আজঃ ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - দুপুর ২:১৭

ভূমিকম্প থেকে বাঁচতে করণীয়

Published: সেপ্টে ১৫, ২০১৮ - ১২:৩৪ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প একটি আতঙ্কের নাম হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগর জীবনে ভূমিকম্প ভীত সত্যিই বেশি। ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিছু অঞ্চল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। কারণ ঢাকার বেশিরভাগ ভবনই ভূমিকম্প নিরোধক নয়। এমতাবস্থায় বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দুর্যোগ নেমে আসবে।

এছাড়া বিজ্ঞানীরা বহু দিন ধরে বলে আসছে যে, বড় ধরনের ভুমিকম্পের ঝুঁকির মুখে আছে বাংলাদেশ। কবে সেই ভূমিকম্প আঘাত হানবে তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও সতর্কতার বিকল্প নেই।

বড় ভূমিকম্প থেকে রক্ষার জন্য তাই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তাই ভূমিকম্পের সময় নিচের কৌশলগুলো মেনে চলতে পারেন-

ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভেতরে থাকলে করণীয়

১. ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সাথে সাথে মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে বসে পড়ুন, শক্ত-মজবুত কোনো আসবাবের নিচে ঢুকে যান এবং সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। মনে রাখবেন, আমাদের দেহের মধ্যে মাথা হলো সবচেয়ে নমনীয় অঙ্গ, আসবাবের আশ্রয় না পেলে হাত দিয়ে মাথা রক্ষা করুন। ধ্বংসস্তুপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মাথা ও গলা হাত দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এ পদ্ধতিকে ড্রপ, কভার এবং হোল্ড অন বলে।

২. নিরাপদ আসবাবপত্র না পেলে ঘরের ভেতরের দিকের দেয়ালের নিচে বসে আশ্রয় নিতে পারেন। বাইরের দিকের দেয়াল বিপজ্জনক।

৩. জানালার কাচ, আয়না, আলমারি, দেয়ালে ঝুলানো বস্তু থেকে দূরে থাকুন। এগুলো ভেঙে মাথায় পড়তে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।

৪. কম্পন না থামা পর্যন্ত যেকোনো শক্ত জিনিস ধরে রাখুন। যদি বিছানায় থাকেন সেখানেই শুয়ে থাকুন। মাথা ও গলা বালিশ দিয়ে ঢেকে রাখুন।

৫. বহুতল ভবনের ওপরের দিকে অবস্থান করলে ঘরের ভেতরে থাকাই ভাল। কারণ, নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পূর্বেই ভূমিকম্পের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া নামতে নামতেও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

৬. ভূকম্পন থেমে গেলে বের হয়ে আসুন।

৭. নিচে নামতে চাইলে কোনোভাবেই লিফট ব্যবহার করবেন না। সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নামুন। নামার সময় মোবাইল ফোন আর ঘরের চাবিটা সম্ভব হলে হাতে নিয়ে নেবেন।

৮. বিছানায় শোয়া অবস্থায় থাকলে বেশি দূরে না গিয়ে মজবুত বিছানা হলে তার নিচেই আশ্রয় নিন।

বাড়ির বাইরে থাকলে করণীয়

১. খোলা জায়গা খুঁজে আশ্রয় নিন। বহুতল ভবনের প্রান্তভাগের নিচে কোনোভাবেই দাঁড়াবেন না। উপর থেকে খণ্ড পড়ে আহত হতে পারেন।

২. লাইট পোস্ট, বিল্ডিং, ভারি গাছ অথবা বৈদ্যুতিক তার ও পোলের নিচে দাঁড়াবেন না।

৩. রাস্তায় ছোটাছুটি করবেন না। মাথার উপর কাচের টুকরা, ল্যাম্পপোস্ট অথবা বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

চলমান গাড়িতে থাকলে করণীয়

১. তৎক্ষণাৎ গাড়ি থামিয়ে খোলা জায়গায় পার্ক করে গাড়ির ভেতরেই আশ্রয় নিন।

২. কখনই ব্রিজ, ফ্লাইওভারে থামবেন না।

৩. বহুতল ভবন কিংবা বিপজ্জনক স্থাপনা থেকে দূরে গাড়ি থামান।

৪. ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই অপেক্ষা করুন।

ভূমিকম্পের পরে করণীয়

১. ভূমিকম্প শেষ হলেও আরও কম্পনের জন্য প্রস্তুত থাকুন। প্রায়ই পরপর কয়েকবার কম্পন হয়। এই আফটার শকের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। এবারের আফটার শক এক ঘণ্টার মধ্যেই দুই বার হয়ে যায়। কখনও এক মাসের মধ্যেও হতে পারে।

