সফলতার দেড় যুগ পেরিয়ে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি…..

sylpro24
sylpro24
বর্তমান সরকারের অনেকগুলো সফলতার মধ্যে অন্যতম হলো শিক্ষাখাত। শিক্ষা খাতের বিভিন্ন স্তরে সফলতা অর্জিত হওয়ায় দেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনে অনুকূল পরিবেশ গড়ে উঠেছে। এর প্রতিফলনে লক্ষ্য করা যায় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও আনুকূল্যে দেড় যুগের স্থায়ী ক্যাম্পাসের যাত্রায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। বিশেষ করে ভৌত অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে আধুনিক স্থাপত্য ও নান্দনিকতাসমৃদ্ধ যেসব ভবন এখানে নির্মিত হয়েছে সেগুলো নয়নাভিরাম ও মনোমুগ্ধকর। ক্যাম্পাসে নবনির্মিত ভবনগুলোর স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত সুন্দর ও অত্যাধুনিক হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খুব দ্রুত। সুরম্য একাডেমিক ভবনের প্রত্যেকটি দু’ভাগে বিভক্ত। যা এই ভবনের ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য।
২০০১ সালে সিলেট শহরে বাগবাড়ি শামীমাবাদ এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এই ইউনিভার্সিটিই সিলেট বিভাগের সর্ব প্রথম বেসরকারি ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠান পর থেকেই বিভিন্ন অনুষদের পাশাপাশি আইন অনুষদ ইউনিভার্সিটির সুনাম বৃদ্ধি করছে। প্রতি বছরই এই প্রতিষ্ঠান থেকে কৃতিত্বের সাথে পাশ করে আইন পেশায় নিযুক্ত হচ্ছেন বহু ছাত্র।
বর্তমানে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পছন্দ এবং গুণগত শিক্ষা প্রদান করতে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি  প্রশংসার দাবি রাখে। সিলেট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরুর প্রথম দিকেই ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানকার বিভিন্ন ভবনে চলে গবেষণা, বাইরে আছে আড্ডার আস্তানা। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে স্থাপত্যশৈলির অন্যতম নিদর্শনে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গড়েছে সৃজনশীল জ্ঞানের এক কারখানা। সদ্য মাস্টার্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী ফারুক আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন। বলেলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে হতো ল্যাবে।
ল্যাব শেষ করে যখন সবুজ প্রকৃতির কোল বেয়ে চলতাম তখন দূর হয়ে যেতো সকল ক্লান্তি। ক্যাম্পাসের আকর্ষণটাই বাড়িয়ে দিয়েছে সবুজ প্রকৃতি। যেখানে সবুজেরই ফাঁকে ফাঁকে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন নান্দনিক ভবন ও স্থাপত্য তৈরি হয়েছে ভালোবাসার এক সীমাহীন সম্পর্ক। সবার জীবনে স্বপ্ন থাকে। থাকে স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা। বিশ্ববিদ্যালয় স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান সিঁড়ি যদি হয় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। তাহলে তো কথাই নেই সফলতা প্রতিভার প্রদীপ ভিন্নধরার আলোকবর্তিকা উদিত হবে। স্বভাবতই এ সিঁড়িতে পা দিতেই হৃদয়ে আনন্দ উচ্ছ্বাস বয়ে যায়। নতুন করে শুরু হয় পথচলা। আর এ সিঁড়ি যদি হয় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তাহলে আর কী চাওয়ার থাকে সৃজনশীলতা? উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে সিলেটের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা এসব নবীন ছাত্রছাত্রীদের চোখে মুখে ফুটে উঠে নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন। নবাগত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিভাগ আলাদা আলাদভাবে বরণ করে নিয়ে থাকে স্বপ্ন জাগানিয়া ক্যম্পাস।
আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের কোলাহল মিলিয়ে গিয়ে নতুন স্বপ্ন জাগানিয়া স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত। ক্যাম্পাসে স্বপ্নের হাতছানি  ডাকছে সিলেট সিলেট  ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি  সফলতার দেড় যুগ যাবত  দিনে দিনে সমৃদ্ধ হয়েছে এর প্রতিটি পথ। একাডেমিক কৃতিত্বে বর্ণিল হয়েছে এর যাত্রা। পেছনে রয়েছে শিক্ষা গবোষণার নান্দনিক পরিবেশ নিত্য নতুনসংযোজন ও সুষ্ঠ প্রতিভা মেলবন্ধন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা এসব শিক্ষার্থী বলেন, এখানে ভর্তি হতে পেরে গর্ববোধ করছে। ক্যম্পাসে ঢুকেই শিক্ষার্থী অনিক তালুকদার ভাপন জানালেন, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করার জন্য পড়াশোনার বিকল্প নাই। প্রতিযোগিতায় নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উপায় হলো সুনির্দিষ্ট ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। তবে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। তার সাথে তাল মিলিয়ে আরেক শিক্ষার্থী এ.এম. শাহরিয়ার জানান, স্বপ্ন হাতের মুঠোয় এসেছে। এখন সময় এসেছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। এগিয়ে এসে আরেক শিক্ষার্থী সানজিদা জানালেন তার স্বপ্নের কথা, ‘আমার জীবনের লক্ষ্য একজন আইনজীবী হওয়া। তাই এখানে ভর্তি হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এদিকে কথায় কথায় শিক্ষার্থী আবির, রেদওয়ান, তারেক, মাহফুজরা বলেন, স্বপ্নের ক্যাম্পাসে ভর্তি হয়ে নতুন নতুন স্বপ্ন দেখে চলেছে সবাই। কেউ কেউ বিসিএস ক্যাডার হতে চান। কেউ বা অর্থনীতিবিদ আবার কেউ বিজ্ঞানী। এমন স্বপ্ন ওদের চোখেই মানায়। স্বপ্ন পূরণের চিন্তায় সবাই বিভোর। এই সব স্বপ্নিল তরুণ-তরুণীদের স্বপ্নের উড়ালটা পূর্ণতা পাবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার মাধ্যমে।
ভালো ফলাফল ও প্রতিযোগিতার যুদ্ধে সাফল্য লাভ করতে ভালো শিক্ষক ও শিক্ষাঙ্গণে সুষ্ঠু পরিবেশের বিকল্প নেই। আর এ বিষয়টি লক্ষ্য রেখেই অত্র এলাকার সর্বস্তরের ছেলে মেয়ের মেধা বিকাশের মাধ্যমে তাদেরকে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে মেধাবী মুখের পদধুলিতে ক্যাম্পাস যেন একটি মুক্তা মালার ন্যায় শোভা পাচ্ছে। সকাল সাড়ে দশটা। দরজা দিয়ে ভিতরে গেলেই হাতের বাম পাশটাই শিক্ষার্থীদের বসে পড়ার ব্যবস্থা। সেখানে চেয়ারে বসা ২০ জনের মধ্যে ১০ শিক্ষার্থী নিজেদের মধ্যে পড়াশুনা নিয়ে কথা বলছেন। হাতের ডান পাশে ব্যবস্থা আছে পত্রিকা পড়ার। তাই শিক্ষার্থীদের ভিড়টা এই দিকে বেশি। দেশের দশ থেকে ১৩টি জাতীয় পত্রিকা পড়ার সুযোগ হয় শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজনকে দেখা গেল খুব মনোযোগ দিয়ে পত্রিকায় কি যেন দেখছে। এটি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির  ‘মুক্তিযুদ্ধা কর্ণার’  কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার’ প্রতিদিন লাইব্রেরী কার্ড ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা এ কর্ণারে প্রবেশের সুযোগ পায়। সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকে কর্ণারটি। এ কর্ণারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রায় অনেক বই সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে জানার পাশাপাশি বিভিন্ন জার্নাল, শব্দকোষ (ডিকশনারি), ম্যাগাজিন, সাময়িকী পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর পাশে স্থাপিত এ কর্ণারে ভাষা আন্দোলনসহ দেশ স্বাধীনের সব আন্দোলনের বই রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারে দায়িত্বরত সুবিনয় আচার্য রাজু প্রতিদিন প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী এ কর্ণারে আসে বলে জানান, “সকালের দিকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির চাপটা বেশি থাকে”। বিবিএ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারে প্রতিদিন আসা হয় না। যখনই সময় পাই চলে আসি এখানে। মুক্তিযুদ্ধের অনেক ভালো বই দেখলাম। তবে মুক্তিযুদ্ধের আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই সংরক্ষণ করা উচিৎ”।
বেসরকারি এই ইউনিভার্সিটিতে দিবা ও সন্ধ্যাকালী দু’টি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। ইউনিভার্সিটিতে আইন অনুষদসহ চারটি অনুষদ রয়েছে। অন্যান্য অনুষদের চেয়ে আইন অনুষদটি সুনামের সাথে প্রতি বছর ভালো ফলাফল অর্জন করছে। ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদে বর্তমানে দিবা শাখায় অনার্স বিভাগে ১২০০ জন ও সন্ধ্যাকালীন গ্রোগ্রামে ৩০০ জন শিক্ষাথী রয়েছেন। আইন অনুষদে নিয়মিত পাঠদান করেন ১৭ জন শিক্ষক, অনিয়মিতভাবে পাঠদান করেন আরো ১৪ জন শিক্ষক। অনিয়মিত শিক্ষক হিসাবে সিলেটের জেলা জজ (জন নিরাপত্তা), জেলা জজ (দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল), সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, এসএমপির (সিলেট মেট্রোপলিটন) পুলিশ কমিশনার এই ইউনিভার্সিটিতে পাঠদান করেন। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইউনিভার্সিটির মোট অনুষদ চারটি, ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৬০০০, শ্রেণি কক্ষের সংখ্যা ৪৫টি, পূর্ণকালীন শিক্ষক রয়েছেন ৯০ জন ও খ-কালীন শিক্ষক রয়েছেন ৪০ জন, ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরীতে প্রায় ৪০ হাজার বই রয়েছে, ল্যাবটরী রয়েছে ৬টি। মেধাবী ও আর্থিক সমস্যাগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ২০ থেকে শতভাগ পর্যন্ত টিউশন ফি ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য শতভাগ টিউশন ফি মওকুকের সুবিধা। এসএসসি ও এইচএসসির মোট জিপিএ- ৯ হলে ছাত্রদের টিউশন ফির ৫০ ভাগ ও ছাত্রীদের ৬০ ভাগ টিউশন ফি মওকুফ করা হয়। ভাই-বোন একসাথে ভর্তি হলে ১ জনের টিউশন ফি অর্ধেক মওকুফ করা হয়।
Facebook Comments

Leave a Reply