আজঃ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ - ২০শে জুন, ২০১৮ ইং - ভোর ৫:৫০

অধিকারে নারী সমান সমান

Published: Mar 08, 2017 - 11:24 am

sylpro24sylpro24

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা আবহমান কাল থেকেই নির্যাতিত,নিপীড়িত। নারীদের যে একটা নিজস্ব জগত আছে,তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলে কিছু একটা আছে তার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। কেননা পুরুষরা কখনো চান না যে নারীরা এগিয়ে যাক। (সবাই সমান না)। বাগানের শোভা ফুল আর ঘরের শোভা নারী কথাটি খুব শোনা যায়! আচ্ছা ধরে নিলাম এটা একটা সুন্দর কথা! মেয়েরা অনেক সুন্দর, সব সময় সাজুগুজো করে থাকেন,যেখানে যান সেই জায়গা নিজের মত করে নেন; কিন্তু আমরা তাদের কতটা মূল্যায়ন করি? একশ্রেণির পুরুষ চায় নারী ঘরে থাকবে তার আবার বাইরে গিয়ে চাকুরি করার কি দরকার! কি মারাত্নক জিনিস!! একজন মেয়ে কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে মনে মনে হয়তো বিসিএস ক্যাডার /ব্যাংক/বেসরকারি প্রতিষ্টানে কাজ করার স্বপ্ন দেখছে, বিয়ের পর সেই স্বপ্নে গুড়েবালি! আরেক শ্রেণি নারীদের মতামতের কোন গ্রুরুত্বই দেয় না। পুরুষদের এই যে চিন্তাধারা এটা নতুন নয়। আজ থেকে ২ হাজার ৩০০ বছর আগে অ্যারিস্টটল বলেছিলেন, “মেয়েরা পুরুষের তুলনায় অক্ষম ও স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন।” অ্যারিস্টটলকে অনুসরণ করে যুগের পর যুগ ধরে পুরুষেরা তোতাপাখির মতো একই কথা বলে গেছেন। অনেক মানুষকে বলতে শুনি মেয়েদের বাচ্ছা-কাচ্চা লালন পালন করা ছাড়া আর কোন কাজ আছে নাকি?! ঘর গোছানো, রান্না-বান্না,বাচ্চাদের যত্ন নেয়া, দেখাশোনা এই কাজগুলো কে করে। এগুলো কি একটা অফিস সামলানো থেকে কম বড় কাজ! দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করুন। কিছুদিন আগে দেশের জনপ্রিয় একটা পত্রিকা নারীদের সামাজিক অবস্থা নিয়ে জরিপ করেছিল সেখানে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। যে ঘরের শোভা মেয়েদের বলা হয়,সেই চার দেয়ালের ভিতরের মেয়েরা বেশি নির্যাতিত। ৬৪.৫% নারীরা ঘরে স্বামী কিংবা শ্বশুরের হাতে নির্যাতনের শিকার হোন। আর ৩৪.৫% নারী কর্মক্ষেত্রে নানাবিদ নিপীরণের শিকার হোন। তাদের বেশিরভাগই সামাজিক অবস্থানের কথা বা লোকলজ্জার ভয়ে বিচার চায় না। পত্রপত্রিকা বা মিডিয়ার মাধ্যমে কিছু নির্যাতনের খবর পাই বটে, এর বাইরেও কত মেয়ে চোখের জলে বুক ভাসাচ্ছে আমাদের জানা নাই। কখনো জানতেও চাই নি হয়তো! আগে নিপীড়নগুলো,কিল-ঘুষি লাথির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এখন শরীর পুড়ানো,চোখ উপড়ে ফেলা,এসিড নিক্ষেপ করা যুক্ত হয়েছে । নারী-পুরুষের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য ১৯৭৯ সনের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘে সর্বসম্মতিতে নারীর প্রতি সকল বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডো) প্রতিষ্টিত হয়। বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে সিডোতে যোগদাব করে। যৌতুক নিরোধ আইন,পারিপারিক আইন, এসিড নিক্ষেপ আইন, বাল্যবিবাহ রোধসহ বহুবিধ আইন থাকা সত্তেও নারীর প্রতি সহিংসতা ঠেকানো যাচ্ছে না। এর কারন হিসেবে যৌতুকপ্রথা,বহুবিবাহ,মাদকাসক্তি,বেকারত্ব এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না ঘটাকে দায়ী করা যায়। তবে আমার মনে হয় নারীকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ণ না করাই নারী সহিংসতার মূল কারণ। নারীকে মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখুন। ৩।এত প্রতিবন্ধকতার পরেও নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষাদীক্ষা থেকে নিয়ে রাজনীতি,অর্থনীতি,সমাজসেবা ইত্যাদি সেক্টরে তারা ভাল করছেন। আমাদের প্রাথমিকে ভর্তি প্রায় ১০০%,এখানে মেয়ে শিশু ভর্তির হার আশাব্যঞ্জক। উচ্চ শিক্ষায়ও মেয়েরা অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প বিশ্বসেরা, এখানে ৮০% নারী শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া চা শিল্পে নারী শ্রমিক বেশি। একজন নিশাত মজুমদার কিংবা ওয়াসফিয়া নাজমীন যখন এভারেস্ট জয় করেন তখন আমরা বিস্মিত হই,অস্ফুটে মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে, অসাধারণ! আবার কেউ কেউ সমালোচনা করে বলেন,মেয়ে পাহাড়ে উঠতে গেলো কেন?! সেসব মানুষের জন্য ১ মিনিট নিরবতা! আমাদের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী নারী। এই বিপুল সংখ্যক নারীকে বাদ রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাদেরকে মুল ধারায় নিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রে একজন পুরুষ যেসব সুযোগ-সুবিধা পায়, নারীদের সেসব সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। তবেই সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে যাবে। নারীকে শুধু নারী হিসেবে মূল্যায়ন না করে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।

লেখকঃশায়খুল ইসলাম,

মাস্টার্স (পলিটিক্যাল স্টাডিজ)

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

Facebook Comments

আরো খবর

‘জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ভাবনা’... সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক :: প্রত্যেক মানুষই জীবনের লক্ষ নিয়ে ক...
তুমি কেন ঘষো আমি তাহা জানি... জসিম উদ্দিন::এক রাখাল ছেলে মাঠে গরু ছাড়িয়া দিয়া গাছতলায় বস...
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ নেয়ামতকে স্থায়ী ও বরকতময় করে... মাহমুদা নওরিন:কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা তার সাধারণ ও বিশেষ নে...
পরীমনির প্রথম ছবিতে নায়ক শাকিব খাঁন... বিনোদন ডেস্ক:: পরীমনির প্রযোজনা সংস্থা ‘সোনার তরী মাল্টিমিডিয়া...
গৌরবোজ্বল ইতিহাস এর ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলেছে সিলেট... এনামুল হক::সিলেট প্রেসক্লাব। সিলেটের শত বর্ষের সাংবাদিকতার স্ম...

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা আবহমান কাল থেকেই নির্যাতিত,নিপীড়িত। নারীদের যে একটা নিজস্ব জগত আছে,তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলে কিছু একটা আছে তার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। কেননা পুরুষরা কখনো চান না যে নারীরা এগিয়ে যাক। (সবাই সমান না)। বাগানের শোভা ফুল আর ঘরের শোভা নারী কথাটি খুব শোনা যায়! আচ্ছা ধরে নিলাম এটা একটা সুন্দর কথা! মেয়েরা অনেক সুন্দর, সব সময় সাজুগুজো করে থাকেন,যেখানে যান সেই জায়গা নিজের মত করে নেন; কিন্তু আমরা তাদের কতটা মূল্যায়ন করি? একশ্রেণির পুরুষ চায় নারী ঘরে থাকবে তার আবার বাইরে গিয়ে চাকুরি করার কি দরকার! কি মারাত্নক জিনিস!! একজন মেয়ে কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে মনে মনে হয়তো বিসিএস ক্যাডার /ব্যাংক/বেসরকারি প্রতিষ্টানে কাজ করার স্বপ্ন দেখছে, বিয়ের পর সেই স্বপ্নে গুড়েবালি! আরেক শ্রেণি নারীদের মতামতের কোন গ্রুরুত্বই দেয় না। পুরুষদের এই যে চিন্তাধারা এটা নতুন নয়। আজ থেকে ২ হাজার ৩০০ বছর আগে অ্যারিস্টটল বলেছিলেন, “মেয়েরা পুরুষের তুলনায় অক্ষম ও স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন।” অ্যারিস্টটলকে অনুসরণ করে যুগের পর যুগ ধরে পুরুষেরা তোতাপাখির মতো একই কথা বলে গেছেন। অনেক মানুষকে বলতে শুনি মেয়েদের বাচ্ছা-কাচ্চা লালন পালন করা ছাড়া আর কোন কাজ আছে নাকি?! ঘর গোছানো, রান্না-বান্না,বাচ্চাদের যত্ন নেয়া, দেখাশোনা এই কাজগুলো কে করে। এগুলো কি একটা অফিস সামলানো থেকে কম বড় কাজ! দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করুন। কিছুদিন আগে দেশের জনপ্রিয় একটা পত্রিকা নারীদের সামাজিক অবস্থা নিয়ে জরিপ করেছিল সেখানে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। যে ঘরের শোভা মেয়েদের বলা হয়,সেই চার দেয়ালের ভিতরের মেয়েরা বেশি নির্যাতিত। ৬৪.৫% নারীরা ঘরে স্বামী কিংবা শ্বশুরের হাতে নির্যাতনের শিকার হোন। আর ৩৪.৫% নারী কর্মক্ষেত্রে নানাবিদ নিপীরণের শিকার হোন। তাদের বেশিরভাগই সামাজিক অবস্থানের কথা বা লোকলজ্জার ভয়ে বিচার চায় না। পত্রপত্রিকা বা মিডিয়ার মাধ্যমে কিছু নির্যাতনের খবর পাই বটে, এর বাইরেও কত মেয়ে চোখের জলে বুক ভাসাচ্ছে আমাদের জানা নাই। কখনো জানতেও চাই নি হয়তো! আগে নিপীড়নগুলো,কিল-ঘুষি লাথির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এখন শরীর পুড়ানো,চোখ উপড়ে ফেলা,এসিড নিক্ষেপ করা যুক্ত হয়েছে । নারী-পুরুষের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য ১৯৭৯ সনের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘে সর্বসম্মতিতে নারীর প্রতি সকল বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডো) প্রতিষ্টিত হয়। বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে সিডোতে যোগদাব করে। যৌতুক নিরোধ আইন,পারিপারিক আইন, এসিড নিক্ষেপ আইন, বাল্যবিবাহ রোধসহ বহুবিধ আইন থাকা সত্তেও নারীর প্রতি সহিংসতা ঠেকানো যাচ্ছে না। এর কারন হিসেবে যৌতুকপ্রথা,বহুবিবাহ,মাদকাসক্তি,বেকারত্ব এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না ঘটাকে দায়ী করা যায়। তবে আমার মনে হয় নারীকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ণ না করাই নারী সহিংসতার মূল কারণ। নারীকে মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখুন। ৩।এত প্রতিবন্ধকতার পরেও নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষাদীক্ষা থেকে নিয়ে রাজনীতি,অর্থনীতি,সমাজসেবা ইত্যাদি সেক্টরে তারা ভাল করছেন। আমাদের প্রাথমিকে ভর্তি প্রায় ১০০%,এখানে মেয়ে শিশু ভর্তির হার আশাব্যঞ্জক। উচ্চ শিক্ষায়ও মেয়েরা অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প বিশ্বসেরা, এখানে ৮০% নারী শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া চা শিল্পে নারী শ্রমিক বেশি। একজন নিশাত মজুমদার কিংবা ওয়াসফিয়া নাজমীন যখন এভারেস্ট জয় করেন তখন আমরা বিস্মিত হই,অস্ফুটে মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে, অসাধারণ! আবার কেউ কেউ সমালোচনা করে বলেন,মেয়ে পাহাড়ে উঠতে গেলো কেন?! সেসব মানুষের জন্য ১ মিনিট নিরবতা! আমাদের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী নারী। এই বিপুল সংখ্যক নারীকে বাদ রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাদেরকে মুল ধারায় নিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রে একজন পুরুষ যেসব সুযোগ-সুবিধা পায়, নারীদের সেসব সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। তবেই সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে যাবে। নারীকে শুধু নারী হিসেবে মূল্যায়ন না করে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।

লেখকঃশায়খুল ইসলাম,

মাস্টার্স (পলিটিক্যাল স্টাডিজ)

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

Facebook Comments

আরো খবর

‘জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ভাবনা’... সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক :: প্রত্যেক মানুষই জীবনের লক্ষ নিয়ে ক...
তুমি কেন ঘষো আমি তাহা জানি... জসিম উদ্দিন::এক রাখাল ছেলে মাঠে গরু ছাড়িয়া দিয়া গাছতলায় বস...
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ নেয়ামতকে স্থায়ী ও বরকতময় করে... মাহমুদা নওরিন:কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা তার সাধারণ ও বিশেষ নে...
পরীমনির প্রথম ছবিতে নায়ক শাকিব খাঁন... বিনোদন ডেস্ক:: পরীমনির প্রযোজনা সংস্থা ‘সোনার তরী মাল্টিমিডিয়া...
গৌরবোজ্বল ইতিহাস এর ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলেছে সিলেট... এনামুল হক::সিলেট প্রেসক্লাব। সিলেটের শত বর্ষের সাংবাদিকতার স্ম...
error: কপি করবেন না, ধন্যবাদ