২. যথাসম্ভব শান্ত থাকুন। কম্পন থেমে গেলেও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, তারপর বের হন। ওপর থেকে ঝুলন্ত জিনিসপত্র কিছুক্ষণ পরেও পড়তে পারে।

৩. নিজে আহত কিনা পরীক্ষা করুন, অপরকে সাহায্য করুন। বাড়িঘরের ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করুন। নিরাপদ না হলে সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যান।

৪. গ্যাসের সামান্যতম গন্ধ পেলে জানালা খুলে বের হয়ে যান এবং দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করুন।

৫. কোথাও বৈদ্যুতিক স্পার্ক চোখে পড়লে মেইন সুইচ বা ফিউজ বন্ধ করে দিন। ক্ষতিগ্রস্ত বিল্ডিং থেকে সাবধান থাকুন। অগ্নিকাণ্ড হতে পারে।

ধ্বংসস্তুপে আটকে পড়লে করণীয়

১. আগুন জ্বালাবেন না। বাড়িটিতে গ্যাসের লাইন লিক থাকলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

২. ধুলোবালির মধ্যে পড়লে হাত অথবা রুমাল দিয়ে নাক মুখ ঢেকে নিন।

৩. ধীরে নড়াচড়া করুন এবং উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকুন।

৪. উদ্ধার কাজের সময় নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে পাইপ অথবা দেয়ালে আস্তে আস্তে টোকা দিয়ে শব্দ করুন। চিৎকার না করাটাই শ্রেয়, এতে প্রচুর পরিমাণে ধূলা নিঃশ্বাসের সাথে ঢুকে যেতে পারে।

মনে রাখবেন, কোনো অবস্থায় মাথা গরম করা বা অস্থির হওয়া যাবেনা। তিনটি জিনিস মনে রাখবেন। ঝুঁকে পড়া, ঢেকে রাখা ও ধরে রাখা।

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প একটি আতঙ্কের নাম হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগর জীবনে ভূমিকম্প ভীত সত্যিই বেশি। ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিছু অঞ্চল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। কারণ ঢাকার বেশিরভাগ ভবনই ভূমিকম্প নিরোধক নয়। এমতাবস্থায় বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দুর্যোগ নেমে আসবে।

এছাড়া বিজ্ঞানীরা বহু দিন ধরে বলে আসছে যে, বড় ধরনের ভুমিকম্পের ঝুঁকির মুখে আছে বাংলাদেশ। কবে সেই ভূমিকম্প আঘাত হানবে তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও সতর্কতার বিকল্প নেই।

বড় ভূমিকম্প থেকে রক্ষার জন্য তাই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তাই ভূমিকম্পের সময় নিচের কৌশলগুলো মেনে চলতে পারেন-

ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভেতরে থাকলে করণীয়

১. ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সাথে সাথে মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে বসে পড়ুন, শক্ত-মজবুত কোনো আসবাবের নিচে ঢুকে যান এবং সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। মনে রাখবেন, আমাদের দেহের মধ্যে মাথা হলো সবচেয়ে নমনীয় অঙ্গ, আসবাবের আশ্রয় না পেলে হাত দিয়ে মাথা রক্ষা করুন। ধ্বংসস্তুপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মাথা ও গলা হাত দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এ পদ্ধতিকে ড্রপ, কভার এবং হোল্ড অন বলে।

২. নিরাপদ আসবাবপত্র না পেলে ঘরের ভেতরের দিকের দেয়ালের নিচে বসে আশ্রয় নিতে পারেন। বাইরের দিকের দেয়াল বিপজ্জনক।

৩. জানালার কাচ, আয়না, আলমারি, দেয়ালে ঝুলানো বস্তু থেকে দূরে থাকুন। এগুলো ভেঙে মাথায় পড়তে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।

৪. কম্পন না থামা পর্যন্ত যেকোনো শক্ত জিনিস ধরে রাখুন। যদি বিছানায় থাকেন সেখানেই শুয়ে থাকুন। মাথা ও গলা বালিশ দিয়ে ঢেকে রাখুন।

৫. বহুতল ভবনের ওপরের দিকে অবস্থান করলে ঘরের ভেতরে থাকাই ভাল। কারণ, নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পূর্বেই ভূমিকম্পের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া নামতে নামতেও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

৬. ভূকম্পন থেমে গেলে বের হয়ে আসুন।

৭. নিচে নামতে চাইলে কোনোভাবেই লিফট ব্যবহার করবেন না। সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নামুন। নামার সময় মোবাইল ফোন আর ঘরের চাবিটা সম্ভব হলে হাতে নিয়ে নেবেন।

৮. বিছানায় শোয়া অবস্থায় থাকলে বেশি দূরে না গিয়ে মজবুত বিছানা হলে তার নিচেই আশ্রয় নিন।

বাড়ির বাইরে থাকলে করণীয়

১. খোলা জায়গা খুঁজে আশ্রয় নিন। বহুতল ভবনের প্রান্তভাগের নিচে কোনোভাবেই দাঁড়াবেন না। উপর থেকে খণ্ড পড়ে আহত হতে পারেন।

২. লাইট পোস্ট, বিল্ডিং, ভারি গাছ অথবা বৈদ্যুতিক তার ও পোলের নিচে দাঁড়াবেন না।

৩. রাস্তায় ছোটাছুটি করবেন না। মাথার উপর কাচের টুকরা, ল্যাম্পপোস্ট অথবা বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

চলমান গাড়িতে থাকলে করণীয়

১. তৎক্ষণাৎ গাড়ি থামিয়ে খোলা জায়গায় পার্ক করে গাড়ির ভেতরেই আশ্রয় নিন।

২. কখনই ব্রিজ, ফ্লাইওভারে থামবেন না।

৩. বহুতল ভবন কিংবা বিপজ্জনক স্থাপনা থেকে দূরে গাড়ি থামান।

৪. ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই অপেক্ষা করুন।

ভূমিকম্পের পরে করণীয়

১. ভূমিকম্প শেষ হলেও আরও কম্পনের জন্য প্রস্তুত থাকুন। প্রায়ই পরপর কয়েকবার কম্পন হয়। এই আফটার শকের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। এবারের আফটার শক এক ঘণ্টার মধ্যেই দুই বার হয়ে যায়। কখনও এক মাসের মধ্যেও হতে পারে।

২. যথাসম্ভব শান্ত থাকুন। কম্পন থেমে গেলেও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, তারপর বের হন। ওপর থেকে ঝুলন্ত জিনিসপত্র কিছুক্ষণ পরেও পড়তে পারে।

৩. নিজে আহত কিনা পরীক্ষা করুন, অপরকে সাহায্য করুন। বাড়িঘরের ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করুন। নিরাপদ না হলে সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যান।

৪. গ্যাসের সামান্যতম গন্ধ পেলে জানালা খুলে বের হয়ে যান এবং দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করুন।

৫. কোথাও বৈদ্যুতিক স্পার্ক চোখে পড়লে মেইন সুইচ বা ফিউজ বন্ধ করে দিন। ক্ষতিগ্রস্ত বিল্ডিং থেকে সাবধান থাকুন। অগ্নিকাণ্ড হতে পারে।

ধ্বংসস্তুপে আটকে পড়লে করণীয়

১. আগুন জ্বালাবেন না। বাড়িটিতে গ্যাসের লাইন লিক থাকলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

২. ধুলোবালির মধ্যে পড়লে হাত অথবা রুমাল দিয়ে নাক মুখ ঢেকে নিন।

৩. ধীরে নড়াচড়া করুন এবং উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকুন।

৪. উদ্ধার কাজের সময় নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে পাইপ অথবা দেয়ালে আস্তে আস্তে টোকা দিয়ে শব্দ করুন। চিৎকার না করাটাই শ্রেয়, এতে প্রচুর পরিমাণে ধূলা নিঃশ্বাসের সাথে ঢুকে যেতে পারে।

মনে রাখবেন, কোনো অবস্থায় মাথা গরম করা বা অস্থির হওয়া যাবেনা। তিনটি জিনিস মনে রাখবেন। ঝুঁকে পড়া, ঢেকে রাখা ও ধরে রাখা।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর