আমি যখন কারাগারে…

0
918
sylpro24
sylpro24


কেন আমাকে উপরি মাটিতে বসতে হয়?  কেন  আমার মাথার চুল কাটা হয় ডুকার সাথে সাথেই……
অনেকদিন ধরে একটা বিষয় আপনাদের তুলে ধরবো ভাবছি  কিন্তু সময়াভাবে জানাতে পারিনা আজ মনে করছি আমার মনে কথা গুলি আপনাদের বলি ।
কারাগারের বিষয়টা  তুলে ধরতে চাই । ২০০১ সালে যখন আমি ও আমার তিন ভাই এ্যরেষ্ট হই বিনা মামলায় । এটা করেন তৎকালীন সময়ের এম,পি ইলিয়াস আলী ।যখন জেল গেট এ গেলাম তখন তো অবাক হয়ে অনেক কিছু দেখলাম । জেল গেট এ যাওয়ার পর সবাইকে  মাটিতে উপরি বসতে হবে  লাইন ধরে । তখন জেলের মানুষ মানে পুলিশ গুনবে । গুনে নেওয়া হবে, নতুন যারা তাদেরকে  আমদানীতে । আমদানী মানে একটা ঘর, সেখানে প্রথম সবাইকে নেওয়া হয় ।
রাতে সব নতুনরা আমদানীতে কাটাবেন পরদিন সকালে উঠে গুনবেন, তারপর নাপিত আসবে, চুল কাটবে । আপনী যদি নাপিতকে খুশী করতে পারেন তখন আপনার চুল চোবেই না । এই হলো নিয়ম ।
আমদানী থেকে আপনাকে বন্টন করা হবে ওয়ার্ডে । আপনী সেখানে পৌনে একহাত জায়গায় ঘুমাবেন । পাশ কাটলে খবর আছে । সিলেট জেলে তৎকালীন সময়ে একটা চৌবাচ্চা ছিল যেটাতে পানি থাকতো পায়ের ঘন্টা পরিমান । সেখানে থালা নিয়ে সময় মত গোসল করতে হতো । এক সাথে অনেক লোক গোসল করতে পারতেন । অন্য খানে নিউজেলের পুকুরে পানির অবস্থা খুব খারাপ ছিল । গোসল করা প্রায় অসম্ভব । আমরা  প্রথমে আমদানীতেই ছিলাম ২ দিন । এ্যরেষ্ট হওয়ার পূর্বে  আমার এক বন্ধু হার্ট এটাকে আমার কোলেই মারা যান তার জন্য আমার অবস্থা ছিল খুবই খারাপ । আমি যেন মরে যাবো এই অবস্থা, এর মাঝে তারা আমাকে ও ২ ভাইকে জেলে পাঠালো । আমার মেজো ছেলের জন্ম হয়েছে মাত্র । সব মিলিয়ে আমার নড়া চড়ার ক্ষমতা ছিল না । মনে হতো নড়লে  মাটির মূর্তির মতো হাত পা ভেঙ্গে পড়বে ।
আমি প্রথম যখন গোসল করতে গেলাম তখন হঠাৎ দেখি শামীম ভাই করে কে একজন  চিৎকার দিয়ে আমাকে ডাকছে । আমাকে দেখে বিচারা নির্বাক হয়ে গেছেন । বললেন আপনী কেন এখানে?  আমি উত্তরে বল্লাম  ক্ষমতার অপব্যবহারে আমি আপনার কাছে । উল্লেখ্য এই লোকটি মার্ডার মামলার আসামী । যাবতজীবন  সাজাপ্রাপ্ত । উনি বললেন তাড়াতাড়ি গিয়ে কাপড় চোপড় গোছান, আপনাদেরকে  মিয়াসাব নিয়ে আসবে ।মিয়াসাব মানে জেল পুলিশ । জিজ্ঞেস করলাম কোথায় নিয়ে আসবে? বললেন মেডিকেলে । হায়রে নিয়তী মেডিকেলে যাওয়ার জন্য বাহিরে সবাই কত চেষ্টা করছে পারছেনা। অথচ এ লোকটি বলছে নিয়ে আসবে আমি তাড়াতাড়ি আমদানীতে গেলাম সব জিনিষ গোছালাম । ভাইদের বললাম খবর আসবে । হঠাৎ লোক আসলো নাম ধরে ডাকলো চলে গেলাম । সেখানে কি সুন্দর ব্যবস্থা
অনেক অনিয়ম দেখেছি । যে গুলি আমার কাছে বেশী খারাপ লেগেছে সে গুলি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি । ক্যশ টেবিল হয়  জেলে ।  ক্যশ টেবিল মানে  বিচার হয় । জেলের ভিতরে যারা অপরাধ করে তাদের বিচার হয় । বিচার করেন জেলার সাব । অভিযুক্তরা  জেলার সাবের সামনে মাটিতে উপরি বসে  কুনই দুইটি দুই হাটুর মাঝখানে  ডুকিয়ে  দুই হাত করজোড় করে বসে থাকতে হবে ।
জেলার সাব আসলেন, সিংহাসন ষ্টাইলের একটা চেয়ার থাকবে  এবং দুই পাশে দুইজন মানুষ থাকবে বড় বড় পাখা নিয়ে বাতাস করবে যে পাখা গুলির  ডান্ডা মাটি থেকে বুক সমান লম্বা থাকবে ।  এ গুলি দিয়ে বাতাস করবে অথচ উপরে ফ্যন আছে । এটা বৃটিশ আমলে ছিল । কারন তারা ভারতবর্ষের মানুষকে  মানুষ মনে করতো না ।
সেই আমলের  এ সিষ্টেম কি এখন রাখা দরকার?  যেহেতু  বিদ্যুত আছে ।
আমি যেখানে ছিলাম সেখানে রোগী আসতো । হুসেন নামে একজন ডাক্তারী করতেন । তিনি একজন  আসামী । শিক্ষিত মানুষ ।   দেখে দেখে ডাক্তারী শিখেছেন । বেশী রোগী আসতো মাথার ব্যথা ও গ্যসট্রিকের  জন্য । অনেকে চিৎকার করে কাঁদতো  গ্যস ও ব্যথা মাথা ব্যথার কারনে  ।  কিন্তু হুসেন ভাইর ফার্মেসীতে ঔষধ নেই । ফার্মেসী মানে  ভুষি মালের দোকানে কাঠের বাক্সের যে ক্যশ থাকে সেই ক্যশ বাক্সের মত একটি বাক্স হুসেন ভাইকে ডাক্তার দিয়ে রেখেছেন  আর হুসেন ভাই রাতের ডাক্তার হয়েছেন । এ সব দেখে আমার ভীষন কষ্ট হতো । আমি হুসেন ভাইকে বললাম যে- ঔষধ থাকেনা কেন?  তিনি বললেন   বরাদ্দ কম ।  আমি বল্লাম আমি ঔষধ আনতে চাই । উত্তরে বল্লেন  সেটা নিয়ম না ।  বললাম তা হলে মানুষের এ দূর্গতি আমার সহ্য হয়না । আপনী ঔষধের ব্যবস্থা করেন । তিনি পারেন নী । হঠাৎ আমার কোর্টে যাওয়ার তারিখ আসলো । হাজিরা দিয়ে আসার সময় আমি প্যরাসিটামল, এন্টাসিড, ভিটামিন, প্রচুর পরিমানে কিনালাম । জেল গেট এ আসতেই ঔষধ নেওয়া যাবেনা বলে আমার ইন্টারভিউ নেওয়া হলো । নানা প্রশ্নে জর্জিরত করা হলো । আমি নাচোড় বান্দা আমার ঔষধ নিতে হবে । পরে জেল সুপারকে বোঝাতে সক্ষম হলাম। সব খুলে বললাম তখন উনার দয়া হলো  তবে ঔষধ তারা পৌছাবেন বলে রেখে দিলেন । পরে অবশ্য তারা পাঠিয়েছেন । এর পর থেকে ঔষধ আনতাম এবং  এ জাতীয় কোন রোগী খালি হাতে যাননী আমার কথা হলো  রাতে যেহেতু ডাক্তার সাবরা থাকেন না তাহলে সাধারণ রোগের জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ রাখা হয় না কেন হুসেন ভাইদের মত লোকদের কাছে?
লিখলে অনেক কিছু লিখার আছে । এখন আসেন আসল ঘটনায় । আমার  উপর  সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী মামলা করিয়েছেন । তবে আমরা তিন ভাইকে  এ্যরেষ্ট করে থানায় এনে মামলা এফ আই আর করা হয় । বুঝতে তো পারছেন  মামলা টা মিথ্যা । তারপরেও ধরে নিলাম মামলা সত্যি । তবে যতদিন পর্যন্ত  বিচারে দোষী না হচ্ছি ততদিন পর্যন্ত তো আমি নিরপরাধ । তাহলে কেন আমাকে উপরি মাটিতে বসতে হয়? তাহলে কেন  আমার মাথার চুল কাটা হয় ডুকার সাথে সাথেই । কেউ একজন খামোকা নালিশ দিল  সেখানে কেন জেলারের সামনে  মাটিতে উপরি বসে দুহাত জোড় করে  বসতে হয়?  আমি তো চুনাপুটি মাত্র, আমার থেকে অনেক বড় বড় মানুষ  কে ও মাটিতে বসতে হয় ।
এরা বাহিরে থাকলে  জেলার বা জেল সুপার  দাড়িয়ে কথা বলতে হত । এটা হয়তো নেত্রীর কাছে কেউ তুলে ধরেনী বা করো নজরে পড়েনী বৃটিশরা  এ গুলি করেছে কারন তো আগে বলেছি দ্বিতিয়ত  তারা আমাদেরকে  ভয় ভীতিতে রাখতো যাতে আমরা বিদ্রোহ করার সাহস সঞ্চয় করতে না পারি  এখনতো আর সে পরিবেশ নেই  এখন কেন এ হাল ?  আমার মনে হয় এসবের দিকে  সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করানো উচিত ।
লেখকঃ শামীম আহমদ
সভাপতি,সিলেট জেলা যুবলীগ।
পরবর্তীতে  লিখবো জেল সম্মন্দে আর অনেক কিছু  ।

মন্তব্য

মন্তব্য