আজঃ ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - সকাল ৭:৪২

সুনামগঞ্জে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

Published: মার্চ ০২, ২০১৮ - ২:২৪ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া হাওরবেষ্টিত সীমান্ত জেলা সুনামগঞ্জে নতুন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি হবে বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনগোষ্ঠীর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক বিষয় খোলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে এরই মধ্যে আইনের খসড়া করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) জিন্নাত রেহানা বলেন, ইউজিসি আইনের খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। আমরা এখন আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মতামত নেবো।

আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। জাতীয় সংসদে আইন পাস হলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হবে। জানা গেছে, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে যুগোপযোগী একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে ইউজিসিকে গত ২৯শে নভেম্বর নির্দেশ দেয়া হয়। ইউজিসির চেয়ারম্যান আইনের খসড়া তৈরি করতে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। কমিটি আইনের খসড়া গত ৬ই ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৪ঠা অক্টোবর একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান তার নিজ জেলা সুনামগঞ্জে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি করেন। সভায় উপস্থিত থাকা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তাতে সমর্থন জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সম্মতি দেন। এরপরে অর্থ প্রতিমন্ত্রী একটি বেসরকারি চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) দেন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। ডিও লেটারে অর্থ প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষাখাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা দেশে নতুন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে।সুনামগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের একটি পশ্চাৎপদ এলাকা। শিক্ষায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা লাভের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই।পিছিয়ে থাকা সুনামগঞ্জ জেলার ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষার মান্নোন্নয়নে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সুনামগঞ্জ হাওরবেষ্টিত সীমান্তবর্তী জেলা। এ জেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম। এছাড়া চুনাপাথর ও খনিজ কয়লাসম্পদে ভরপুর। এসব বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সুনামগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুলতে এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা যায় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আধুনিক বিভাগ ও বিষয় খোলা হবে। নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হলে পিছিয়ে পড়া হাওর ও সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি সুনামগঞ্জের কোথায় স্থাপিত হবে তা এখনো পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়নি। দেশের প্রতিটি জেলায় একটি পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে দেশে ৪০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এটির অনুমোদন হলে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ৪১-এ। তবে এটি ছাড়াও আরো তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গতমাসে আরো একটি নতুন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আর গত সপ্তাহে আদালতের আদেশে বন্ধ দি কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি খুলে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে দেশে বর্তমানে ৯৭টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

Facebook Comments

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া হাওরবেষ্টিত সীমান্ত জেলা সুনামগঞ্জে নতুন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি হবে বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনগোষ্ঠীর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক বিষয় খোলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে এরই মধ্যে আইনের খসড়া করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) জিন্নাত রেহানা বলেন, ইউজিসি আইনের খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। আমরা এখন আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মতামত নেবো।

আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। জাতীয় সংসদে আইন পাস হলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হবে। জানা গেছে, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে যুগোপযোগী একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে ইউজিসিকে গত ২৯শে নভেম্বর নির্দেশ দেয়া হয়। ইউজিসির চেয়ারম্যান আইনের খসড়া তৈরি করতে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। কমিটি আইনের খসড়া গত ৬ই ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৪ঠা অক্টোবর একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান তার নিজ জেলা সুনামগঞ্জে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি করেন। সভায় উপস্থিত থাকা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তাতে সমর্থন জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সম্মতি দেন। এরপরে অর্থ প্রতিমন্ত্রী একটি বেসরকারি চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) দেন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। ডিও লেটারে অর্থ প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষাখাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা দেশে নতুন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে।সুনামগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের একটি পশ্চাৎপদ এলাকা। শিক্ষায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা লাভের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই।পিছিয়ে থাকা সুনামগঞ্জ জেলার ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষার মান্নোন্নয়নে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সুনামগঞ্জ হাওরবেষ্টিত সীমান্তবর্তী জেলা। এ জেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম। এছাড়া চুনাপাথর ও খনিজ কয়লাসম্পদে ভরপুর। এসব বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সুনামগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুলতে এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা যায় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আধুনিক বিভাগ ও বিষয় খোলা হবে। নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হলে পিছিয়ে পড়া হাওর ও সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি সুনামগঞ্জের কোথায় স্থাপিত হবে তা এখনো পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়নি। দেশের প্রতিটি জেলায় একটি পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে দেশে ৪০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এটির অনুমোদন হলে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ৪১-এ। তবে এটি ছাড়াও আরো তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গতমাসে আরো একটি নতুন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আর গত সপ্তাহে আদালতের আদেশে বন্ধ দি কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি খুলে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে দেশে বর্তমানে ৯৭টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর