আজঃ ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - সকাল ৯:৫১

শহীদ জগৎজ্যোতি ও একটি স্বপ্নের আত্মদান

Published: মার্চ ০২, ২০১৮ - ৩:৫১ অপরাহ্ণ

সু্বিনয় মল্লিক :: বাংলাদেশ আমাদের স্বপ্নের ঠিকানা। জীবন-যুদ্ধ আর ত্যাগে পেয়েছি স্বাধীনতা । আমার মা আমাকে গর্ভধারণ করেছিলেন একটি স্বাধীন দেশের শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধ দেখি নাই তবে বিদেশী সাংবাদিকদের তোলা প্রামাণ্য চিত্র আর পড়েছি বাস্তব ঘটনাবলীর ইতিহাস। বুঝলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি পক্ষ ছিলো স্বাধীনতা অর্জনে দিশেহারা তারা হলো আমাদের মুক্তিযোদ্ধরা আর অন্যপক্ষ যারা এদেশের খেয়ে পরে, শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়েছে কিন্তু বাঙালি হওয়াতে ছিলো বিরোধী। তার মানে অন্যপক্ষটি হচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধীশক্তি, যাদেরকে আমরা রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে চিনেছি।

যারা আলো হাওয়া বাতাস গ্রহণ করবে আবার এদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিরোধীতা করবে তাদের বিচার হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তারপরও বিচার হতে অনেক বিলম্ব হয়েছে। ১৯৭১ সালে হয়েছি স্বাধীন আর বিশ্বাসঘাতকদের বিচার হয়েছে ২০১৩ সালে। আমাদের বাঙালি জাতির মহান শিক্ষক জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তার স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখে যেতে পারেনি এই বিশ্বাসঘাতকদের জন্য। তাকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ঠ। যাই হোক অনেক চড়াই উতরাই পাড়ি দিয়ে আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছি আমাদের আগামীকে একটি কলঙ্কমুক্ত একটি ইতিহাস দেওয়ার জন্য। ঠিক তখন ৭১’এর মত তাদেরই উত্তরসূরীরা আবারো নেমে গেলো আমাদের স্বাধীনতার বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষে। মসজিদ-মন্দিরে হামলা, বাড়িতে আগুন, গাড়িতে আগুন, মুক্তচিন্তার উপর হামলা-হত্যা, যা যা সম্ভব তাদের পক্ষে । মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি এপ্রজন্ম তবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শুনে হৃদয়ে জোগিয়েছে শক্তি। বিশ্বাস ঘাতকদের প্রতিহত করতে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম নেমে গেলো নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধে। তারা সারা দেশে গণজোয়ার তৈরি করলো। আন্দোলনের মাত্রা যোগ করলো এক মুক্তিযোদ্ধার মাতা, এক সংগ্রামী দেশপ্রেমিকের স্ত্রী, এক দৃঢ়চেতা বাঙালি নারী, বুকচেরা আর্তনাদ নয়, শোকবিহ্বল ফরিয়াদ নয়, তিনি গোলাপকুঁড়ির মতো মেলে ধরেছেন আপনকার নিভৃততম দুঃখ অনুভূতি। ব্যক্তিগত শোকস্মৃতি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় আমাদের সকলের টুকরো টুকরো অগণিত দুঃখবোধের অভিজ্ঞতার সঙ্গে, তাঁর আপনজনের গৌরবগাঁথা যুক্ত হয়ে যায় জাতির হাজারো বীরগাঁথার সঙ্গে। রুমী বুঝি কোন অলক্ষ্যে হয়ে যায় আমাদের সকলের আদরের ভাইটি, সজ্জন ব্যক্তিত্ব শরীফ প্রতীক হয়ে পড়েন রাশভারী স্নেহপ্রবণ পিতৃরূপের। কিছুই আমরা ভুলবো না, কাউকে ভুলবো না, এই অঙ্গীকারের বাহক জাহানারা ইমামের স্বপ্নের সাথে।

রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড়ে তৈরি হয় গণজাগরণ মঞ্চ। যা কয়েকদিনে ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়। সিলেটেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সিলেটের চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ হয় গণজাগরণ মঞ্চ।

গণজাগরণে মুলত বেশির ভাগই ছিলো তরুণ প্রজন্ম। যাদের হৃদয়ে জেগেছিলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তাই তারা ঘরে বসে থাকেনি। সিলেটের গণজাগরণে ছিলো তরুণদের উপছে পড়া ভীড়। স্লোগান, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, মশাল মিছিল, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়া। এসব নিয়ে নতুন মুক্তিযুদ্ধকে শক্তিশালী করতে সংগঠকের ভূমিকায় ছিলো সদা হাস্যোজ্জ্বল আর টগবগে চেহারার এক যুবক। যার জন্ম বাংলাদেশের ভাটির এলাকাখ্যাত সুনামগঞ্জ, তার একটি উপজেলা দিরাই, গ্রামটির নাম সিংহনাথ । সিংহনাথের মৃত সতিশ তালুকদারের পুত্র সেদিন রাজাকার আর যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চেয়ে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের পতাকা মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন ২০১৩ সালের পহেলা মার্চ। সেদিন শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া পতাকা মিছিল নগরীর কোর্ট পয়েন্ট ঘুরে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। পতাকা মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেয়। পরদিনই ০২রা মার্চ জগৎজ্যোতিকে হত্যা করে ৭১’এর পরাজিত শক্তিরা। আজও মনে পড়ছে সেদিনের (শুক্রবার) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট গণজাগরণ মঞ্চে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে অংশ নেয় হাজারো আবাল-বৃদ্ধ-তরুণ-ছাত্র-জনতা।

২০১৩সালের ০২রা মার্চ রাত ৯টায় নগরীর আখালিয়ার তপোবন এলাকার সামনে ঢাকা মেট্রো ডিলার্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জগত জ্যোতিকে খুন করা হয়। আহত হন জগৎজ্যোতির বন্ধু ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী জুয়েল আহমদ, সাহেদ আহমদ ও জয়সেন তালুকদার। নিহত জগতের পুরো শরীরে ২৩টি গুরুতর জখম ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু-সাবিবর আহমদ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ঘটনার ৩দিন পর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩। আজ তার শহীদ হওয়ার পাঁচটি বছর চলে গেলো। হত্যাকারীদের বিচার হলো না। জানি হবে বিচার হবে কিনা। তবুও বলতে চাই পরাজয়ে ডরে না বীর।

মাটির প্রতি দেশের প্রতি মায়ের প্রতি আমাদের যে দরদ তা স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে শহীদ জগৎজ্যোতি ও একটি স্বপ্নের আত্মদান হতে। শহীদ জগৎজ্যোতির আত্মার শান্তিতে থাকুক প্রিয় মাতৃভূমির মাটিতে।
লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhetprothidin24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhetprothidin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

Facebook Comments

সু্বিনয় মল্লিক :: বাংলাদেশ আমাদের স্বপ্নের ঠিকানা। জীবন-যুদ্ধ আর ত্যাগে পেয়েছি স্বাধীনতা । আমার মা আমাকে গর্ভধারণ করেছিলেন একটি স্বাধীন দেশের শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধ দেখি নাই তবে বিদেশী সাংবাদিকদের তোলা প্রামাণ্য চিত্র আর পড়েছি বাস্তব ঘটনাবলীর ইতিহাস। বুঝলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি পক্ষ ছিলো স্বাধীনতা অর্জনে দিশেহারা তারা হলো আমাদের মুক্তিযোদ্ধরা আর অন্যপক্ষ যারা এদেশের খেয়ে পরে, শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়েছে কিন্তু বাঙালি হওয়াতে ছিলো বিরোধী। তার মানে অন্যপক্ষটি হচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধীশক্তি, যাদেরকে আমরা রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে চিনেছি।

যারা আলো হাওয়া বাতাস গ্রহণ করবে আবার এদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিরোধীতা করবে তাদের বিচার হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তারপরও বিচার হতে অনেক বিলম্ব হয়েছে। ১৯৭১ সালে হয়েছি স্বাধীন আর বিশ্বাসঘাতকদের বিচার হয়েছে ২০১৩ সালে। আমাদের বাঙালি জাতির মহান শিক্ষক জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তার স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখে যেতে পারেনি এই বিশ্বাসঘাতকদের জন্য। তাকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ঠ। যাই হোক অনেক চড়াই উতরাই পাড়ি দিয়ে আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছি আমাদের আগামীকে একটি কলঙ্কমুক্ত একটি ইতিহাস দেওয়ার জন্য। ঠিক তখন ৭১’এর মত তাদেরই উত্তরসূরীরা আবারো নেমে গেলো আমাদের স্বাধীনতার বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষে। মসজিদ-মন্দিরে হামলা, বাড়িতে আগুন, গাড়িতে আগুন, মুক্তচিন্তার উপর হামলা-হত্যা, যা যা সম্ভব তাদের পক্ষে । মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি এপ্রজন্ম তবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শুনে হৃদয়ে জোগিয়েছে শক্তি। বিশ্বাস ঘাতকদের প্রতিহত করতে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম নেমে গেলো নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধে। তারা সারা দেশে গণজোয়ার তৈরি করলো। আন্দোলনের মাত্রা যোগ করলো এক মুক্তিযোদ্ধার মাতা, এক সংগ্রামী দেশপ্রেমিকের স্ত্রী, এক দৃঢ়চেতা বাঙালি নারী, বুকচেরা আর্তনাদ নয়, শোকবিহ্বল ফরিয়াদ নয়, তিনি গোলাপকুঁড়ির মতো মেলে ধরেছেন আপনকার নিভৃততম দুঃখ অনুভূতি। ব্যক্তিগত শোকস্মৃতি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় আমাদের সকলের টুকরো টুকরো অগণিত দুঃখবোধের অভিজ্ঞতার সঙ্গে, তাঁর আপনজনের গৌরবগাঁথা যুক্ত হয়ে যায় জাতির হাজারো বীরগাঁথার সঙ্গে। রুমী বুঝি কোন অলক্ষ্যে হয়ে যায় আমাদের সকলের আদরের ভাইটি, সজ্জন ব্যক্তিত্ব শরীফ প্রতীক হয়ে পড়েন রাশভারী স্নেহপ্রবণ পিতৃরূপের। কিছুই আমরা ভুলবো না, কাউকে ভুলবো না, এই অঙ্গীকারের বাহক জাহানারা ইমামের স্বপ্নের সাথে।

রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড়ে তৈরি হয় গণজাগরণ মঞ্চ। যা কয়েকদিনে ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়। সিলেটেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সিলেটের চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ হয় গণজাগরণ মঞ্চ।

গণজাগরণে মুলত বেশির ভাগই ছিলো তরুণ প্রজন্ম। যাদের হৃদয়ে জেগেছিলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তাই তারা ঘরে বসে থাকেনি। সিলেটের গণজাগরণে ছিলো তরুণদের উপছে পড়া ভীড়। স্লোগান, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, মশাল মিছিল, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়া। এসব নিয়ে নতুন মুক্তিযুদ্ধকে শক্তিশালী করতে সংগঠকের ভূমিকায় ছিলো সদা হাস্যোজ্জ্বল আর টগবগে চেহারার এক যুবক। যার জন্ম বাংলাদেশের ভাটির এলাকাখ্যাত সুনামগঞ্জ, তার একটি উপজেলা দিরাই, গ্রামটির নাম সিংহনাথ । সিংহনাথের মৃত সতিশ তালুকদারের পুত্র সেদিন রাজাকার আর যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চেয়ে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের পতাকা মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন ২০১৩ সালের পহেলা মার্চ। সেদিন শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া পতাকা মিছিল নগরীর কোর্ট পয়েন্ট ঘুরে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। পতাকা মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেয়। পরদিনই ০২রা মার্চ জগৎজ্যোতিকে হত্যা করে ৭১’এর পরাজিত শক্তিরা। আজও মনে পড়ছে সেদিনের (শুক্রবার) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট গণজাগরণ মঞ্চে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে অংশ নেয় হাজারো আবাল-বৃদ্ধ-তরুণ-ছাত্র-জনতা।

২০১৩সালের ০২রা মার্চ রাত ৯টায় নগরীর আখালিয়ার তপোবন এলাকার সামনে ঢাকা মেট্রো ডিলার্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জগত জ্যোতিকে খুন করা হয়। আহত হন জগৎজ্যোতির বন্ধু ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী জুয়েল আহমদ, সাহেদ আহমদ ও জয়সেন তালুকদার। নিহত জগতের পুরো শরীরে ২৩টি গুরুতর জখম ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু-সাবিবর আহমদ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ঘটনার ৩দিন পর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩। আজ তার শহীদ হওয়ার পাঁচটি বছর চলে গেলো। হত্যাকারীদের বিচার হলো না। জানি হবে বিচার হবে কিনা। তবুও বলতে চাই পরাজয়ে ডরে না বীর।

মাটির প্রতি দেশের প্রতি মায়ের প্রতি আমাদের যে দরদ তা স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে শহীদ জগৎজ্যোতি ও একটি স্বপ্নের আত্মদান হতে। শহীদ জগৎজ্যোতির আত্মার শান্তিতে থাকুক প্রিয় মাতৃভূমির মাটিতে।
লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhetprothidin24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhetprothidin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর