আজঃ ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - দুপুর ১:৪৮

শ্রীমঙ্গলে পরকীয়া থেকেই গৃহবধূ সপ্নাকে হত্যা

Published: সেপ্টে ০৮, ২০১৮ - ৮:০৩ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাইটুলা গ্রামের আলোচিত গৃহবধূ সপ্না বেগম হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। সপ্নাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার তার পরকীয়া প্রেমিক আজাদ মিয়া (২৮) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

গত ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই রাতে শ্রীমঙ্গলের সাইটুলা গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে নিহত স্বপ্না বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বপ্না বেগমের বোন স্বপ্নার স্বামীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে শ্রীমঙ্গল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা দীর্ঘ এক বছরেরও অধিক সময় মামলার তদন্ত কাজ পরিচালনা করে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। আসামি আজাদ মিয়াকে (২৮) গত শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার সাইটুলা গ্রামের মৃত হাবিব মিয়ার ছেলে। গ্রেফতারের পর আজাদ মিয়া পরকীয়ার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

আজাদ মিয়া জানান, একই গ্রামে তার খালাতো ভাই গফুর মিয়ার বাড়িতে যাওয়া-আসার একপর্যায়ে স্বপ্না বেগমের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে ৷ প্রায় প্রতিদিনই তিনি তাদের পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করতেন। যার ফলে পরিবারের কেউ তাকে সন্দেহের চোখে দেখতো না৷ বছর তিনেক আগে স্বপ্না বেগম ও তার স্বামীর মধ্যে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে স্বপ্না তার প্রেমিক আজাদকে জানালে আজাদ ছেলে মেয়েসহ স্বপ্নাকে তার বাবার বাড়ি রাজনগর পাঠিয়ে দেন ৷ পারিবারিক কলহে আজাদ মিয়ার এ রকম কর্মকাণ্ডে স্বপ্নার স্বামী গফুর মিয়ার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় ৷ এ সময় স্বপ্না বেগম প্রায় পাঁচ মাস বাবার বাড়িতে অবস্থান করে নারায়ণগঞ্জে একটি গার্মেন্টেসে চাকরি নেন। এর কিছুদিন পর আজাদ মিয়াও সেখানে চলে যান এবং স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন৷

তিনি আরও জানান, দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পর স্বপ্না ও গফুর মিয়ার আত্নীয় স্বজনদের মধ্যস্থতায় তাদের পুনরায় সংসার করার সিদ্ধান্ত হয় ৷ এরপর স্বপ্না তার স্বামীর সংসারে ফিরে যান৷ এর ১৫-২০ দিন পর আজাদ মিয়াও ফিরে আসেন৷ পরে ঘটনার দিন ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে স্বপ্নার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে আজাদ তার সঙ্গে বাইরে দেখা করতে চান ৷ স্বপ্না দরজা খুলে বাইরে আসলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আজাদ তার গলা টিপে ধরেন। এতে কিছুক্ষণ পর স্বপ্না নিস্তেজ হয়ে যান ৷ স্বপ্নার নড়াচড়া না দেখে আজাদ মিয়া তাকে টেনে ঘরে রেখে দরজা লাগিয়ে পালিয়ে যান।

শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম জানান, এক বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাইটুলা গ্রামের আলোচিত গৃহবধূ সপ্না বেগম হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। সপ্নাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার তার পরকীয়া প্রেমিক আজাদ মিয়া (২৮) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

গত ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই রাতে শ্রীমঙ্গলের সাইটুলা গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে নিহত স্বপ্না বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বপ্না বেগমের বোন স্বপ্নার স্বামীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে শ্রীমঙ্গল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা দীর্ঘ এক বছরেরও অধিক সময় মামলার তদন্ত কাজ পরিচালনা করে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। আসামি আজাদ মিয়াকে (২৮) গত শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার সাইটুলা গ্রামের মৃত হাবিব মিয়ার ছেলে। গ্রেফতারের পর আজাদ মিয়া পরকীয়ার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

আজাদ মিয়া জানান, একই গ্রামে তার খালাতো ভাই গফুর মিয়ার বাড়িতে যাওয়া-আসার একপর্যায়ে স্বপ্না বেগমের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে ৷ প্রায় প্রতিদিনই তিনি তাদের পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করতেন। যার ফলে পরিবারের কেউ তাকে সন্দেহের চোখে দেখতো না৷ বছর তিনেক আগে স্বপ্না বেগম ও তার স্বামীর মধ্যে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে স্বপ্না তার প্রেমিক আজাদকে জানালে আজাদ ছেলে মেয়েসহ স্বপ্নাকে তার বাবার বাড়ি রাজনগর পাঠিয়ে দেন ৷ পারিবারিক কলহে আজাদ মিয়ার এ রকম কর্মকাণ্ডে স্বপ্নার স্বামী গফুর মিয়ার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় ৷ এ সময় স্বপ্না বেগম প্রায় পাঁচ মাস বাবার বাড়িতে অবস্থান করে নারায়ণগঞ্জে একটি গার্মেন্টেসে চাকরি নেন। এর কিছুদিন পর আজাদ মিয়াও সেখানে চলে যান এবং স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন৷

তিনি আরও জানান, দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পর স্বপ্না ও গফুর মিয়ার আত্নীয় স্বজনদের মধ্যস্থতায় তাদের পুনরায় সংসার করার সিদ্ধান্ত হয় ৷ এরপর স্বপ্না তার স্বামীর সংসারে ফিরে যান৷ এর ১৫-২০ দিন পর আজাদ মিয়াও ফিরে আসেন৷ পরে ঘটনার দিন ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে স্বপ্নার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে আজাদ তার সঙ্গে বাইরে দেখা করতে চান ৷ স্বপ্না দরজা খুলে বাইরে আসলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আজাদ তার গলা টিপে ধরেন। এতে কিছুক্ষণ পর স্বপ্না নিস্তেজ হয়ে যান ৷ স্বপ্নার নড়াচড়া না দেখে আজাদ মিয়া তাকে টেনে ঘরে রেখে দরজা লাগিয়ে পালিয়ে যান।

শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম জানান, এক বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর