আজঃ ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - দুপুর ২:১৭

সিলেট আওয়ামী লীগে ‘প্রার্থীর অপেক্ষা’

Published: সেপ্টে ০৮, ২০১৮ - ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ২৭ ডিসেম্বর। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে।

নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে এই বিতর্ক থাকলেও এটা অন্তত নিশ্চিত, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশে আরেকটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর সে নির্বাচনের জন্য সিলেটে নিজেদের প্রস্তুতি কিছুটা সম্পন্ন করে রেখেছে আওয়ামী লীগ।

এখন কেন্দ্র থেকে শুধু নির্বাচনে প্রার্থী কারা, সেই ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন এখানকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনেও দলটি বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করতে চায়। এ লক্ষ্যে সিলেটের ছয়টি আসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চায় আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ সূত্র বলছে, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির সাথে আবারও আওয়ামী লীগের জোট হতে পারে।

যদি তা হয়, তবে সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে দু-একটি আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে। গত নির্বাচনেও সিলেট-২ ও সিলেট-৫ আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে এবার সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগ নিজদলীয় প্রার্থীই দিতে চায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি।

সূত্র জানায়, সিলেটের আসনগুলোতে কাদেরকে দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী করা হবে, তা ঠিক করে রেখেছে আওয়ামী লীগ। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য, জনপ্রিয়, দলের জন্য নিবেদিপ্রাণ এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতাদেরকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠিক করে রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সিলেটের স্থানীয় নেতাদের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনও সংগ্রহ করেছে।

এদিকে, নির্বাচনের মাঠে নামার জন্য সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা বলছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আওয়ামী লীগ যাদেরকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দেবে, তাদের পক্ষে জোরেশোরে প্রচারণায় নামা হবে। এবার নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, এমনটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এজন্য কোনো ধরনের অনৈক্য বা বিভক্তি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সচেষ্ট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় একটি সিলেট সফরে আসে। সিলেটের নেতাদের সাথে বৈঠক করে ওই টিম। সে বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য কোন পথে এগোতে হবে, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা, প্রচারণা চালানো প্রভৃতি নানা বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশনা জানিয়ে দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্বাচনে সিলেটে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট কারা হবেন, তাদেরকে কিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, সে বিষয়েও দলের একটি টিম কাজ করছে। এছাড়া নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন ধাপে কমিটিও করা হবে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এভাবে কয়েক ধাপে থাকবে নির্বাচনী কমিটি। কমিটিগুলোর কার্যক্রম দেখভালে থাকবে মনিটরিং সেলও।

সামগ্রিক বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনমুখী দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনের জন্য সবসময়ই প্রস্তুত থাকে। সিলেটে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এখন জাতীয় নির্বাচনের মাঠে নামতে মুখিয়ে আছেন। কেন্দ্র থেকে প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পরপরই সবাই কাজে নেমে পড়বেন। প্রার্থী যেই হোক, তার পক্ষেই কাজ করবেন নেতাকর্মীরা।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয়েই আমাদের খেয়াল রয়েছে। আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।’

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ২৭ ডিসেম্বর। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে।

নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে এই বিতর্ক থাকলেও এটা অন্তত নিশ্চিত, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশে আরেকটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর সে নির্বাচনের জন্য সিলেটে নিজেদের প্রস্তুতি কিছুটা সম্পন্ন করে রেখেছে আওয়ামী লীগ।

এখন কেন্দ্র থেকে শুধু নির্বাচনে প্রার্থী কারা, সেই ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন এখানকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনেও দলটি বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করতে চায়। এ লক্ষ্যে সিলেটের ছয়টি আসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চায় আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ সূত্র বলছে, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির সাথে আবারও আওয়ামী লীগের জোট হতে পারে।

যদি তা হয়, তবে সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে দু-একটি আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে। গত নির্বাচনেও সিলেট-২ ও সিলেট-৫ আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে এবার সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগ নিজদলীয় প্রার্থীই দিতে চায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি।

সূত্র জানায়, সিলেটের আসনগুলোতে কাদেরকে দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী করা হবে, তা ঠিক করে রেখেছে আওয়ামী লীগ। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য, জনপ্রিয়, দলের জন্য নিবেদিপ্রাণ এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতাদেরকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠিক করে রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সিলেটের স্থানীয় নেতাদের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনও সংগ্রহ করেছে।

এদিকে, নির্বাচনের মাঠে নামার জন্য সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা বলছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আওয়ামী লীগ যাদেরকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দেবে, তাদের পক্ষে জোরেশোরে প্রচারণায় নামা হবে। এবার নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, এমনটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এজন্য কোনো ধরনের অনৈক্য বা বিভক্তি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সচেষ্ট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় একটি সিলেট সফরে আসে। সিলেটের নেতাদের সাথে বৈঠক করে ওই টিম। সে বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য কোন পথে এগোতে হবে, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা, প্রচারণা চালানো প্রভৃতি নানা বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশনা জানিয়ে দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্বাচনে সিলেটে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট কারা হবেন, তাদেরকে কিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, সে বিষয়েও দলের একটি টিম কাজ করছে। এছাড়া নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন ধাপে কমিটিও করা হবে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এভাবে কয়েক ধাপে থাকবে নির্বাচনী কমিটি। কমিটিগুলোর কার্যক্রম দেখভালে থাকবে মনিটরিং সেলও।

সামগ্রিক বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনমুখী দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনের জন্য সবসময়ই প্রস্তুত থাকে। সিলেটে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এখন জাতীয় নির্বাচনের মাঠে নামতে মুখিয়ে আছেন। কেন্দ্র থেকে প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পরপরই সবাই কাজে নেমে পড়বেন। প্রার্থী যেই হোক, তার পক্ষেই কাজ করবেন নেতাকর্মীরা।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয়েই আমাদের খেয়াল রয়েছে। আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।’

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর