্তু স্বামী সালামত মিয়া প্রবাস থাকার সুবাদে কুলাউড়া উপজেলার জয়পাশা গ্রামের ছয়ফুল মিয়ার ছেলে তুহিনুজ্জামান ইয়াকুবের সাথে স্ত্রী রহিমা আক্তার পরকীয়ায় লিপ্ত হন। এবিষয়টি জানাজানি হলে আব্দুল বাছিত, গনি মিয়ার উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। বরং ইয়াকুবের পক্ষ থেকে দুবাই প্রবাসী সালামত মিয়াকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

বিবাহের সময় স্ত্রীকে দেওয়া নগদ ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, দেন মোহর বাবদ ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, সালামত মিয়ার গ্রামের বাড়িতে জায়গা বিক্রি বাবদ ১৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, পূবালী ব্যাংক রবিরবাজার শাখায় বীমা বাবদ ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, জুড়ী ইউনিয়নের ফুলতলায় আগর গাছ ক্রয়বাবদ ৪ লক্ষ টাকা, ঘরের আসবাব পত্র, টিভি, ফ্রিজ, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদি বাবদ আরও ৭ লক্ষ টাকা ও কন্যা সন্তানকে নিয়ে তুহিনুজ্জামান ইয়াকুবের সাথে পালিয়ে যান প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা বেগম। আর এ কাজে সহায়তা করেন প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা বেগমের মা লায়লা তালুকদার, বড় বোন মেন্দি বেগম ও বোনের স্বামী শাহিন মিয়া। এ বিষয় নিয়ে প্রবাসী সালামত বিচার চাইলে বাংলাদেশে অবস্থানরত তার বোন ও বোনের স্বামীকে ইয়াকুব হত্যার হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে কুলাউড়া পৌর শহরের ঈদগা রোড়ে বাদে মনসুর হোল্ডিং নং-৩৯ একটি ভাড়া বাসায় ওই প্রবাসীর স্ত্রী ও মাকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ইয়াকুব অভিভাবক হয়ে অবস্থান করছেন বলে দাবী করেছেন দুবাই প্রবাসী সালামত মিয়া। মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের দেওয়া ভাড়াটিয়া নিবন্ধনের একটি নির্ধারিত ফরমে জরুরি যোগাযোগের স্থানে ইয়াকুবের নাম ঠিকানা ও নাম্বার দেওয়া রয়েছে বলেও তিনি দাবী করেন।

Facebook Comments

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে শেষ পর্যন্ত কপাল পুড়ল উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তুহিনুজ্জামান ইয়াকুবের। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সংসদের এক জরুরী বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ মার্চ) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন এর যৌথ স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বহিষ্কারের বিষয়টি সিলেট প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান রনি।

এর আগে প্রবাসী সালামত মিয়া আরব আমিরাতের কনসুলেটর জেনারেল অব বাংলাদেশের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো লিখিত অভিযোগে প্রেক্ষিতে ‘ ছাত্রলীগ নেতার হাত ধরে ঘর ছাড়লেন প্রবাসীর স্ত্রী’ শিরোনামে সিলেট প্রতিদিনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

লিখিত অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, ঘরের আসবাব পত্রসহ নগদ ৪৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ও কন্যা সন্তানসহ ছাত্রলীগ নেতা তুহিনুজ্জামান ইয়াকুব তার স্ত্রী রহিমা আক্তারকে নিয়ে পালিয়ে যান।

যদিও প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা আক্তার উল্টো দাবী করেছেন তার স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত ছিলো।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী সালামত মিয়ার সাথে ২০১৩ সালে ইসলামি শরিহা মোতাবেক একই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা আছকর আলীর মেয়ে রহিমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের এ দাম্পত্য জীবনে আসে এক কন্যা সন্তান। কিন্তু স্বামী সালামত মিয়া প্রবাস থাকার সুবাদে কুলাউড়া উপজেলার জয়পাশা গ্রামের ছয়ফুল মিয়ার ছেলে তুহিনুজ্জামান ইয়াকুবের সাথে স্ত্রী রহিমা আক্তার পরকীয়ায় লিপ্ত হন। এবিষয়টি জানাজানি হলে আব্দুল বাছিত, গনি মিয়ার উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। বরং ইয়াকুবের পক্ষ থেকে দুবাই প্রবাসী সালামত মিয়াকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

বিবাহের সময় স্ত্রীকে দেওয়া নগদ ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, দেন মোহর বাবদ ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, সালামত মিয়ার গ্রামের বাড়িতে জায়গা বিক্রি বাবদ ১৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, পূবালী ব্যাংক রবিরবাজার শাখায় বীমা বাবদ ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, জুড়ী ইউনিয়নের ফুলতলায় আগর গাছ ক্রয়বাবদ ৪ লক্ষ টাকা, ঘরের আসবাব পত্র, টিভি, ফ্রিজ, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদি বাবদ আরও ৭ লক্ষ টাকা ও কন্যা সন্তানকে নিয়ে তুহিনুজ্জামান ইয়াকুবের সাথে পালিয়ে যান প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা বেগম। আর এ কাজে সহায়তা করেন প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা বেগমের মা লায়লা তালুকদার, বড় বোন মেন্দি বেগম ও বোনের স্বামী শাহিন মিয়া। এ বিষয় নিয়ে প্রবাসী সালামত বিচার চাইলে বাংলাদেশে অবস্থানরত তার বোন ও বোনের স্বামীকে ইয়াকুব হত্যার হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে কুলাউড়া পৌর শহরের ঈদগা রোড়ে বাদে মনসুর হোল্ডিং নং-৩৯ একটি ভাড়া বাসায় ওই প্রবাসীর স্ত্রী ও মাকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ইয়াকুব অভিভাবক হয়ে অবস্থান করছেন বলে দাবী করেছেন দুবাই প্রবাসী সালামত মিয়া। মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের দেওয়া ভাড়াটিয়া নিবন্ধনের একটি নির্ধারিত ফরমে জরুরি যোগাযোগের স্থানে ইয়াকুবের নাম ঠিকানা ও নাম্বার দেওয়া রয়েছে বলেও তিনি দাবী করেন।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর