শেখ হাসিনার ফোন মাশরাফি কি খেলবেন?

0
17
sylpro24
sylpro24


সিলেট প্রতিদিন ডেস্কঃ সিরিজ শুরুর আগে টসের সময় হঠাৎ করেই দিলেন বিদায়ী ঘোষণাটা? আর টি-টোয়েন্টি খেলবেন না মাশরাফি বিন মর্তুজা। এরপর সারা দেশের মতো আবেগে ভেসেছেন জাতীয় দলের সতীর্থরাও। কিন্তু জাতীয় দল গতকাল দেশে ফেরার পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান জানালেন, মাশরাফি নাকি টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায়ই নেননি! নাজমুল বিমানবন্দরে জানালেন টি-টোয়েন্টি নয়, মাশরাফি ছেড়েছেন এই ফরম্যাটের নেতৃত্ব, ‘আমি একটা কথা বারবারই বলছি, মাশরাফি কিন্তু টি-টোয়েন্টি এখনো ছাড়েনি। আমরা এখন পর্যন্ত মাশরাফিকে বলিনি যে মাশরাফি টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে নেই। ও অধিনায়কত্ব ছেড়েছে। আমাদের তিনটি ফরম্যাটে তিনজন অধিনায়ক। সেটা আমি অনেক আগেই বলেছি। ’ কলম্বোতেও অবশ্য নাজমুল জানিয়েছিলেন মাশরাফির শুধু টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছাড়ার কথা।

শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ফোনে কথা বলেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে। বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণ থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য বলেছেন মাশরাফিকে। শেখ হাসিনা কথা বলেন নাজমুল হাসানের সঙ্গেও। প্রধানমন্ত্রী বলার পর কি মাশরাফিকে আবারও দেখা যাবে টি-টোয়েন্টিতে? নাজমুল সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, ‘ও যদি ফিট থাকে তাহলে খেলবে? যদি বলে খেলতে চায় না, কিন্তু আমাদের দরকার হয়, তাহলে কি ছেড়ে দেব?’ মাশরাফির টি-টোয়েন্টি ছাড়ার পর থেকেই চলছে সমালোচনার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাশরাফি ভক্তরা উল্টো বিদায় চেয়েছেন কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে ও বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসানের। নড়াইলে হয়েছে ‘আলোর মিছিল’। এমনকি গতকাল সকালে মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ের সামনে হয়েছে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন। চারদিকে এমন হাহাকার যেন ক্রিকেটকেই বিদায় বলেছেন মাশরাফি! ব্যাপারটাকে নাজমুলের মনে হচ্ছে ‘হুলস্থুল’ কাণ্ড, ‘আজ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে খুব একটা খবর-টবর দেখিনি। বাংলাদেশেই দেখলাম টি-টোয়েন্টি থেকে অধিনায়ক চলে যাচ্ছে বলে হুলস্থুল। অন্য দেশে টেস্ট ও ওয়ানডেতে বিদায় নিয়ে কথা হয়, কিন্তু টি-টোয়েন্টি থেকে এত কথা হয় না। ’

যথেষ্ট যুক্তি আছে নাজমুলের কথায়। কিন্তু মাশরাফি বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন একটা নাম, যে আবেগের স্রোতে ভেসে যায় সব কিছু। আগামী দুই বছর মাত্র ছয়টি টি-টোয়েন্টিই আইসিসির সূচিতে আছে বাংলাদেশের। বরং সামনে বেশি গুরুত্বপূর্ণ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও বিশ্বকাপ। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত যে মাশরাফি ওয়ানডে খেলবেন সেটা কলম্বোতে থাকতেই জানিয়েছেন নাজমুল। কিন্তু দেশে ফিরে মাশরাফিকে নিয়ে এমন আবেগ দেখেই কিনা বিমানবন্দরে অনভিপ্রেত একটা মন্তব্যও করে ফেললেন তিনি। ২০১৪ সালে মাশরাফিকে যখন অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়েছিল তখন নাকি দলে জায়গাই ছিল না তাঁর, ‘ওকে যখন অধিনায়ক করা হয়, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে, ও তখন স্কোয়াডেই ছিল না। ও তখন ইনজুরিতে। ওকে যখন বানানো হয়েছে তখন নিশ্চয়ই একটা বিশেষ কথা চিন্তা করে করা হয়েছিল। সেই ভূমিকা সে পুরোপুরি সার্থকভাবে করেছে। সে জন্য ওর পাশাপাশি আমরাও গর্বিত। ’

নেতৃত্ব পাওয়ার আগের দুটি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন মাশরাফি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পেয়েছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটও। বরং সে সময় নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত না থাকলেও দেশের কথা ভেবে দায়িত্বটা নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন একাধিকবার। তাই অবসরের পর সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত মন্তব্য করেননি কোনো। তবে খুশি মনে যে টি-টোয়েন্টি ছাড়েননি স্বীকার করে নিলেন নাজমুলও, ‘মাশরাফির মনে কষ্ট না থাকার কোনো কারণ নেই। কারণ ও একজন খেলোয়াড়। শুধু খেলোয়াড়ই নয়, ও দলটাকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তা ছাড়া খেলা থেকে অবসর, সে জন্য খারাপ লাগতেই পারে। এটা অস্বাভাবিক কিছু না, আমারও লাগত। ’

মন্তব্য

মন্তব্য