‘করিমগঞ্জ’ সিলেটের জন্য একটি দুঃখের নাম…

0
2611
sylpro24
sylpro24

এস.পি.সেবু  ::১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় এ অংশটি সিলেটের শরীর ছিঁড়ে যুক্ত হয় আসামের সঙ্গে। সে বছরই গণভোটের মাধ্যমে সিলেট যুক্ত হয় পাকিস্তানের সঙ্গে। আসাম থেকে যায় ভারতের অংশ হয়ে। পরে কাঁটাতারের বেড়ায় ভাগ হয়ে যায় সিলেটের করিমগঞ্জ থানা। আসামের অংশ হয়ে জেলা হিসেবে নতুন পরিচিতি পায় করিমগঞ্জ। সেই থেকে সিলেটের জন্য করিমগঞ্জ হয়ে পড়ে ভিন দেশ। এতোদিন তবু ভিসা-পাসপোর্ট নিয়ে সরাসরি সীমানা পেরিয়ে করিমগঞ্জে যেতে পারতেন সিলেটের মানুষ। তবে এবার সে সুযোগও হারিয়ে গেছে। ভারত সরকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ-আসাম সীমান্ত সিল করার। ক’দিন আগে আসামের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে দুই বছরের মধ্যে সীমান্ত
সিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ভারত বিভাগকালে সীমানা নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা বৃটিশ কর্মকর্তা কুখ্যাত ইবলিশ  সিসিল রেডক্লিফের কলমের খোঁচায় সিলেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও সিলেটের সঙ্গে করিমগঞ্জের আত্মার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার নয়। সিলেটের বাসিন্দা অনেকেরই আত্মীয়স্বজনের বাস করিমগঞ্জে। দেখা গেছে, সিলেট অংশে কারো বাবার বাড়ি হলে মায়ের বাড়ি করিমগঞ্জে। কিংবা সিলেটের জকিগঞ্জের বাসিন্দা কারো মেয়ের শ্বশুরবাড়ি করিমগঞ্জের কোনো গ্রামে। ৫৯ বছরের পথপরিক্রমায় সেই সম্পর্কের সিঁড়ি বেয়ে এখনও সিলেটের সঙ্গে করিমগঞ্জের যোগ রয়ে গেছে। এ সময়ের মাঝে পাকিস্তান পর্বের ইতি ঘটিয়ে বাংলাদেশ নামক নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। এতো কিছুর পরও করিমগঞ্জ থেকে গেছে সিলেটের অন্তরেই। ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে এবার করিমগঞ্জের সঙ্গে সিলেটের সে সম্পর্কেও টান পড়তে চলেছে। চাইলেও সহজ পথে সীমানা পেরিয়ে ওপারে থাকা আপনজনের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না সিলেটের মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১৫/২০ জন লোক ওপারে করিমগঞ্জে যান। জকিগঞ্জ শুল্ক বন্দরের সুপারিনটেনডেন্ট আবদুস সামাদ সংবাদপত্রকে জানান, মূলত ওপারে থাকা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতেই তারা সীমানা পাড়ি
দেন। আসামের সীমান্ত সিল করতে ভারত সরকারের নির্দেশ প্রসঙ্গে কথা হয় সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে সচেতন ব্যক্তিত্ব ও সিলেট
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসর  সঙ্গে কথা বলে জানা যায় , তিনি বলেন, আসামের
সীমান্ত সিল করার সিদ্ধান্তটি খুবই দুঃখজনক। আসামের সঙ্গে সিলেটের একটি আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু করিমগঞ্জ নয় করিমগঞ্জ পেরিয়ে কাছাড় পর্যন্ত সে সম্পর্ক বিস্তৃত।
***********
এ প্রসঙ্গে ফিচার সম্পাদক
জবরুল আলম সুমন বলেন ;

সিলেটে রাজা বাদশা তথা মোগল আমলের অবসান হলে সিলেট অঞ্চলকে ঢাকা ডিভিশনের সাথে যুক্ত করা হয়। কিন্তু আসাম সরকারের
ব্যয়ভার বেশি হয়ে পড়লে আসাম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে যায়, তাই আসাম সরকারের ব্যয় সংকুলানের
জন্য সম্পদশালী সিলেটকে ১৮৭৪ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর আসামের সাথে জুড়ে দিলে সিলেটবাসীরা প্রতিবাদে
ফেটে পড়ে। তখন গভর্ণর জেনারেল নর্থব্রুক সিলেটে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। তাকে অভ্যর্থনার জন্য
সিলেটের চাঁদনীঘাটে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়, যা আজো সিলেটের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে টিকে আছে। ১৮৭৬ সালে সিলেটকে চারটি সাব ডিভিশনের ঘোষণা দেয়া হয়। ১৮৭৭ সালে
সুনামগঞ্জ, ১৮৭৮ সালে করিমগঞ্জ (ভারত) ও হবিগঞ্জ সাব ডিভিশন খোলা হয়। সদর সাব ডিভিশনের আয়তন বড় হয়ে যাওয়ায় ১৮৮২ সালে দক্ষিণ শ্রীহট্ট বা মৌলভীবাজার সাব ডিভিশন চালু হয়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ও পূর্ববঙ্গপ্রদেশ গঠিত হলে সিলেট আসাম থেকে পৃথক হয়ে পূর্ববঙ্গে যুক্ত হয়। ১৯১২ সালে আবারো পূর্ববঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সিলেট আসাম প্রদেশের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সিলেট
আসামের সাথে যুক্ত থেকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখলেও আসামের কট্টরপন্থী কংগ্রেস সরকার
সিলেটের সাধারণ নিরীহ মুসলমানদের উপর নানামূখী নির্যাতন চালাতো। বিভিন্ন নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হয়ে সিলেটের আলেম সমাজ তথা সাধারণ মুসলমানগণ কংগ্রেস সরকারের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে তারই পরিপ্রেক্ষিতে মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি গঠনের লক্ষ্যে সিলেটের মুসলিম সমাজ তৎপর হয়ে উঠেন। কিন্তু ভারত বিভক্তির ক্রান্তিলগ্নে আসাম প্রদেশেভুক্ত সিলেটে জমিয়তে উলামার একটি দল পাকিস্থানভূক্তির বিরোধী ছিলো। এ কারণে সিলেটবাসীর মতামত যাচাই করার জন্য গণভোটের (Referendum) আয়োজন করা হয়। সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিঃ ডামব্রেকের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত গণভোটে গণভোট কমিশনারের দায়িত্ব দেয়া হয় মিঃ এইচ. এ. স্টর্ককে। ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ জুলাই সোম ও মঙ্গলবার গণভোটের তারিখ নির্ধারিত হয়। পাকিস্থানের পক্ষে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে সিলেটের সর্বত্রই ব্যপক ভাবে প্রচার প্রচারণা চলতে থাকে। অপরপক্ষও সমান তালে তাদের প্রচারণার কার্যক্রম শুরু করে।
সিলেটের বাইরে থেকেও পাকিস্থানের পক্ষে প্রচারণা চালাতে ছুটে আসেন লিয়াকত আলী, হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী,চৌধুরী খালেকুজ্জামান, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সেসময়ের তরুণ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেকেই। স্থানে
স্থানে সভা-সমাবেশ, মিটিং মিছিল হতে থাকে।দৈনিক আজাদ, সিলেট যুগভেরী, মাসিক আল-ইসলাহ,
মর্ণিং নিউজ, আসাম হেরাল্ড পাক্ষিক প্রভাতী পত্রিকাসমুহ পাকিস্থানের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সেই
সাথে বিশেষ করে মওলানা ভাসানীসহ, সিলেটের আব্দুল মতিন চৌধুরী, আব্দুল হামিদ, দেওয়ান বাসিত, মুহাম্মদ নুরুল
হক (সম্পাদক মাসিক আল- ইসলাহ), শাহেদ আলী (সম্পাদক পাক্ষিক প্রভাতি) মওলানা রজিউর রহমান, দেওয়ান আজরফ,
মাহমুদ আলী, আজমল আলী চৌধুরী, ডাঃ আব্দুল মজিদ, খায়রুন্নেছা প্রমূখ ব্যক্তিবর্গসহ তরুন ও যুবসমাজ পাকিস্থানের পক্ষে ময়দানে ঝাপিয়ে পড়েন। ছাত্র ও যুব সমাজ রাস্তায় বেরিয়ে এলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাকিস্থানের পক্ষে ভোট দানে ভোটারদের উৎসাহিত করে তোলেন। সেই সাথে গঠিত হলো ন্যাশনাল গার্ডবাহিনী, নেতৃত্বে ছিলেন সিলেটে আব্দুস সালাম, করিমগঞ্জে মোকাই মিয়া ও মৌলভীবাজারে আব্দুর রকিব। চারদিক থেকে উভয় পক্ষে প্রচার-প্রচারণা জমজমাট হয়ে উঠে। পাকিস্থানের প্রতীক কুড়াল আর বিরোধী পক্ষের প্রতীক ঘর। সিলেটের সর্বত্রই
“আসামে থাকবো না, গুলি খেয়ে মরবো না”, “কংগ্রেস সরকার জুলুম করে, নামাজেতে গুলি করে”, “ভূতের ঘরে কুড়াল মারো”
প্রভৃতি স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হতে থাকে। সিলেটের সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে পাকিস্থানের পক্ষে মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। এখানে উল্লেখ্য যে গণভোটের কিছু দিন আগে ১৯৪৭ সালের ২৪শে এপ্রিল থানা প্রাঙ্গনে বৃটিশ
পতাকা নামিয়ে পাকিস্থানের পতাকা উত্তোলন করতে গিয়ে আলকাস আলী নামক একজন পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে তার শহীদ হওয়ার ঘটনাটি পাকিস্থানের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে গণভোটে ব্যপক প্রভাব ফেলে। গণভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। রাত পোহালেই যে সূর্য্য ফুটে উঠবে পৃথিবীর বুকে তার আলোয় পা ফেলেই সবাই ভোট দিতে যাবে এমনি অপেক্ষায় সবাই প্রহর গুনছে ঠিক তখনি প্রকৃতির মেজাজ।বিগড়ে গেলো। আকাশ।ভেঙ্গে বৃষ্টি ঝরতে শুরু করলো। কিন্তু না, মাঝে মাঝে প্রকৃতিও হার মেনে যায়, সূর্য্যের আলো ফোটার সাথে সাথে কাদা-জল মাড়িয়ে
বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পিচ্ছিল।পথে নর-নারী সাধারণ মানুষেরা ছুটলো ভোট কেন্দ্রে, ভোট দিতে। খুবই শান্তিপুর্ণ ভাবেই নির্ধারিত টানা দুই দিন ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষিত হলো। ফলাফলে পাকিস্থানের পক্ষে ভোট পড়েছে ২,৩৯,৬২৯টি আর বিরোধী পক্ষে ১,৮৪,০৪১টি। ফলাফল ঘোষণার সাথে সাথে সিলেট সদর, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, করিমগঞ্জ (ভারত) ও কাছাড় জেলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মহকুমা হাইলাকান্দির বিস্তির্ণ জনপদসহ সর্বত্রই শুরু হয় জয়ধ্বনির সাথে আনন্দ উল্লাস। কিন্তু সিলেটবাসীর জন্য এই আনন্দ স্থায়ী হলেও করিমগঞ্জ তথা করিমগঞ্জ মহকুমার পাথারকান্দি, রাতাবাড়ি,
বদরপুরসহ অনেক এলাকাই সীমানা কমিশনার রেডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী পাকিস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। সীমান্তবর্তী এলাকার দুই
পারে আত্মীয় স্বজনরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অর্থনৈতকভাবেও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এপার ওপারের বাসিন্দারা। ফলে উভয় পারেই চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। গণভোটের সময়ে সিলেটের আয়তন ৫৪৪০ বর্গ মাইল থাকলেও সীমানা পৃথকিকরণের সময়
সাড়ে তিন থানা ভারতভূক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে তা কমে এসে দাঁড়ায় ৪৭৮৫ বর্গ মাইলে। অভিন্ন সত্ত্বা, ইতিহাস ও অখন্ড ঐতিহ্যের অধিকারী
সিলেটবাসী মনের মাঝে চাপা যন্ত্রণা নিয়েও আসাম প্রদেশ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্নে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের
সাথে মিশে যায়, সিলেটবাসীকে খুঁজে পাওয়া যায় সব কটি রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রথম সারিতে। ১৯৮২ সালে।প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের
মাধ্যমে বৃহত্তর সিলেট চারটি পৃথক জেলায় ভাগ হয়ে গেলেও পরবর্তিতে ১৯৯৫ সালের ১লা আগস্ট ভাগ হয়ে
যাওয়া চারটি জেলা নিয়ে সিলেট বিভাগ ঘোষিত হওয়ার মাধ্যমে তা আবার একই সিলেট। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বের জনপদ। হাজার বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ইতিহাসের পাতায়- পাতায় ছড়িয়ে আছে এর নাম। কখনও শ্রীহট্ট, কখনওবা সিলহেট আর প্রিয়
আদুরে নাম ‘সিলট’। রূপের মায়ায় সবাইকে কাছে টানে বারবার। রবীন্দ্রনাথও প্রেমে পড়েছিলেন এই
সিলেটের। তার চোখে সিলেট ধরা
দিয়েছে ‘শ্রীভূমি’ হিসেবে। সাধক
পুরুষ হযরত শাহজালালের (রাহ.)
পদস্পর্শে ধন্য হয়েছে সিলেটের
মাটি। পৌরাণিক উপাখ্যান
মহাভারতেও মেলে সিলেটের সন্ধান।
অশ্বমেধের যজ্ঞের ঘোড়া খুঁজতে
অর্জুনের পা পড়েছিল এখানটাতেই।
নদীয়ার নিমাই যাকে হিন্দু
ধর্মাবলম্বীরা শ্রীকৃষ্ণের অবতার
মানেন সেই শ্রীচৈতন্য পৃথিবীতে
আগমনেরও আগে যখন মায়ের গর্ভে
এসেছিলেন তখন তার প্রথম আগমনধ্বনি শুনেছিলো এই সিলেটই।
**********
ইতিহাসের ছড়ানো পাতাগুলো থেকে খুঁজেপেতে সেই সিলেটকে সামনে তুলে আনছেন
বিশিষ্ট কলামিষ্ট  সাঈদ চৌধুরী টিপু।
তিনি বলেন ;

করিমগঞ্জ সিলেটের এক দুঃখের নাম।এক সময় ছিল সিলেটের অংশ। এখন আসামের অংশ হিসেবে ভারতেরভাগে পড়েছে। ১৯৪৭ সালের  দেশভাগের সময় সিলেট নিজেদের ঠিকানা নিজেরাই খুঁজে নেওয়ার স্বাধীনতা পেয়েছিলো। গণভোটের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়ে পাকিস্তানের সাথে থাকবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সিলেটের বাসিন্দারা। ৬-৭ জুলাই দু’দিন ব্যাপী ভোটে সিলেট জানিয়ে দেয় তারা পূর্ব পাকিস্তানের সাথে থাকবে। ভোটে সিলেটবাসী আসামের সঙ্গ ছাড়লেও সীমানা কমিশন নিজেদের মতো সে সিদ্ধান্তকে কাটাছেঁড়া করেছিলো। ১২ আগস্ট রেডক্লিফ রোয়েদাঁদ প্রকাশিত হলে দেখা যায় সিলেটের গায়ে পড়েছে ছুরির আঁচড়। করিমগঞ্জ মহকুমার সাড়ে তিন থানা (পাথারকান্দি, বদরপুর, রাতাবাড়ি থানা এবং করিমগঞ্জ থানার অধিকাংশ) আসামকে ছেড়ে দিতে হয় সিলেটকে। করিমগঞ্জের বাকি অংশ জকিগঞ্জ নামে টিকে থাকে সিলেটের সাথে। সাড়ে ৩ থানাকে হারানোর ক্ষত নিয়ে আজও পথ চলছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বের জনপদ সিলেটকে।
********* এই সাড়ে তিন থানা সিলেট
বাংলাদেশকে ফেরত দেয়ার দাবিতে প্রথম স্মারক লিপি প্রদান করেন ২০০২ সালে সিলেট রত্ব ইতিহাস সম্রাট  , ছিলটী মাতৃভাষা নাগরি আন্দোলনের জনক, সিলেটের ইতিহাস প্রণেতা সুপ্রীমকোর্ট  সিনিয়র এ্যাডভোকেট  ড.মুমিনুল হক তাঁর ” সিলেটের ইতিবৃওগ্রন্থের ৬২০ পৃষ্টায় এ প্রসঙ্গে জোরালো প্রতিবাদ করে বলেন ” সিলেট থেকে হৃত সাড়ে তিন থানা  করিমগঞ্জ জেলাধীন এগুলো দ্রুত ফিরিয়ে দিতে হবে এবং বাংলাদেশ সরকারের  কাছে তিনি আবেদন করে বলেন এগুলো ফেরত আনার জন্য আইনী লড়াই করতে।অতএব, একদফা একদাবি করিমগঞ্জ জেলাকে
ভারত তুই ফিরিয়ে দিবি …….।।

লেখক : কবি এস.পি.সেবু  ★ ছিলটী ভাষা নাগরী সৈনিক ও বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক

স্ট্যাইলের জনক সালমান শাহ গবেষক ★কেন্দ্রীয় সভাপতি : স্বপ্নবাংলা পরিষদ

Leave a Reply