আজঃ ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - দুপুর ২:১৪

সরকারি বিদ্যালয়ে ব্ল্যাক বোর্ডের বদলে দরজার ভাঙ্গা কপাট!

Published: আগ ১৮, ২০১৮ - ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

রাজন চন্দ, তাহিরপুর :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ইউনুছপুর ধুরুন্ধ কাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। হাওর বেষ্টিত তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের অবহেলিত ৩ টি গ্রামের (ইউনুছপুর ধুরুন্ধ কাঞ্চনপুর) মধ্যবর্তী স্থানে বিদ্যালয়টির অবস্থান।

যে স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদানের জন্য ব্ল্যাক বোর্ডের বদলে দরজার “ভাঙ্গা কপাট” ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানে একটু বৃষ্টি হলেই স্কুলের শিক্ষকগন মাথায় ছাতা নিয়ে পাঠদান করতে হয়। স্কুলে বসবার জন্য কোন জায়গা পাওয়া দুষ্কর ব্যাপার। যে বিদ্যালয়ে একটু বৃষ্টি হলেও দিনব্যাপী শ্রেণীকক্ষের বৃষ্টি বন্ধ হয় না, চেয়ার টেবিল ভিজে থাকায় ছাত্র ছাত্রীদের বই খাতা রাখা অথবা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বেঞ্চের মধ্যে খাতা রাখা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিদিনই কংক্রিটের টুকরো খসে পড়ার আতংকের মধ্য দিয়েই বর্তমানে ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩২৯ জন ছাত্র/ছাত্রী অধ্যয়নরত । প্রধান শিক্ষক সহ মোট ৫ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণ হয় ১৯৯৪ সালে। নির্মাণের দুই যুগ পেরিয়ে গিয়ে বিদ্যালয় ভবনের বেহাল অবস্থা হলেও আজ পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্র মনির জানায়- গত কিছুদিন পূর্বে আমাদের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ২টার পরীক্ষা ৩টার সময় দিয়েছি। তাও আমার পরীক্ষার খাতা বৃষ্টির পানিতে ভিজে গিয়েছিল।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নবী হোসেন বলেন- বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার আবেদন করলেও এখনও পর্যন্ত কোন ফলপ্রসূ আশ্বাস পাইনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুখসানা আক্তার জানান- আমি চলতি দায়িত্বে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকেই আমি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে উপজেলার সকল পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি।

তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবু সাঈদ জানান- নতুন ভবন নির্মাণের জন্য যে তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে তার মধ্যে এই বিদ্যালয়টির নাম রয়েছে।

Facebook Comments

রাজন চন্দ, তাহিরপুর :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ইউনুছপুর ধুরুন্ধ কাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। হাওর বেষ্টিত তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের অবহেলিত ৩ টি গ্রামের (ইউনুছপুর ধুরুন্ধ কাঞ্চনপুর) মধ্যবর্তী স্থানে বিদ্যালয়টির অবস্থান।

যে স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদানের জন্য ব্ল্যাক বোর্ডের বদলে দরজার “ভাঙ্গা কপাট” ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানে একটু বৃষ্টি হলেই স্কুলের শিক্ষকগন মাথায় ছাতা নিয়ে পাঠদান করতে হয়। স্কুলে বসবার জন্য কোন জায়গা পাওয়া দুষ্কর ব্যাপার। যে বিদ্যালয়ে একটু বৃষ্টি হলেও দিনব্যাপী শ্রেণীকক্ষের বৃষ্টি বন্ধ হয় না, চেয়ার টেবিল ভিজে থাকায় ছাত্র ছাত্রীদের বই খাতা রাখা অথবা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বেঞ্চের মধ্যে খাতা রাখা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিদিনই কংক্রিটের টুকরো খসে পড়ার আতংকের মধ্য দিয়েই বর্তমানে ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩২৯ জন ছাত্র/ছাত্রী অধ্যয়নরত । প্রধান শিক্ষক সহ মোট ৫ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণ হয় ১৯৯৪ সালে। নির্মাণের দুই যুগ পেরিয়ে গিয়ে বিদ্যালয় ভবনের বেহাল অবস্থা হলেও আজ পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্র মনির জানায়- গত কিছুদিন পূর্বে আমাদের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ২টার পরীক্ষা ৩টার সময় দিয়েছি। তাও আমার পরীক্ষার খাতা বৃষ্টির পানিতে ভিজে গিয়েছিল।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নবী হোসেন বলেন- বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার আবেদন করলেও এখনও পর্যন্ত কোন ফলপ্রসূ আশ্বাস পাইনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুখসানা আক্তার জানান- আমি চলতি দায়িত্বে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকেই আমি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে উপজেলার সকল পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি।

তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবু সাঈদ জানান- নতুন ভবন নির্মাণের জন্য যে তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে তার মধ্যে এই বিদ্যালয়টির নাম রয়েছে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর