আজঃ ৩০শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ - ১৪ই ডিসেম্বর ২০১৮ - রাত ১০:০৭

দুবাইয়ের ট্যাক্সি চালকদের ক্রিকেট আবেগ

Published: সেপ্টে ২২, ২০১৮ - ৭:৪০ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন স্পোর্টস ডেস্ক :: বাংলাদেশ-ভারতের ম্যাচ শেষে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম নীরব ও নিস্তব্ধ। সব কাজ শেষ, জিনিসপত্র গুছিয়ে হোটেলে ফিরবো। রাত তখন একটা ছুঁই ছুঁই। এ শহরটা রাতেই বেশি সুন্দর। সোডিয়াম বাতির আলোয় গাড়ির ছুটে চলা ছাড়া আর কোনো শব্দ কানে আসে না। অদ্ভুত মায়াবী একটা সৌন্দর্য।

অনেকক্ষণ চেষ্টার পর একটা ট্যাক্সি পাওয়া গেলো। চালক ইমাম হোসেন বাংলাদেশি। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের লোক তিনি। ৮-৯ বছর ধরে আছেন দুবাই শহরে। এশিয়া কাপ ক্রিকেট কাভার করতে এসেছি শুনেই গল্প জমিয়ে তুলেন ইমাম।

জানালেন বেশি উপার্জনের জন্যই নাইট ডিউটি বেছে নিয়েছেন। দিনের বেলায় দুবাইয়ের অস্বাভাবিক গরমও একটা কারণ। জানালেন আজ (শুক্রবার) তার অন্তত ৩৫-৪০ জন সহকর্মী খেলা দেখতে মাঠে এসেছিলেন। তারা সবাই দুবাই-ট্যাক্সিতে কর্মরত। এই কোম্পানিতে কোনো অফ ডে নেই। প্রতিদিন গাড়ি চালাতে হয়। হয় রাতে না হয় দিনে।

একদিন না চালালে কোম্পানিকে জরিমানা দিতে হয়। পরবর্তী শিডিউল পেতেও সমস্যায় পড়তে হয়। শুক্রবার বাংলাদেশি চালকদের কাছে ছিলো এক ধরণের ঈদ উৎসবের মতো। একে তো ছুটির দিন, দ্বিতীয় বাংলাদেশের ম্যাচ। কাটায় কাটায় মিলে যাওয়ায় জরিমানা নিয়ে ভাবেননি তারা। কড়ায়-গণ্ডা দিয়েই দেশের খেলা দেখতে মাঠে গিয়েছিলেন সবাই।

অবশ্য এক তরফা ম্যাচে সাকিব-মুশফিকদের বাজে পারফরম্যান্সে তাদেরও ফিরতে হয়েছে ভাঙা মন নিয়ে। কত শত স্বপ্ন, ব্যানার, ফেস্টুন, কত ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে মাঠে প্রবেশ করেছিলেন সবাই। একটাই চাওয়া ছিলো ক্রিকেট দলের অনবদ্য পারফরম্যান্স মাঠে বসে নিজের চোখে দেখা। কিন্তু সেটিই হয়নি।

ইমাম হোসেন জানান, দুবাই ট্যাক্সিতে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ হাজার লোক কর্মরত আছেন। ভারত-পাকিস্তান এবং নেপাল মিলিয়ে অন্তত ১৫ হাজার সাউথ এশিয়ান লোক ড্রাইভিং পেশায় জড়িত এখানে। কিন্তু সবার কাছেই ক্রিকেট একটা ধর্মের মতো। হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও চালকদের একমাত্র সত্যিকারের বিনোদনের নাম ক্রিকেট। বাংলাদেশ দল যেখানেই খেলুক তারা খোঁজ-খবর রাখেন নিয়মিত। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ প্রায়ই হয় এখানে। এবার বাংলাদেশ খেলছে বলে উৎসবটা বেশি আঁচ করা যাচ্ছে।

ইমাম হোসেন জানান, শুক্রবার খেলা দেখা হয়নি বলে আগামী ম্যাচগুলো মিস করার কোনো ইচ্ছা নেই তার। ক্রিকেটের গল্প আড্ডা চলতে চলতে হোটেলে চলে এলো ট্যাক্সি। বিদায় নিয়ে পরের যাত্রীর কল ধরলেন বাংলাদেশি ইমাম হোসেন।

Facebook Comments

প্রতিদিন স্পোর্টস ডেস্ক :: বাংলাদেশ-ভারতের ম্যাচ শেষে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম নীরব ও নিস্তব্ধ। সব কাজ শেষ, জিনিসপত্র গুছিয়ে হোটেলে ফিরবো। রাত তখন একটা ছুঁই ছুঁই। এ শহরটা রাতেই বেশি সুন্দর। সোডিয়াম বাতির আলোয় গাড়ির ছুটে চলা ছাড়া আর কোনো শব্দ কানে আসে না। অদ্ভুত মায়াবী একটা সৌন্দর্য।

অনেকক্ষণ চেষ্টার পর একটা ট্যাক্সি পাওয়া গেলো। চালক ইমাম হোসেন বাংলাদেশি। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের লোক তিনি। ৮-৯ বছর ধরে আছেন দুবাই শহরে। এশিয়া কাপ ক্রিকেট কাভার করতে এসেছি শুনেই গল্প জমিয়ে তুলেন ইমাম।

জানালেন বেশি উপার্জনের জন্যই নাইট ডিউটি বেছে নিয়েছেন। দিনের বেলায় দুবাইয়ের অস্বাভাবিক গরমও একটা কারণ। জানালেন আজ (শুক্রবার) তার অন্তত ৩৫-৪০ জন সহকর্মী খেলা দেখতে মাঠে এসেছিলেন। তারা সবাই দুবাই-ট্যাক্সিতে কর্মরত। এই কোম্পানিতে কোনো অফ ডে নেই। প্রতিদিন গাড়ি চালাতে হয়। হয় রাতে না হয় দিনে।

একদিন না চালালে কোম্পানিকে জরিমানা দিতে হয়। পরবর্তী শিডিউল পেতেও সমস্যায় পড়তে হয়। শুক্রবার বাংলাদেশি চালকদের কাছে ছিলো এক ধরণের ঈদ উৎসবের মতো। একে তো ছুটির দিন, দ্বিতীয় বাংলাদেশের ম্যাচ। কাটায় কাটায় মিলে যাওয়ায় জরিমানা নিয়ে ভাবেননি তারা। কড়ায়-গণ্ডা দিয়েই দেশের খেলা দেখতে মাঠে গিয়েছিলেন সবাই।

অবশ্য এক তরফা ম্যাচে সাকিব-মুশফিকদের বাজে পারফরম্যান্সে তাদেরও ফিরতে হয়েছে ভাঙা মন নিয়ে। কত শত স্বপ্ন, ব্যানার, ফেস্টুন, কত ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে মাঠে প্রবেশ করেছিলেন সবাই। একটাই চাওয়া ছিলো ক্রিকেট দলের অনবদ্য পারফরম্যান্স মাঠে বসে নিজের চোখে দেখা। কিন্তু সেটিই হয়নি।

ইমাম হোসেন জানান, দুবাই ট্যাক্সিতে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ হাজার লোক কর্মরত আছেন। ভারত-পাকিস্তান এবং নেপাল মিলিয়ে অন্তত ১৫ হাজার সাউথ এশিয়ান লোক ড্রাইভিং পেশায় জড়িত এখানে। কিন্তু সবার কাছেই ক্রিকেট একটা ধর্মের মতো। হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও চালকদের একমাত্র সত্যিকারের বিনোদনের নাম ক্রিকেট। বাংলাদেশ দল যেখানেই খেলুক তারা খোঁজ-খবর রাখেন নিয়মিত। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ প্রায়ই হয় এখানে। এবার বাংলাদেশ খেলছে বলে উৎসবটা বেশি আঁচ করা যাচ্ছে।

ইমাম হোসেন জানান, শুক্রবার খেলা দেখা হয়নি বলে আগামী ম্যাচগুলো মিস করার কোনো ইচ্ছা নেই তার। ক্রিকেটের গল্প আড্ডা চলতে চলতে হোটেলে চলে এলো ট্যাক্সি। বিদায় নিয়ে পরের যাত্রীর কল ধরলেন বাংলাদেশি ইমাম হোসেন।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর