আজঃ ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ - ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ - রাত ৪:৫০

সব নথিই বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে, তবুও সত্য জানতে প্রকাশ করছি: প্রধানমন্ত্রী

Published: সেপ্টে ০৭, ২০১৮ - ১০:১২ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তান ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের সব নথিই বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে, তবুও প্রকাশ করছি মানুষ যেন সত্যকে আবিষ্কার করতে পারে।

বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে তৎকালীন পাকিস্তান ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের গোপন নথি নিয়ে ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে ১৪ খণ্ডের বইয়ের প্রথম খন্ডের মোকড় উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে গণভবন প্রাঙ্গণে বইটির প্রকাশনা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে বইয়ের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করেন বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা।

নথিগুলো বই আকারে প্রকাশের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবই ওনার বিপক্ষে। বিপক্ষে জেনেও আমি প্রকাশনায় নিয়ে এসেছি এই কারণে যে, এর ভেতর থেকে বাংলাদেশের জনগণ সত্যটাকে জানতে পারবে। সত্যকে আবিষ্কার করতে পারবে। বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটাতো পক্ষের কিছু না সবই তার (বঙ্গবন্ধুর) বিরুদ্ধে রিপোর্ট, আর বিরুদ্ধ রিপোর্টের মধ্যে দিয়ে আমার মনে হয়, সব থেকে মূল্যবান তথ্য আবিষ্কার করতে পারবো। যেমন, কয়লা খনি খুঁড়ে খুঁড়ে হীরা বেরিয়ে আসে। হীরা খনিতে পাওয়া যায়। আমার মনে হয়েছে— ঠিক সেভাবে আমরা হীরার খনি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি।’

‘এই ডকুমেন্টের মধ্যে উনি যে কাজগুলো করে গেছেন তার অনেক কিছু পাবো। সবার হাতে তুলে দিতে পারলাম, বাংলাদেশের জনগণ যেন জানতে পারে।’

নথিগুলোতে অমূল্য তথ্য ভাণ্ডার রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৪৬টি ফাইল, ৪০ হাজারের মতো পাতা। সেগুলোকে বসে এডিট করে করে এর যেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আজকে আমরা তা প্রকাশ করতে পেরেছি।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের রিপোর্ট সবই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধ। বিরুদ্ধের এই রিপোর্ট আমরা কেন প্রকাশ করলাম, এটা অনেকের মনে আসতে পারে। পৃথিবীতে কোথাও কোনও দেশে কেউ কখনও কোনও নেতার বিরুদ্ধে রিপোর্ট হলে সেটা প্রকাশ করেছে কিনা। আমার মনে হয় আজ  পর্যন্ত কেউ করেনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার আগ্রহ এই কারণে যে এই রিপোর্টের মধ্য ১৯৪৮ সাল থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত জাতির পিতার প্রতিটি কর্মকাণ্ড, গতিবিধি, কোথায় গিয়েছেন, কোন মিটিং করেছেন, কোথায় কী বলেছেন— তার অনেক তথ্য সেখানে আছে। যে সব চিঠি জাতির পিতার কাছে গেছে, তার অধিকাংশ বাজেয়াপ্ত করা ছিল এবং অনেক চিঠি যেগুলো প্রাপকের কাছে কোনোদিন পৌঁছেনি। কিন্তু সেই চিঠিপত্রগুলোও পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের বহু নেতা-কর্মীর নাম এখানে পাওয়া যাচ্ছে।’

‘এসব তথ্যের সবই আমরা প্রকাশ করছি।৭১ পর্যন্ত সব তথ্যগুলো আছে’, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টার হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সত্যকে কখনও চাপা দেওয়া যায় না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এমনকি ভাষা আন্দোলন নিয়ে এমন কথা বলা হয়েছে যে, উনি তো জেলে ছিলেন ভাষা আন্দোলনে কী করলেন। এই যে মানুষের একটা বৈরি চিন্তাভাবনা আমি আশা করি, এই ডকুমেন্টগুলো পেলে পরে সত্যটা জানতে পারবে।’

বঙ্গবন্ধুর পেছনে সব সময় পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার লেগে থাকার কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিটি জায়গায় বৈষম্য ও  মানুষের বঞ্চনার কথা তুলে ধরতেন যে, আমরা সংখ্যায় বেশি অথচ আমরা সব জায়গা থেকে বঞ্চিত। বঞ্চনার বিরুদ্ধে তিনি লড়াই সংগ্রাম করেছেন, সোচ্চার হয়েছেন। আর এ কারণেই মনে হয় যে তার প্রতি একটি বৈরি মনোভাব ছিল। তার ফলাফলটা ছিল এই— তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা সব সময় সক্রিয় ছিল। ’

‘তার প্রতিটি কাজের রিপোর্ট তৈরি করতো পাকিস্তান ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ, আর এই রিপোর্ট তারা ওপর মহলে পাঠাতো। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হতো। তাকে কারাগারে বন্দি করা হতো।’

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

অন্যান্যের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন— স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) দায়িত্বপালনের সময় এসব গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংগ্রহে সহায়তাকারী বর্তমান পুলিশের মহাপরিদর্শক  মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম খান, হাক্কানী পাবলিশার্সের প্রকাশক গোলাম মোস্তফা।

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তান ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের সব নথিই বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে, তবুও প্রকাশ করছি মানুষ যেন সত্যকে আবিষ্কার করতে পারে।

বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে তৎকালীন পাকিস্তান ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের গোপন নথি নিয়ে ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে ১৪ খণ্ডের বইয়ের প্রথম খন্ডের মোকড় উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে গণভবন প্রাঙ্গণে বইটির প্রকাশনা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে বইয়ের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করেন বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা।

নথিগুলো বই আকারে প্রকাশের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবই ওনার বিপক্ষে। বিপক্ষে জেনেও আমি প্রকাশনায় নিয়ে এসেছি এই কারণে যে, এর ভেতর থেকে বাংলাদেশের জনগণ সত্যটাকে জানতে পারবে। সত্যকে আবিষ্কার করতে পারবে। বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটাতো পক্ষের কিছু না সবই তার (বঙ্গবন্ধুর) বিরুদ্ধে রিপোর্ট, আর বিরুদ্ধ রিপোর্টের মধ্যে দিয়ে আমার মনে হয়, সব থেকে মূল্যবান তথ্য আবিষ্কার করতে পারবো। যেমন, কয়লা খনি খুঁড়ে খুঁড়ে হীরা বেরিয়ে আসে। হীরা খনিতে পাওয়া যায়। আমার মনে হয়েছে— ঠিক সেভাবে আমরা হীরার খনি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি।’

‘এই ডকুমেন্টের মধ্যে উনি যে কাজগুলো করে গেছেন তার অনেক কিছু পাবো। সবার হাতে তুলে দিতে পারলাম, বাংলাদেশের জনগণ যেন জানতে পারে।’

নথিগুলোতে অমূল্য তথ্য ভাণ্ডার রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৪৬টি ফাইল, ৪০ হাজারের মতো পাতা। সেগুলোকে বসে এডিট করে করে এর যেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আজকে আমরা তা প্রকাশ করতে পেরেছি।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের রিপোর্ট সবই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধ। বিরুদ্ধের এই রিপোর্ট আমরা কেন প্রকাশ করলাম, এটা অনেকের মনে আসতে পারে। পৃথিবীতে কোথাও কোনও দেশে কেউ কখনও কোনও নেতার বিরুদ্ধে রিপোর্ট হলে সেটা প্রকাশ করেছে কিনা। আমার মনে হয় আজ  পর্যন্ত কেউ করেনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার আগ্রহ এই কারণে যে এই রিপোর্টের মধ্য ১৯৪৮ সাল থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত জাতির পিতার প্রতিটি কর্মকাণ্ড, গতিবিধি, কোথায় গিয়েছেন, কোন মিটিং করেছেন, কোথায় কী বলেছেন— তার অনেক তথ্য সেখানে আছে। যে সব চিঠি জাতির পিতার কাছে গেছে, তার অধিকাংশ বাজেয়াপ্ত করা ছিল এবং অনেক চিঠি যেগুলো প্রাপকের কাছে কোনোদিন পৌঁছেনি। কিন্তু সেই চিঠিপত্রগুলোও পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের বহু নেতা-কর্মীর নাম এখানে পাওয়া যাচ্ছে।’

‘এসব তথ্যের সবই আমরা প্রকাশ করছি।৭১ পর্যন্ত সব তথ্যগুলো আছে’, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টার হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সত্যকে কখনও চাপা দেওয়া যায় না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এমনকি ভাষা আন্দোলন নিয়ে এমন কথা বলা হয়েছে যে, উনি তো জেলে ছিলেন ভাষা আন্দোলনে কী করলেন। এই যে মানুষের একটা বৈরি চিন্তাভাবনা আমি আশা করি, এই ডকুমেন্টগুলো পেলে পরে সত্যটা জানতে পারবে।’

বঙ্গবন্ধুর পেছনে সব সময় পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার লেগে থাকার কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিটি জায়গায় বৈষম্য ও  মানুষের বঞ্চনার কথা তুলে ধরতেন যে, আমরা সংখ্যায় বেশি অথচ আমরা সব জায়গা থেকে বঞ্চিত। বঞ্চনার বিরুদ্ধে তিনি লড়াই সংগ্রাম করেছেন, সোচ্চার হয়েছেন। আর এ কারণেই মনে হয় যে তার প্রতি একটি বৈরি মনোভাব ছিল। তার ফলাফলটা ছিল এই— তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা সব সময় সক্রিয় ছিল। ’

‘তার প্রতিটি কাজের রিপোর্ট তৈরি করতো পাকিস্তান ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ, আর এই রিপোর্ট তারা ওপর মহলে পাঠাতো। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হতো। তাকে কারাগারে বন্দি করা হতো।’

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

অন্যান্যের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন— স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) দায়িত্বপালনের সময় এসব গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংগ্রহে সহায়তাকারী বর্তমান পুলিশের মহাপরিদর্শক  মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম খান, হাক্কানী পাবলিশার্সের প্রকাশক গোলাম মোস্তফা।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর