আজঃ ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ - ১৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং - বিকাল ৪:১৭

থ্রেট দেবেন না: প্রধান বিচারপতি

Published: Mar 14, 2018 - 4:51 pm

প্রতিদিন ডেস্ক :: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনাদেশ স্থগিতের আবেদনের ওপর আপিল বিভাগে শুনানিকালে আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, থ্রেট দেবেন না। আপনারা কি থ্রেট করছেন, আদালত কখনও বাইরের পারসেপশন দেখে না।

বুধবার(১৪ মার্চ) সকালে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে খালেদার জামিন স্থগিত করার পর আইনজীবীরা এজলাসে ক্ষোভ প্রকাশ করায় প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

শুনানির শুরুতেই দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, হাইকোর্ট চারটি কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন। আমরা এখনও সেই আদেশের সার্টিফায়েড কপি পাইনি। আদেশের কপি পেলে লিভ টু আপিল করব।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, সিপি ফাইল করে আসেন। তখন দুদকের আইনজীবী বলেন, সিপি ফাইল করতে রোববার-সোমবার পর্যন্ত আমাদের সময় দেওয়া হোক। এ পর্যন্ত জামিন স্থগিত রাখা হোক।

এরপর আদালত বলেন, ঠিক আছে সিপি ফাইল করে আসেন রোববারের মধ্যে। এ পর্যন্ত জামিন স্থগিত থাকবে।

তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের আগে শুনেন। আমাদের বক্তব্য তো শুনেন নাই। আমাদের না শুনে এভাবে আদেশ দিতে পারেন না ।

প্রধান বিচারপতি বলেন, শুনতে হবে না। রোববার পর্যন্ত তো স্থগিত দিয়েছি। ওই দিন আসেন তখন শুনবো।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আপনি যে এক তরফাভাবে শুনানি করে আদেশ দিলেন, এতে আদালতের প্রতি পাবলিক পারসেপশন খারাপ হবে।

জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা পাবলিক পারসেপশনের দিকে তাকাই না। কোর্টেকে কোর্টের মত চলতে দিন।

এরপর জয়নুল আবেদীন ও এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, না শুনেই তো আদেশ দিলেন। আদালত বলেন, আমরা অন্তবর্তীকালীন আদেশ দিয়েছি। আমাদের শোনার দরকার নেই।

জয়নুল আবেদীন বলেন, এই মামলায় চেম্বার আদালত তো স্থগিত দেয়নি। এই সময়ের মধ্যে আসামিও বের হবে না। তাই স্থগিতের প্রয়োজন নেই। এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা তো শুনানির সুযোগ পেলাম না।

এরপরই কার্যতালিকা থেকে অন্য মামলার শুনানি শুরু হয়।

শুনানির এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমদ দাঁড়িয়ে আদালতকে বলেন, আপনি তো না শুনেই এক তরফা আদেশ দিলেন। আমাদের কথা শুনতে হবে। কেন শুনবেন না।

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, কার কথা শুনবো, কার কথা শুনবো না তা কি আপনার কাছে শুনতে হবে।

গিয়াস উদ্দিন আবারও একটু উত্তেজিত হয়ে একই কথা বললে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি কি আদালতকে থ্রেট (হুমকি) করছেন? গিয়াস উদ্দিন বলেন, শুনে তারপর আদেশ দিতে হবে।

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, থ্রেট দিবেন না। আপনারা কি থ্রেট করছেন, আদালত কখনও বাইরের পারসেপশন দেখে না।

এক পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপনি তো কোর্টকে শেষ করে দিলেন।

তখন অ্যাটর্নি কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়েই ছিলেন। তখন একদল আইনজীবী ‘দালাল দালাল’ বলে আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে ওই দিন বিকালে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখনও সেখানেই আছেন।

Facebook Comments

আরো খবর

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাফিলতির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা ন... সিলেট প্রতিদিন :: অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বাংলা...
যেভাবে জানা যাবে এইচএসসি পরীক্ষার ফল... সিলেট প্রতিদিন :: পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট www...
আগামীকাল প্রকাশিত হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল... সিলেট প্রতিদিন :: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে ...
বিএমডব্লিউ গাড়ি ফিরিয়ে দিলেন ওবায়দুল কাদের... সিলেট প্রতিদিন :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে দেয়া ...
ভল্টের স্বর্ণের ঘটনা পর্যলোচনা করা হচ্ছে : অর্থ প্... সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক :: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণে ...

প্রতিদিন ডেস্ক :: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনাদেশ স্থগিতের আবেদনের ওপর আপিল বিভাগে শুনানিকালে আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, থ্রেট দেবেন না। আপনারা কি থ্রেট করছেন, আদালত কখনও বাইরের পারসেপশন দেখে না।

বুধবার(১৪ মার্চ) সকালে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে খালেদার জামিন স্থগিত করার পর আইনজীবীরা এজলাসে ক্ষোভ প্রকাশ করায় প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

শুনানির শুরুতেই দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, হাইকোর্ট চারটি কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন। আমরা এখনও সেই আদেশের সার্টিফায়েড কপি পাইনি। আদেশের কপি পেলে লিভ টু আপিল করব।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, সিপি ফাইল করে আসেন। তখন দুদকের আইনজীবী বলেন, সিপি ফাইল করতে রোববার-সোমবার পর্যন্ত আমাদের সময় দেওয়া হোক। এ পর্যন্ত জামিন স্থগিত রাখা হোক।

এরপর আদালত বলেন, ঠিক আছে সিপি ফাইল করে আসেন রোববারের মধ্যে। এ পর্যন্ত জামিন স্থগিত থাকবে।

তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের আগে শুনেন। আমাদের বক্তব্য তো শুনেন নাই। আমাদের না শুনে এভাবে আদেশ দিতে পারেন না ।

প্রধান বিচারপতি বলেন, শুনতে হবে না। রোববার পর্যন্ত তো স্থগিত দিয়েছি। ওই দিন আসেন তখন শুনবো।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আপনি যে এক তরফাভাবে শুনানি করে আদেশ দিলেন, এতে আদালতের প্রতি পাবলিক পারসেপশন খারাপ হবে।

জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা পাবলিক পারসেপশনের দিকে তাকাই না। কোর্টেকে কোর্টের মত চলতে দিন।

এরপর জয়নুল আবেদীন ও এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, না শুনেই তো আদেশ দিলেন। আদালত বলেন, আমরা অন্তবর্তীকালীন আদেশ দিয়েছি। আমাদের শোনার দরকার নেই।

জয়নুল আবেদীন বলেন, এই মামলায় চেম্বার আদালত তো স্থগিত দেয়নি। এই সময়ের মধ্যে আসামিও বের হবে না। তাই স্থগিতের প্রয়োজন নেই। এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা তো শুনানির সুযোগ পেলাম না।

এরপরই কার্যতালিকা থেকে অন্য মামলার শুনানি শুরু হয়।

শুনানির এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমদ দাঁড়িয়ে আদালতকে বলেন, আপনি তো না শুনেই এক তরফা আদেশ দিলেন। আমাদের কথা শুনতে হবে। কেন শুনবেন না।

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, কার কথা শুনবো, কার কথা শুনবো না তা কি আপনার কাছে শুনতে হবে।

গিয়াস উদ্দিন আবারও একটু উত্তেজিত হয়ে একই কথা বললে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি কি আদালতকে থ্রেট (হুমকি) করছেন? গিয়াস উদ্দিন বলেন, শুনে তারপর আদেশ দিতে হবে।

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, থ্রেট দিবেন না। আপনারা কি থ্রেট করছেন, আদালত কখনও বাইরের পারসেপশন দেখে না।

এক পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপনি তো কোর্টকে শেষ করে দিলেন।

তখন অ্যাটর্নি কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়েই ছিলেন। তখন একদল আইনজীবী ‘দালাল দালাল’ বলে আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে ওই দিন বিকালে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখনও সেখানেই আছেন।

Facebook Comments

আরো খবর

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাফিলতির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা ন... সিলেট প্রতিদিন :: অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বাংলা...
যেভাবে জানা যাবে এইচএসসি পরীক্ষার ফল... সিলেট প্রতিদিন :: পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট www...
আগামীকাল প্রকাশিত হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল... সিলেট প্রতিদিন :: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে ...
বিএমডব্লিউ গাড়ি ফিরিয়ে দিলেন ওবায়দুল কাদের... সিলেট প্রতিদিন :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে দেয়া ...
ভল্টের স্বর্ণের ঘটনা পর্যলোচনা করা হচ্ছে : অর্থ প্... সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক :: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণে ...