আজঃ ১লা কার্তিক ১৪২৫ - ১৬ই অক্টোবর ২০১৮ - দুপুর ১২:৫৯

বাংলাদেশ হারলেও হারেননি ‘বীর’ মুশফিক

Published: মার্চ ১৪, ২০১৮ - ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

ক্রীড়া ডেস্ক :: ভারত ১৭৬ করার পর পাশের সিটে বসা ভারতীয় এক সাংবাদিক বললেন, ‘নাহ, এ ম্যাচ তোমরা জিততে পারবে না। স্কোরটা বেশি হয়ে গেছে।’ বললাম, ‘এটা তো ব্যাটিং উইকেট।’ তিনি বললেন, ‘১৬০ রান হলে পারতে।’ হলোও তাই। ভারতের দারুণ আটসাট বোলিংয়ে বাংলাদেশকে থামতে হয়েছে ১৫৯ রানে, ৬ উইকেটে। ১৭ রানে ম্যাচ জিতে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারত। এ হারে অবশ্য ফাইনালের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। ১৬ মার্চ শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে ১৮ তারিখের ফাইনালে ভারতের সঙ্গী হবে বাংলাদেশ।

মুশফিক, আহা! আজও ব্যাট করলেন বীরের মতো। কিন্তু একা কী আর করবেন! সতীর্থরা যে একে একে রণেভঙ্গ দিয়ে ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। ব্যাটিং উইকেটে ব্যাটসম্যানদের এভাবে ব্যর্থতার নিশ্চিয়ই মানে খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। ৫৫ বলে ৭২ রান করে অপরাজিত থাকেন মুশফিক অনেক আফসোস নিয়ে।

আগের ম্যাচেও এই ৭২ রানেই অপরাজিত ছিলেন তিনি। কিন্তু সেদিন ইনিংস শেষে আনন্দে হয়েছিলেন আত্মহারা। আর আজ? অসাধারণ ইনিংস খেলার পরও মাঠ ছাড়েন মাথা নিচু করে। এবং তা অন্যদের ব্যর্থতার কারণে।

ভারতের বৈচিত্রময় বোলিং। ভালো মানের পেসার। বিশ্বমানের স্পিনার। যতোই সহজ উইকেট হোক, ১৭৭ রান তাই অত্যন্ত কঠিন টার্গেট বাংলাদেশের জন্য। আগের ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে ওঠেছিল ৭৪ রান। আজও তেমন একটা শুরু দরকার ছিল। কিন্তু হলো না। অফ স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরের সুন্দর বোলিংয়ে বেহাল অবস্থা। একে একে ফিরতে হলো লিটন কুমার দাস (৭ বলে ৭), সৌম্য সরকারকে ( ৩ বলে ১)। শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে মেরুদন্ড যেন মচকে গেল বাংলাদেশের।

দুর্দান্ত বোলিংয়ের মধ্যেও তামিম খেলছিলেন তামিমের মতো। কিন্তু ১৯ বলে (৪টি চার, ১ ছ্ক্কা) ২৭ রান রার পর সুন্দরের যে বলে তিনি বোল্ড হন তাতে করার কিছুই ছিল না। ৫.৪ ওভার শেষে ৩ উইকেটে রান ৪০। ব্যস, এখানেই কার্যত সম্ভাবনা শেষ বাংলাদেশের।

রিয়াদ-মুশফিক মাঝে মধ্যে বিরাট জুটি গড়ে ফেলেন কঠিন অবস্থার মধ্যেও। আজ যদি তেমন কিছু হয়! নাহ, জুটিটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিলেন না আরেক স্পিনার চাহাল। ৮ বলে ১১ রানে করে রিয়াদ ফেরেন মাথাটা নিচু করে, ভাঙা হৃদয়ে।

ভাঙনের মধ্যেও গত ম্যাচের মহানায়ক মুশফিক আজও খেলছিলেন বীরের মতো। একেবারে ভয়ডরহীন। কেন যেন টানা ব্যর্থ হচ্ছেন প্রতিভাধর ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান। দলে টিকে থাকতে হলে এ ম্যাচে ব্যর্থ হলে চলবে না। কঠিন পরিস্থিতি। তার জন্য কাজটাও কঠিন।

মুশফিক রান তুলছিলেন তরতর করে। তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন সাব্বির। ১৩ ওভারে ১০০ রান পূরণ করে বাংলাদেশ। হাতে উইকেট তেমন নেই। বাকি ৭ ওভারে ৭৭ রান হবে তো? যেন আকাশ কুসুম কল্পনা। অনেক উইকেট থাকলে হয়তোবা কিছুটা আশা করলেও করা যেত। কিন্তু এ জুটির পর ব্যাট করার মতো আছেন কেবল মিরাজ। কিন্তু তিনি বড় শট খেলতে পারেন না।

১৫ ওভার শেষে ভারত ছিল ১১৭ রানে। বাংলাদেশ ১১৬। শেষ ৫ ওভারে ভারত তুলেছিল ৫৯। কিন্তু তাদের হাতে উইকেট ছিল। মুশফিক- সাব্বির যদি এটা পারেন তাহলে ব্যাপারটা হবে অভূতপূর্ব। কিন্তু ভারতের আটসাট বোলিংয়ে সেভাবে রানই তুলতে পারছিলেন না তারা। ২৩ বলে ২৭ রান করার পর সাব্বির আউট হয়ে গেলে সব সম্ভাবনা শেষ। বাংলাদেশ থামে ১৫৯ রানে ( ৬ উইকেটে)। ৫৫ বলে অপরাজিত থেকে আবারও প্রমাণ করেন, তিনিই দেশের সেরা ব্যাটসম্যান। যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি লড়তে জানেন বীরের মতো।ভারতের পক্ষে সুন্দর তিন উইকেট নেন মাত্র ২২ রান দিয়ে।

এর আগে বাংলাদেশের বোলিং ব্যর্থতার সুযোগে ৩ উইকেটে ১৭৬ রান তুলে ভারত(রোহিত শর্মা ৬১ বলে ৮৯)। ৬ বোলার মিলে নিতে পেরেছেন মাত্র ২ উইকেট! বাকিটা রান আউট।

তাসকিনের পরিবের্তে একাদশে জায়গা পাওয়া তরুণ পেসার আবু হায়দার রনি প্রথম ওভারটা অবশ্য দুর্দান্ত করেছিলেন। রনিকে খেলতেই পারেননি রোহিত শর্মা। এক রান আসে ওয়াইড থেকে, রেহিত নিজে নেন এক রান, পরাজিত হন বেশ কয়েকবার।কিন্তু স্পিনার নাজমুল হাসান অপুর দ্বিতীয় ওভার থেকে পুষিয়ে নেয় ভারত। ৯ রান দেন অপু। তৃতীয় ওভারে রুবেল দেন ৭ রান।

চতুর্থ ওভারের প্রথম ৫টি বল যথেষ্ঠ টাইট করেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু শেষ বলে ছক্কা হাঁকান শেখর ধাওয়ান।৯ রান দেন কাটার বয়।চার ওভারে শেষে ভারতের রান ২৭। পঞ্চম ওভার করতে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মানে প্রথম পাঁচ ওভার পাঁচ বোলার ব্যবহার করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছিলো না। রোহিত ধাওয়ান জুটি ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৪৯ রান তুলে নেন ধাওয়ান ও রোহিত। ওপেনিং জুটি ভাঙতেই পারছিলো না বাংলাদেশ। ৫০ ছাড়িয়ে ৬০, ৭০ পেরিয়ে বড় পার্টনারশিপের দিকে যেতে থাকে ভারতীয় ওপেনিং জুটি। অবশেষে দশম ওভারে এসে উইকেটের মুখ দেখে বাংলাদেশ। ২৭ বলে ৩৫ করে রুবেলের বলে বোল্ড হন শেখর ধাওয়ান। ততক্ষণে ভারত তুলে ফেলেছে ৭০ রান।

রোহিত শর্মা যেদিন খেলেন সেদিন খেলেনই।প্রথম দিকে তাকে আটকানো না গেলে মুশকিল। ৩ ছ্ক্কা ও ২ চারে ৪২ বলে অর্ধশত তুলে নেন রোহিত।ভারত ১০০ রান তুলে নেয় ১৩.৩ ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে।

রোহিত- রায়না জুটি দ্রুত রান তুলতে থাকেন।১৫ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ১১৭, মাত্র এক উইকেট হারিয়ে। নিয়মিত বোলাররা তেমন কিছুই করতে পারলেন না। তাই ১৬তম ওভার নিজেই তুলে নেন অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু কাজ হলো না।

শেষ পাঁচ ওভারে চার ছক্কার ছ্ড়াছড়ি। লাফ দিয়ে রান বাড়তে থাকে। বাংলাদেশকে হতাশ করে শেষ ৫ ওভারে ভারত তুলে নেয় ৫৯ রান। আর ভারতের স্কোর থামে ১৭৬ রানে। রোহিত করেন ৬১ বলে ৮৯ রান। সুরেশ রায়না করেন ৩০ বলে ৪৭।

২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন রুবেল। রনি দিয়েছেন ৪ ওভারে ৪০। মোস্তাফিজ ৩৮ রান। স্পিনার অপু ৪ ওভারে দিয়েছেন ২৭ রান। ৩ ওভারে ৩১ রান দেন মিরাজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ১৭ রানে জয়ী ভারত।

ভারত ইনিংস: ১৭৬/৩ (২০ ওভার)

(রোহিত শর্মা ৮৯, শিখর ধাওয়ান ৩৫, সুরেশ রায়না ৪৭, দিনেশ কার্তিক ২*; আবু হায়দার রনি ০/৪৩, নাজমুল ইসলাম অপু ০/২৭, রুবেল হোসেন ২/২৭, মোস্তাফিজুর রহমান ০/৩৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ০/৩১, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/৯)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৫৯/৬ (২০ ওভার)

(তামিম ইকবাল ২৭, লিটন দাস ৭, সৌম্য সরকার ১, মুশফিকুর রহিম ৭২*, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১১, সাব্বির রহমান ২৭, মেহেদী হাসান মিরাজ ৭, আবু হায়দার রনি ০*; মোহাম্মদ সিরাজ ১/৫০, ওয়াশিংটন সুন্দর ৩/২২, শারদুল ঠাকুর ১/৩৭, যুজবেন্দ্র চাহাল ১/২১, বিজয় শঙ্কর ০/২৮)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: রোহিত শর্মা (ভারত)।

Facebook Comments

ক্রীড়া ডেস্ক :: ভারত ১৭৬ করার পর পাশের সিটে বসা ভারতীয় এক সাংবাদিক বললেন, ‘নাহ, এ ম্যাচ তোমরা জিততে পারবে না। স্কোরটা বেশি হয়ে গেছে।’ বললাম, ‘এটা তো ব্যাটিং উইকেট।’ তিনি বললেন, ‘১৬০ রান হলে পারতে।’ হলোও তাই। ভারতের দারুণ আটসাট বোলিংয়ে বাংলাদেশকে থামতে হয়েছে ১৫৯ রানে, ৬ উইকেটে। ১৭ রানে ম্যাচ জিতে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারত। এ হারে অবশ্য ফাইনালের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। ১৬ মার্চ শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে ১৮ তারিখের ফাইনালে ভারতের সঙ্গী হবে বাংলাদেশ।

মুশফিক, আহা! আজও ব্যাট করলেন বীরের মতো। কিন্তু একা কী আর করবেন! সতীর্থরা যে একে একে রণেভঙ্গ দিয়ে ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। ব্যাটিং উইকেটে ব্যাটসম্যানদের এভাবে ব্যর্থতার নিশ্চিয়ই মানে খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। ৫৫ বলে ৭২ রান করে অপরাজিত থাকেন মুশফিক অনেক আফসোস নিয়ে।

আগের ম্যাচেও এই ৭২ রানেই অপরাজিত ছিলেন তিনি। কিন্তু সেদিন ইনিংস শেষে আনন্দে হয়েছিলেন আত্মহারা। আর আজ? অসাধারণ ইনিংস খেলার পরও মাঠ ছাড়েন মাথা নিচু করে। এবং তা অন্যদের ব্যর্থতার কারণে।

ভারতের বৈচিত্রময় বোলিং। ভালো মানের পেসার। বিশ্বমানের স্পিনার। যতোই সহজ উইকেট হোক, ১৭৭ রান তাই অত্যন্ত কঠিন টার্গেট বাংলাদেশের জন্য। আগের ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে ওঠেছিল ৭৪ রান। আজও তেমন একটা শুরু দরকার ছিল। কিন্তু হলো না। অফ স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরের সুন্দর বোলিংয়ে বেহাল অবস্থা। একে একে ফিরতে হলো লিটন কুমার দাস (৭ বলে ৭), সৌম্য সরকারকে ( ৩ বলে ১)। শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে মেরুদন্ড যেন মচকে গেল বাংলাদেশের।

দুর্দান্ত বোলিংয়ের মধ্যেও তামিম খেলছিলেন তামিমের মতো। কিন্তু ১৯ বলে (৪টি চার, ১ ছ্ক্কা) ২৭ রান রার পর সুন্দরের যে বলে তিনি বোল্ড হন তাতে করার কিছুই ছিল না। ৫.৪ ওভার শেষে ৩ উইকেটে রান ৪০। ব্যস, এখানেই কার্যত সম্ভাবনা শেষ বাংলাদেশের।

রিয়াদ-মুশফিক মাঝে মধ্যে বিরাট জুটি গড়ে ফেলেন কঠিন অবস্থার মধ্যেও। আজ যদি তেমন কিছু হয়! নাহ, জুটিটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিলেন না আরেক স্পিনার চাহাল। ৮ বলে ১১ রানে করে রিয়াদ ফেরেন মাথাটা নিচু করে, ভাঙা হৃদয়ে।

ভাঙনের মধ্যেও গত ম্যাচের মহানায়ক মুশফিক আজও খেলছিলেন বীরের মতো। একেবারে ভয়ডরহীন। কেন যেন টানা ব্যর্থ হচ্ছেন প্রতিভাধর ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান। দলে টিকে থাকতে হলে এ ম্যাচে ব্যর্থ হলে চলবে না। কঠিন পরিস্থিতি। তার জন্য কাজটাও কঠিন।

মুশফিক রান তুলছিলেন তরতর করে। তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন সাব্বির। ১৩ ওভারে ১০০ রান পূরণ করে বাংলাদেশ। হাতে উইকেট তেমন নেই। বাকি ৭ ওভারে ৭৭ রান হবে তো? যেন আকাশ কুসুম কল্পনা। অনেক উইকেট থাকলে হয়তোবা কিছুটা আশা করলেও করা যেত। কিন্তু এ জুটির পর ব্যাট করার মতো আছেন কেবল মিরাজ। কিন্তু তিনি বড় শট খেলতে পারেন না।

১৫ ওভার শেষে ভারত ছিল ১১৭ রানে। বাংলাদেশ ১১৬। শেষ ৫ ওভারে ভারত তুলেছিল ৫৯। কিন্তু তাদের হাতে উইকেট ছিল। মুশফিক- সাব্বির যদি এটা পারেন তাহলে ব্যাপারটা হবে অভূতপূর্ব। কিন্তু ভারতের আটসাট বোলিংয়ে সেভাবে রানই তুলতে পারছিলেন না তারা। ২৩ বলে ২৭ রান করার পর সাব্বির আউট হয়ে গেলে সব সম্ভাবনা শেষ। বাংলাদেশ থামে ১৫৯ রানে ( ৬ উইকেটে)। ৫৫ বলে অপরাজিত থেকে আবারও প্রমাণ করেন, তিনিই দেশের সেরা ব্যাটসম্যান। যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি লড়তে জানেন বীরের মতো।ভারতের পক্ষে সুন্দর তিন উইকেট নেন মাত্র ২২ রান দিয়ে।

এর আগে বাংলাদেশের বোলিং ব্যর্থতার সুযোগে ৩ উইকেটে ১৭৬ রান তুলে ভারত(রোহিত শর্মা ৬১ বলে ৮৯)। ৬ বোলার মিলে নিতে পেরেছেন মাত্র ২ উইকেট! বাকিটা রান আউট।

তাসকিনের পরিবের্তে একাদশে জায়গা পাওয়া তরুণ পেসার আবু হায়দার রনি প্রথম ওভারটা অবশ্য দুর্দান্ত করেছিলেন। রনিকে খেলতেই পারেননি রোহিত শর্মা। এক রান আসে ওয়াইড থেকে, রেহিত নিজে নেন এক রান, পরাজিত হন বেশ কয়েকবার।কিন্তু স্পিনার নাজমুল হাসান অপুর দ্বিতীয় ওভার থেকে পুষিয়ে নেয় ভারত। ৯ রান দেন অপু। তৃতীয় ওভারে রুবেল দেন ৭ রান।

চতুর্থ ওভারের প্রথম ৫টি বল যথেষ্ঠ টাইট করেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু শেষ বলে ছক্কা হাঁকান শেখর ধাওয়ান।৯ রান দেন কাটার বয়।চার ওভারে শেষে ভারতের রান ২৭। পঞ্চম ওভার করতে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মানে প্রথম পাঁচ ওভার পাঁচ বোলার ব্যবহার করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছিলো না। রোহিত ধাওয়ান জুটি ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৪৯ রান তুলে নেন ধাওয়ান ও রোহিত। ওপেনিং জুটি ভাঙতেই পারছিলো না বাংলাদেশ। ৫০ ছাড়িয়ে ৬০, ৭০ পেরিয়ে বড় পার্টনারশিপের দিকে যেতে থাকে ভারতীয় ওপেনিং জুটি। অবশেষে দশম ওভারে এসে উইকেটের মুখ দেখে বাংলাদেশ। ২৭ বলে ৩৫ করে রুবেলের বলে বোল্ড হন শেখর ধাওয়ান। ততক্ষণে ভারত তুলে ফেলেছে ৭০ রান।

রোহিত শর্মা যেদিন খেলেন সেদিন খেলেনই।প্রথম দিকে তাকে আটকানো না গেলে মুশকিল। ৩ ছ্ক্কা ও ২ চারে ৪২ বলে অর্ধশত তুলে নেন রোহিত।ভারত ১০০ রান তুলে নেয় ১৩.৩ ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে।

রোহিত- রায়না জুটি দ্রুত রান তুলতে থাকেন।১৫ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ১১৭, মাত্র এক উইকেট হারিয়ে। নিয়মিত বোলাররা তেমন কিছুই করতে পারলেন না। তাই ১৬তম ওভার নিজেই তুলে নেন অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু কাজ হলো না।

শেষ পাঁচ ওভারে চার ছক্কার ছ্ড়াছড়ি। লাফ দিয়ে রান বাড়তে থাকে। বাংলাদেশকে হতাশ করে শেষ ৫ ওভারে ভারত তুলে নেয় ৫৯ রান। আর ভারতের স্কোর থামে ১৭৬ রানে। রোহিত করেন ৬১ বলে ৮৯ রান। সুরেশ রায়না করেন ৩০ বলে ৪৭।

২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন রুবেল। রনি দিয়েছেন ৪ ওভারে ৪০। মোস্তাফিজ ৩৮ রান। স্পিনার অপু ৪ ওভারে দিয়েছেন ২৭ রান। ৩ ওভারে ৩১ রান দেন মিরাজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ১৭ রানে জয়ী ভারত।

ভারত ইনিংস: ১৭৬/৩ (২০ ওভার)

(রোহিত শর্মা ৮৯, শিখর ধাওয়ান ৩৫, সুরেশ রায়না ৪৭, দিনেশ কার্তিক ২*; আবু হায়দার রনি ০/৪৩, নাজমুল ইসলাম অপু ০/২৭, রুবেল হোসেন ২/২৭, মোস্তাফিজুর রহমান ০/৩৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ০/৩১, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/৯)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৫৯/৬ (২০ ওভার)

(তামিম ইকবাল ২৭, লিটন দাস ৭, সৌম্য সরকার ১, মুশফিকুর রহিম ৭২*, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১১, সাব্বির রহমান ২৭, মেহেদী হাসান মিরাজ ৭, আবু হায়দার রনি ০*; মোহাম্মদ সিরাজ ১/৫০, ওয়াশিংটন সুন্দর ৩/২২, শারদুল ঠাকুর ১/৩৭, যুজবেন্দ্র চাহাল ১/২১, বিজয় শঙ্কর ০/২৮)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: রোহিত শর্মা (ভারত)।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর