আজঃ ১লা কার্তিক ১৪২৫ - ১৬ই অক্টোবর ২০১৮ - রাত ১২:২৭

শ্রীমঙ্গলে হচ্ছে পর্যটন করপোরেশনের আবাসন

Published: অক্টো ১৩, ২০১৮ - ১:৩০ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন:: চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল। পাহাড়, টিলা আর হাওর-জলাভূমির মমতায় লালিত। এখানকার এমন আরণ্যক সৌন্দর্যগুলো জুড়ি মেলা ভার। বৈচিত্র্যপূর্ণ এ এলাকাটিকে পর্যটনের অন্যতম স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কয়েক বছর আগেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত কোনো প্রকার সুযোগসুবিধা গড়ে উঠেনি এখানে।

পর্যটন নগর শ্রীমঙ্গলে রয়েছে এককালে সিলেটের মৎস্য ভান্ডার খ্যাত হাইল হাওর, মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), চা জাদুঘর, আনারস বাগান, লেবু বাগান, পান বাগান। এছাড়া রয়েছে খাসিয়া, ত্রিপুরা, মনিপুরী, সাঁওতাল প্রভৃতি নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মনোমুগ্ধকর জীবনধারা। আরও রয়েছে ৪০টি চা বাগানের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। যা হৃদয়কে বারবার মুগ্ধ করে তোলে।

কয়েক বছর পূর্বে শ্রীমঙ্গল শহরের কালিঘাট রোডে পর্যটন করপোরেশনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করলে তাতে ফিনলে চা কোম্পানির লিজকৃত জায়গা উল্লেখ করে আপত্তি জানায়। এ আপত্তির বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এখনো ওই জায়গাটি নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এমতাবস্থায় পর্যটন করপোরেশনের সরকারি আবাসনশূন্য শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গলবাসীর প্রাণের দাবি পর্যটননগর শ্রীমঙ্গলে সরকারি ভিত্তিতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে একটি আবাসন গড়ে উঠুক। এতে সমৃদ্ধি লাভ করবে পর্যটনশিল্পের এই ছোট্ট শহরটি।

শ্রীমঙ্গলের নান্দনিক আবাসন ‘টি হ্যাভেন রিসোর্ট’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু সুলতান মো. মুসা বলেন, ‘আমরা যারা পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত আমাদের প্রাণের দাবি পর্যটননগর শ্রীমঙ্গলে পর্যটন করপোরেশনের একটি আবাসন গড়ে উঠুক। এতে এ সেক্টরটি আরও উন্নত হবে ও পর্যটননির্ভর নানান সম্ভাবনাগুলোর গতি বাড়বে।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম বলেন, শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরশনের জন্য পূর্ণাঙ্গ রিসোর্ট নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের কাজ চলছে। রিসোর্টের নতুন জায়গা নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পর্যটন উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনাও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির অতি সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল সফল করে দু’টি স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে আমার বিস্তারিত কথা হয়েছে। তিনি শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের একটি রিসোর্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পজেটিভ। আমাকেও প্রায়োরিটি বেসিসে এটা নিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’

‘আপনারা জানেন এটি বাস্তবায়ন করতে উপযুক্ত প্রক্রিয়াগুলোর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের সহযোগিতায় আশা করা যাচ্ছে এ বছরই আমরা সরকারি আবাসন নির্মাণে অনেকটাই অগ্রসর হতে পারবো’ বলে জানান ইউএনও নজরুল।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন:: চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল। পাহাড়, টিলা আর হাওর-জলাভূমির মমতায় লালিত। এখানকার এমন আরণ্যক সৌন্দর্যগুলো জুড়ি মেলা ভার। বৈচিত্র্যপূর্ণ এ এলাকাটিকে পর্যটনের অন্যতম স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কয়েক বছর আগেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত কোনো প্রকার সুযোগসুবিধা গড়ে উঠেনি এখানে।

পর্যটন নগর শ্রীমঙ্গলে রয়েছে এককালে সিলেটের মৎস্য ভান্ডার খ্যাত হাইল হাওর, মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), চা জাদুঘর, আনারস বাগান, লেবু বাগান, পান বাগান। এছাড়া রয়েছে খাসিয়া, ত্রিপুরা, মনিপুরী, সাঁওতাল প্রভৃতি নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মনোমুগ্ধকর জীবনধারা। আরও রয়েছে ৪০টি চা বাগানের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। যা হৃদয়কে বারবার মুগ্ধ করে তোলে।

কয়েক বছর পূর্বে শ্রীমঙ্গল শহরের কালিঘাট রোডে পর্যটন করপোরেশনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করলে তাতে ফিনলে চা কোম্পানির লিজকৃত জায়গা উল্লেখ করে আপত্তি জানায়। এ আপত্তির বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এখনো ওই জায়গাটি নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এমতাবস্থায় পর্যটন করপোরেশনের সরকারি আবাসনশূন্য শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গলবাসীর প্রাণের দাবি পর্যটননগর শ্রীমঙ্গলে সরকারি ভিত্তিতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে একটি আবাসন গড়ে উঠুক। এতে সমৃদ্ধি লাভ করবে পর্যটনশিল্পের এই ছোট্ট শহরটি।

শ্রীমঙ্গলের নান্দনিক আবাসন ‘টি হ্যাভেন রিসোর্ট’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু সুলতান মো. মুসা বলেন, ‘আমরা যারা পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত আমাদের প্রাণের দাবি পর্যটননগর শ্রীমঙ্গলে পর্যটন করপোরেশনের একটি আবাসন গড়ে উঠুক। এতে এ সেক্টরটি আরও উন্নত হবে ও পর্যটননির্ভর নানান সম্ভাবনাগুলোর গতি বাড়বে।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম বলেন, শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরশনের জন্য পূর্ণাঙ্গ রিসোর্ট নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের কাজ চলছে। রিসোর্টের নতুন জায়গা নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পর্যটন উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনাও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির অতি সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল সফল করে দু’টি স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে আমার বিস্তারিত কথা হয়েছে। তিনি শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের একটি রিসোর্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পজেটিভ। আমাকেও প্রায়োরিটি বেসিসে এটা নিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’

‘আপনারা জানেন এটি বাস্তবায়ন করতে উপযুক্ত প্রক্রিয়াগুলোর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের সহযোগিতায় আশা করা যাচ্ছে এ বছরই আমরা সরকারি আবাসন নির্মাণে অনেকটাই অগ্রসর হতে পারবো’ বলে জানান ইউএনও নজরুল।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর