শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিকতায় নৈতিক শিক্ষার মূল্যবোধ…

সাংবাদিকতায় নৈতিক শিক্ষার মূল্যবোধ…

জহির খান :: সাংবাদিক আর গণমাধ্যম। পারস্পারিক অবস্থান সন্নিকটে হলেও আপাত দৃষ্টিতে তা এক বিশেষ দূরত্বের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। অনুমান নয়-বাস্তবিকতায় সাংবাদিকদের নিয়ে অন্যান্য শ্রেণীপেশার মতোই বৈষম্য দেখা দিয়েছে। মুক্তবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা মুক্তচিন্তার সাংবাদিকরা নিজের অবস্থানকে নিজেরাই নিচের দিকে ধাবিত করছেন প্রতিনিয়ত ।

গণমাধ্যমের বহুল প্রচারের নতুনত্বে ‘বিশেষ’ পরিবর্তন আনতে রীতিমত প্রতিযোগীতায় মেতে উঠছেন তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীরা। বিরূদ্ধচারণ নয়,সজাগ দৃষ্টিতে যারা নিত্য সংবাদকে ‘বিশেষায়িত’ করে প্রকাশ করেন,তারাই বা নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে একজন আদর্শিক সাংবাদিক হতে পারেন ? তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে সহজপন্থায় প্রকাশের জন্যও এই পথ বেছে নিয়েছেন অনেকেই। বলে রাখা ভালো ‘সাংবাদিকদের কোনো শত্রু নেই’ ! যেখানে নিজেদের ভিতরেই হিংসাত্বক মনোভাবের কালিমালেপন চলে তুমুলভাবে সেখানে বাইরের শত্রু হওয়া কল্পনাতিত।

‘রাস্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ বলে যারা মুখে ফেনা তুলছেন প্রতিনিয়ত; তারাই এই মহত্‍ পেশাকে অবজ্ঞা করে চলেছেন। হিংসাত্বক মনোভাব যখন চরমে পৌঁছায় তখন ‘অভিজ্ঞ’ সাংবাদিকদেরও ধুয়ে দেন অন্যান্য শ্রেণীপেশার মানুষরা। সাংবাদিকতা পেশা না নেশা এটা ঠিকঠাক বুঝতে পারলে নিজেকে এই মিডিয়া হাউজে খুব পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব। রাতারাতি স্বার্থ সিদ্ধি কিংবা নিজের অপরাধ ঢেকে রাখার জায়গা নয় এই হাউজ।

অনেক গণমাধ্যম তাদের সংবাদ কর্মীকে শুধু নামমাত্র বেতনভূক্ত করে কাজ আদায় করে নিতে চায়, যা দিয়ে ঐ সংবাদ কর্মীর নূন্যতম চলা দূরের কথা একটা পূর্ণ এস্যাইনম্যান্ট করে দেওয়া সম্ভব হয়না। তাই নিজের দক্ষতাকে ধরে রাখতে বড় মিডিয়া হাউজকে লক্ষ্য না করে নিজের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করুন। ভালো কিছু আসবেই খুব তাড়াতাড়ি না হলেও। সবকিছুতেই একসাথে জানতে অথবা করতে হবে এমন না ভেবে নিজের একটা ক্যাটাগরি গড়ে তুলুন হউক সেটা রাজনীতি, ফিচার, খেলাধুলা কিংবা ছবি তোলা। বেঁছে নিতে হবে যেখানে নিজের আগ্রহ আছে, কাজ করার মতো পরিবেশ আছে তবে তা যে সবসময় অনুকূলে থাকবে এমন নয়, মাঝে মধ্যে স্রোতের বিপরীতে ঠিকে থাকার মতো দৃঢ় মনোবল থাকতে হবে।

জনমতের সাথে অনেক বিষয় নির্ভরশীল। যেমন দেশের উন্নয়নগত সিদ্ধান্ত সমাজের মানুষের ভবিষ্যৎ। তাই জনমত গঠনের সময় একজন সাংবাদিককে খুবই সচেতন থাকতে হয়। কারণ একজন সাংবাদিকই পারেন সঠিক এবং উন্নয়নমূলক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে। যিনি সাংবাদিক তাকে সংবাদ তৈরি করতে হবে দেশপ্রেমের জায়গা থেকে, জনকল্যাণের জায়গা থেকে এবং তা অবশ্যই সততার সাথে। জানি এটাকে পেশা আর নেশা যাই বলিনা কেনো, অন্য পেশায় যারা চলে গেছেন এই হাঊজ ছেড়ে তারা কখনোই সাংবাদিকতার নেশা একেবারে ছুঁড়ে ফেলতে পারবেন না। যারা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িয়ে আছেন অন্তত নিজের ক্ষেত্রকে সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করবেন। এতে আত্মখ্যাতি না বাড়লেও আত্মমর্যাদা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

একটা ছোট কথায় শেষ করছি ছন্নছাড়া এই সংক্ষিপ্ত লেখাকে, নদীমাতৃক এই দেশের প্রতিটা নদী যেমন বয়ে গেছে সভ্যতার বুক চিরে, তেমনি দুর্নীতির করালগ্রাস থেকেও রেহাই পায়নি ‘কথিত’ সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমগুলো। বিবেকচারণে নিজেকে শুধরে অন্তত একজন অনুসরণীয় সাংবাদিক হয়ে উঠুন। যাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামী প্রজন্ম বেছে নেবে তাদের আদর্শিক একজন সাংবাদিককে।

নিউজটি শেয়ার করুন






© All rights reserved © 2019 sylhetprotidin24