আজঃ ২৬শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ - ১০ই ডিসেম্বর ২০১৮ - রাত ২:৪৯

সিলেট-৩ আসনে কে হচ্ছেন মহাজোট-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী?

Published: নভে ১৪, ২০১৮ - ১০:২৩ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনে মহাজোটের মুখোমুখি হবে ঐক্যফ্রন্ট। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় নির্বাচনের আমেজ ফিরে এসেছে।
সিলেট-৩ আসনে মহাজোট- ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হতে এ পর্যন্ত মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন আলোচিত অনেক রাজনীতিবিদ।

তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন,
আ.লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি গত নির্বাচনেও সিলেট-১ আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু নেত্রীর নির্দেশে তিনি তা প্রত্যাহার করে নেন। এবার নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ ও সিলেট-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। পূর্বে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেননি।

আ.লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বর্তমান এমপি মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তাকে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্ধ-সংঘাত চলছে। কয়েসের পিতা ও তিনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধে চলাকালীন সময়ে শান্তি কমিটিতে নিযুক্ত ছিলেন বলেও ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি করেছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু জাহিদ। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে তিনি রাজাকার কে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য অনুরোধও জানিয়েছেন।

আ.লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু জাহিদ। তিনি এর আগে তিনি একবার উপজেলা নির্বাচন করেছেন, তাতে তিনি পরাজিত হন।

আ.লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন যুক্তরাজ্য আ.লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি যুক্তরাজ্য রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও দেশের রাজনীতি তথা সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে রয়েছে তার সুসম্পর্ক। বিগত নির্বাচনে তিনি আ.লীগের পক্ষে কাজ করছেন মাঠ পর্যায়ে। এতে স্থানীয় সহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতারও মন জয় করেছেন। এর আগে তিনি নির্বাচনে কখনো অংশ নেননি।

সহকারী এটর্নি জেনারেল আব্দুর রকিব মন্টু তিনিও আ.লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। আ.লীগের নেতাকর্মী সহ সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনিও এর আগে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি।

নির্বাচনে অংশ নিতে ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম.এ হক। তিনি বিগত সময়ে ৩ বার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৯১ সালে সারাদেশে বিএনপি পাশ করলেও সিলেট-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে ৬ হাজার ভোট পেয়ে প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হন। এরপর বিএনপির আমলে সিলেট পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হলে মেয়র পদে ২ বার নির্বাচন করেও বিজয়ী হতে পারেননি। অর্থাৎ জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে তিনি সবসময় পরাজিত হয়েছেন।

বিএনপির মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম.এ সালাম। বিগত সময়ে লন্ডনে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকেও দেশে এসে নির্যাতিত নেতাকর্মীর পাশে দাড়িয়েছিলেন তিনি। ব্যারিস্টার সালাম ছাত্রদল সিলেট এমসি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তার অবদান রয়েছে। তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে বিএনপি ধানের শীষের মনোনয়ন দাবি করে আসছেন। কিন্তু দলের হাইকমান্ড তাকে অপেক্ষায় রেখেছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে একজনই ব্যারিস্টার প্রার্থী হলেন তিনি। সিলেট বিভাগের ৪/৫ জন হ্যাভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে তিনিও একজন।

বিএনপির মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী। তিনি রাজনীতির জীবনে ৬ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন। ১৯৮৬ সালে রিক্সা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করলে ১৯৯১, ১৯৯৬ (২ বার), ২০০১, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি জয়লাভ করেছিলেন। তিনি ১/১১ এর স্বৈরশাসক ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনকে কিছুদিন পূর্বে তার আমেরিকার বাসায় নিয়ে দাওয়াত খাওয়ালে ও বিগত দিনে টকশোতে তিনি গর্বের সাথে বলেন, দুনীতি মামলায় ১/১১ এর সময় খালেদা-তারেক জিয়া সহ অনেক নেতারাই জেল কাটলেও আমি জেল কাটেনি, নির্দোষ খালাস পেয়ে একদিনে মামলা শেষ করে বের হয়েছি। তার এসব কথায় দলের ইমেজ নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা। ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের মূল হোতা হিসেবে অনেকেই তাকে আখ্যায়িত করেন। এমনকি তার বাসা ও ঢাকা মতিঝিলের অফিসে হামলা, ভাংচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। আর এসব কারনেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম সমালোচিত রয়েছেন তিনি।

বিএনপির মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। তিনি বিগত সময়ে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ২ বার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। জাসদ ছাত্রলীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানের পর কেন্দ্রীয় যুবদলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, পরবর্তীতে বিভাগীয় সহ সভাপতি পদে দায়িত্বে ছিলেন।

বিএনপির মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী। তিনি ২০০১, ২০০৬ ও ২০০৮ সালে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন করেন এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন।

বিএনপির মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম.এ মালেক। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি এর আগে কখনো নির্বাচন করেননি।

অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহিয়া চৌধুরী। সিলেট-২ আসন আ.লীগ এবার ছাড় না দেয়ায় তিনি সিলেট-৩ আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছেন ২ বার। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে, পরবর্তীতে দল পবিরর্তন করে ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে নির্র্বাচন করে পরাজিত হন।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ওসমান আলী চেয়ারম্যান। তিনি গত ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেলে মহাজোটের প্রার্থী মাহমুদুস সামাদ কয়েছ চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা তোফায়েল আহমদ। তিনি এর আগে কখনো নির্বাচন করেননি।

সিলেট প্রতিদিন/ ১৪ নভেম্বর ২০১৮/এস.এ

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনে মহাজোটের মুখোমুখি হবে ঐক্যফ্রন্ট। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় নির্বাচনের আমেজ ফিরে এসেছে।
সিলেট-৩ আসনে মহাজোট- ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হতে এ পর্যন্ত মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন আলোচিত অনেক রাজনীতিবিদ।

তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন,
আ.লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি গত নির্বাচনেও সিলেট-১ আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু নেত্রীর নির্দেশে তিনি তা প্রত্যাহার করে নেন। এবার নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ ও সিলেট-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। পূর্বে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেননি।

আ.লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বর্তমান এমপি মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তাকে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্ধ-সংঘাত চলছে। কয়েসের পিতা ও তিনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধে চলাকালীন সময়ে শান্তি কমিটিতে নিযুক্ত ছিলেন বলেও ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি করেছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু জাহিদ। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে তিনি রাজাকার কে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য অনুরোধও জানিয়েছেন।

আ.লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু জাহিদ। তিনি এর আগে তিনি একবার উপজেলা নির্বাচন করেছেন, তাতে তিনি পরাজিত হন।

আ.লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন যুক্তরাজ্য আ.লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি যুক্তরাজ্য রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও দেশের রাজনীতি তথা সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে রয়েছে তার সুসম্পর্ক। বিগত নির্বাচনে তিনি আ.লীগের পক্ষে কাজ করছেন মাঠ পর্যায়ে। এতে স্থানীয় সহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতারও মন জয় করেছেন। এর আগে তিনি নির্বাচনে কখনো অংশ নেননি।

সহকারী এটর্নি জেনারেল আব্দুর রকিব মন্টু তিনিও আ.লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। আ.লীগের নেতাকর্মী সহ সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনিও এর আগে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি।

নির্বাচনে অংশ নিতে ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম.এ হক। তিনি বিগত সময়ে ৩ বার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৯১ সালে সারাদেশে বিএনপি পাশ করলেও সিলেট-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে ৬ হাজার ভোট পেয়ে প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হন। এরপর বিএনপির আমলে সিলেট পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হলে মেয়র পদে ২ বার নির্বাচন করেও বিজয়ী হতে পারেননি। অর্থাৎ জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে তিনি সবসময় পরাজিত হয়েছেন।

বিএনপির মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম.এ সালাম। বিগত সময়ে লন্ডনে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকেও দেশে এসে নির্যাতিত নেতাকর্মীর পাশে দাড়িয়েছিলেন তিনি। ব্যারিস্টার সালাম ছাত্রদল সিলেট এমসি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তার অবদান রয়েছে। তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে বিএনপি ধানের শীষের মনোনয়ন দাবি করে আসছেন। কিন্তু দলের হাইকমান্ড তাকে অপেক্ষায় রেখেছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে একজনই ব্যারিস্টার প্রার্থী হলেন তিনি। সিলেট বিভাগের ৪/৫ জন হ্যাভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে তিনিও একজন।

বিএনপির মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী। তিনি রাজনীতির জীবনে ৬ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন। ১৯৮৬ সালে রিক্সা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করলে ১৯৯১, ১৯৯৬ (২ বার), ২০০১, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি জয়লাভ করেছিলেন। তিনি ১/১১ এর স্বৈরশাসক ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনকে কিছুদিন পূর্বে তার আমেরিকার বাসায় নিয়ে দাওয়াত খাওয়ালে ও বিগত দিনে টকশোতে তিনি গর্বের সাথে বলেন, দুনীতি মামলায় ১/১১ এর সময় খালেদা-তারেক জিয়া সহ অনেক নেতারাই জেল কাটলেও আমি জেল কাটেনি, নির্দোষ খালাস পেয়ে একদিনে মামলা শেষ করে বের হয়েছি। তার এসব কথায় দলের ইমেজ নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা। ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের মূল হোতা হিসেবে অনেকেই তাকে আখ্যায়িত করেন। এমনকি তার বাসা ও ঢাকা মতিঝিলের অফিসে হামলা, ভাংচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। আর এসব কারনেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম সমালোচিত রয়েছেন তিনি।

বিএনপির মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। তিনি বিগত সময়ে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ২ বার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। জাসদ ছাত্রলীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানের পর কেন্দ্রীয় যুবদলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, পরবর্তীতে বিভাগীয় সহ সভাপতি পদে দায়িত্বে ছিলেন।

বিএনপির মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী। তিনি ২০০১, ২০০৬ ও ২০০৮ সালে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন করেন এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন।

বিএনপির মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম.এ মালেক। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি এর আগে কখনো নির্বাচন করেননি।

অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহিয়া চৌধুরী। সিলেট-২ আসন আ.লীগ এবার ছাড় না দেয়ায় তিনি সিলেট-৩ আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছেন ২ বার। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে, পরবর্তীতে দল পবিরর্তন করে ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে নির্র্বাচন করে পরাজিত হন।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ওসমান আলী চেয়ারম্যান। তিনি গত ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেলে মহাজোটের প্রার্থী মাহমুদুস সামাদ কয়েছ চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা তোফায়েল আহমদ। তিনি এর আগে কখনো নির্বাচন করেননি।

সিলেট প্রতিদিন/ ১৪ নভেম্বর ২০১৮/এস.এ

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর