আজঃ ৪ঠা পৌষ ১৪২৫ - ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮ - রাত ২:৪৩

এখনই সময়

Published: মার্চ ১৩, ২০১৮ - ৪:২৩ অপরাহ্ণ

মো. আব্দুল ওয়াদুদ :: সম্প্রতি একটি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বাংলাদেশের একজন ডাক্তার গড়ে একটি রোগী দেখতে ৪৮ সেকেন্ড সময় নেন। আর একই ধরনের একজন রোগীকে সুইডেনের একজন ডাক্তার সময় নেন ২২:৫০ মিনিট। প্রশ্ন হলো ১৬ কোটি লোকের বাংলাদেশের বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তবে বর্তমানে সরকারী মেডিকেল কলেজ সহ অনেক বেসরকারী মেডিকেল কলেজের বদৌলতে প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক এমবিবিএস ডাক্তার বাহির হচ্ছে। তথাপি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের এমন প্রতিবেদন কেন? ব্যাপারটি হচ্ছে ইদানিং রোগীরা এমবিবিএস ডাক্তারের কাছে চিকিৎসার জন্য যায় খুবই কম। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং এই অল্প সংখ্যক ডাক্তাররাই বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রত্যেকের স্ব স্ব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী দেখেন আবার প্রতিদিন চেম্বার প্য্যাকটিস করেন। এতে করে অল্পকিছু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সিন্ডিকেটের জালে আটকা পড়েছে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।

প্রতি বছর শত শত এমবিবিএস ডাক্তার বাংলাদেশে দু’বার করে এফসিপিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করলেও অতি অল্পসংখ্যক সৌভাগ্যবানরাই এফসিপিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সেক্ষেত্রে মেধা যাচাইটা যেন প্রহসন। ডাক্তারদের উচ্চতর ডিগ্রী বা প্রশিক্ষণ লাভ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জনসংখ্যার অনুপাতে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে রোগীদের সাধ্যমত কেউ ভারত, কেউ থাইল্যান্ড, কেউ সিঙ্গাপুর চিকিৎসাসেবা নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ফলশ্রুতিতে অনেকটা বাধ্য হয়ে আমাদের বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমনকি সচিব, অতিরিক্ত সচিব ইত্যাদি পর্যায়ের ব্যক্তিরা নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য/ যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। ইহাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে। তাছাড়া সাধারণ মানুষ যারা চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারছেনা তাদের সুচিকিৎসা ব্যবস্থা সংকুচিত হচ্ছে। সম্প্রতি জনসাধারণের একাংশ এতে প্রতিবাদ করলে বিষয়টি আরো নজরে পড়ে। এখানে আরও একটি জিনিষ প্রতীয়মান হয় বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে মেধার সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দেয়া, অতি মাত্রায় কৌটা ব্যবস্থা বাধ্যকর করায় বাংলাদেশের সরকারী পদের সর্বোচ্চ স্তরে নিয়োগ ব্যাপারে সর্বোচ্চ মেধাবীর যথাস্থানে চাকুরী পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার এখনই সময়।
লেখক : মো. আব্দুল ওয়াদুদ এডভোকেট, জজকোর্ট, সিলেট।

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhetprothidin24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhetprothidin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

Facebook Comments

মো. আব্দুল ওয়াদুদ :: সম্প্রতি একটি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বাংলাদেশের একজন ডাক্তার গড়ে একটি রোগী দেখতে ৪৮ সেকেন্ড সময় নেন। আর একই ধরনের একজন রোগীকে সুইডেনের একজন ডাক্তার সময় নেন ২২:৫০ মিনিট। প্রশ্ন হলো ১৬ কোটি লোকের বাংলাদেশের বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তবে বর্তমানে সরকারী মেডিকেল কলেজ সহ অনেক বেসরকারী মেডিকেল কলেজের বদৌলতে প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক এমবিবিএস ডাক্তার বাহির হচ্ছে। তথাপি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের এমন প্রতিবেদন কেন? ব্যাপারটি হচ্ছে ইদানিং রোগীরা এমবিবিএস ডাক্তারের কাছে চিকিৎসার জন্য যায় খুবই কম। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং এই অল্প সংখ্যক ডাক্তাররাই বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রত্যেকের স্ব স্ব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী দেখেন আবার প্রতিদিন চেম্বার প্য্যাকটিস করেন। এতে করে অল্পকিছু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সিন্ডিকেটের জালে আটকা পড়েছে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।

প্রতি বছর শত শত এমবিবিএস ডাক্তার বাংলাদেশে দু’বার করে এফসিপিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করলেও অতি অল্পসংখ্যক সৌভাগ্যবানরাই এফসিপিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সেক্ষেত্রে মেধা যাচাইটা যেন প্রহসন। ডাক্তারদের উচ্চতর ডিগ্রী বা প্রশিক্ষণ লাভ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জনসংখ্যার অনুপাতে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে রোগীদের সাধ্যমত কেউ ভারত, কেউ থাইল্যান্ড, কেউ সিঙ্গাপুর চিকিৎসাসেবা নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ফলশ্রুতিতে অনেকটা বাধ্য হয়ে আমাদের বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমনকি সচিব, অতিরিক্ত সচিব ইত্যাদি পর্যায়ের ব্যক্তিরা নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য/ যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। ইহাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে। তাছাড়া সাধারণ মানুষ যারা চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারছেনা তাদের সুচিকিৎসা ব্যবস্থা সংকুচিত হচ্ছে। সম্প্রতি জনসাধারণের একাংশ এতে প্রতিবাদ করলে বিষয়টি আরো নজরে পড়ে। এখানে আরও একটি জিনিষ প্রতীয়মান হয় বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে মেধার সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দেয়া, অতি মাত্রায় কৌটা ব্যবস্থা বাধ্যকর করায় বাংলাদেশের সরকারী পদের সর্বোচ্চ স্তরে নিয়োগ ব্যাপারে সর্বোচ্চ মেধাবীর যথাস্থানে চাকুরী পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার এখনই সময়।
লেখক : মো. আব্দুল ওয়াদুদ এডভোকেট, জজকোর্ট, সিলেট।

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhetprothidin24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhetprothidin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর