আজঃ ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - রাত ৩:৪৪

‘নেপালের দুঘর্টনা খবর পেয়েই দেশে চলে আসি, কারণ দেশে থাকা প্রয়োজন’

Published: মার্চ ১৪, ২০১৮ - ১০:২১ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক :: নেপালের কাঠমান্ডুর বিমান দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার সবকিছু করা হবে। ইতিমধ্যে সব রকমের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় করণীয় নির্ধারণে এই বৈঠক ডাকা হয়।

বক্তব্যের শুরুতে নেপালের বিমান দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি তার সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন। কারণ তিনি মনে করেছেন এই সময়ে তার দেশে থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘এই ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে অনেক দিন পরে ঘটেছে। বহু বছর আমাদের দেশের কোনো বিমান এ ধরনের দুর্ঘটনায় পড়েনি।’

বিমান দুর্ঘটনায় দেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার এই শোক পালিত হবে। এছাড়া শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা করা হবে।

বিমান দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নেপালে মেডিকেল টিম পাঠানো হচ্ছে। মৃতদেহের ডিএনএ সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল যাবে। কারণ ওই বিমানে আগুন লেগে পুরোটাই পুড়ে গেছে। এতটাই পুড়ে গেছে যে মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা সম্ভব নয়। এগুলো শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ সংগ্রহ করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিহত ও আহতদের একজন করে স্বজন নেপালে পাঠানো হয়েছে। এখান থেকে আমাদের কর্মকর্তারাও গেছেন। আমাদের বিমানমন্ত্রী ইতিমধ্যে নেপালে গেছেন। তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিমান দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও যে যেখানে নিহত হয়েছে সেখানকার এমপি এবং নেতাদের তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সব রকমের সহযোগিতা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় পরিকল্পনা কমিশনের দুই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। টিআরআই এর একজন কর্মকর্তা স্ত্রী সন্তানসহ মারা গেছেন। নেপালের কিছু মেডিকেল শিক্ষার্থীও নিহত হয়েছেন। তারা আমাদের দেশে লেখাপড়া করতেন। ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েই তারা ফিরে যাচ্ছিলেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তারা এদেশে পড়তে এসেছিলেন। কিন্তু তাদের আর মায়ের কোলে ফিরে যাওয়া হয়নি। অর্থাৎ ফুল ফুটতে না ফুটতেই ঝরে গেছে। এ ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন। অনেকের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, ওখান থেকে নিয়ে আসাও সম্ভব নয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দর অত্যন্ত দুর্ঘটনাপ্রবণ। এখানে বিভিন্ন দেশের ৭০টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

সূচনা বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী নেপালের বিমান দুর্ঘটনায় করণীয় বিষয়ে নেতাদের পরামর্শ শোনেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠকে দল ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক :: নেপালের কাঠমান্ডুর বিমান দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার সবকিছু করা হবে। ইতিমধ্যে সব রকমের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় করণীয় নির্ধারণে এই বৈঠক ডাকা হয়।

বক্তব্যের শুরুতে নেপালের বিমান দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি তার সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন। কারণ তিনি মনে করেছেন এই সময়ে তার দেশে থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘এই ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে অনেক দিন পরে ঘটেছে। বহু বছর আমাদের দেশের কোনো বিমান এ ধরনের দুর্ঘটনায় পড়েনি।’

বিমান দুর্ঘটনায় দেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার এই শোক পালিত হবে। এছাড়া শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা করা হবে।

বিমান দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নেপালে মেডিকেল টিম পাঠানো হচ্ছে। মৃতদেহের ডিএনএ সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল যাবে। কারণ ওই বিমানে আগুন লেগে পুরোটাই পুড়ে গেছে। এতটাই পুড়ে গেছে যে মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা সম্ভব নয়। এগুলো শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ সংগ্রহ করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিহত ও আহতদের একজন করে স্বজন নেপালে পাঠানো হয়েছে। এখান থেকে আমাদের কর্মকর্তারাও গেছেন। আমাদের বিমানমন্ত্রী ইতিমধ্যে নেপালে গেছেন। তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিমান দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও যে যেখানে নিহত হয়েছে সেখানকার এমপি এবং নেতাদের তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সব রকমের সহযোগিতা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় পরিকল্পনা কমিশনের দুই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। টিআরআই এর একজন কর্মকর্তা স্ত্রী সন্তানসহ মারা গেছেন। নেপালের কিছু মেডিকেল শিক্ষার্থীও নিহত হয়েছেন। তারা আমাদের দেশে লেখাপড়া করতেন। ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েই তারা ফিরে যাচ্ছিলেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তারা এদেশে পড়তে এসেছিলেন। কিন্তু তাদের আর মায়ের কোলে ফিরে যাওয়া হয়নি। অর্থাৎ ফুল ফুটতে না ফুটতেই ঝরে গেছে। এ ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন। অনেকের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, ওখান থেকে নিয়ে আসাও সম্ভব নয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দর অত্যন্ত দুর্ঘটনাপ্রবণ। এখানে বিভিন্ন দেশের ৭০টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

সূচনা বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী নেপালের বিমান দুর্ঘটনায় করণীয় বিষয়ে নেতাদের পরামর্শ শোনেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠকে দল ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর