আজঃ ২৬শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ - ১০ই ডিসেম্বর ২০১৮ - রাত ২:৫০

লাউড় রাজ্যের হলহলিয়া দুর্গ ও গৌড় গবিন্দ রাজবাড়ির উৎখনন কাজ শুরু

Published: নভে ১৪, ২০১৮ - ৬:৫১ অপরাহ্ণ

রাজন চন্দ, তাহিরপুর :: তাহিরপুর উপজেলার লাউড় রাজ্যের রাজধানী’র হলহলিয়া দুর্গ ও পাশের ব্রাহ্মণগাঁওয়ের গৌর গবিন্দ রাজবাড়ির উৎখননের কাজ উদ্ধোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এই খনন কাজ শুরু করেছে।

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ বরকতুল্লাহ খান এ উৎখনন কাজের শুভ উদ্ধোধন করেন। উদ্ধোধনকালে উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্নেন্দু দেব,তাহিরপুর জয়নাল আবেদীন ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ ফণী ভূষণ সরকার। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান জানান,প্রাচীন নিদর্শন রক্ষা,ইতিহাস সম্পর্কে জানা ও পর্যটন বিকাশের উদ্দেশ্যে ২ মাস ব্যাপী ৯ জনের একটি টিম এ খনন কাজ করবেন।

উৎখনন কাজে অংশ গ্রহণের জন্য কুমিল্লার শালবন বিহারের ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ড. আহমেদ আবদুল্লাহ্, ময়নামতি জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. হাফিজুর রহমান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক অফিসের সিনিয়র ড্রাফটসম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, সার্ভেয়ার জালাল আহমেদ, আলোকচিত্রি মো. নুরুজ্জাামান মিয়া, পটারী রেকর্ডার মো. ওমর ফারুক, অফিস সহায়ক লক্ষণ দাস বর্তমানে উৎখনন কাজে লাউড়েরগড়ে অবস্থান নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জের ধারারগাঁওয়ের বাসিন্দা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)’র চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সাদিক ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের দেশ ও জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিচারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে আধাসরকারি পত্র দিয়েছিলেন।

ড. মোহাম্মদ সাদিক তাঁর পত্রে আরও উল্লেখ করেছিলেন- সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় প্রাচীণ লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল। এখানকার রাজা ভগদত্ত মহাভারতের যুদ্ধে অর্জুনকে সৈন্য পাঠিয়ে সাহায্য করেছিলেন বলেও তথ্য রয়েছে। মহাভারতের প্রথম বাংলায় অনুবাদকারী মহাকবি সঞ্জয়’র নিবাসও এই এলাকায়। হযরত শাহ জালাল (র.)’এর সঙ্গী শাহ আরেফিন (র.)’এর মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যের সহচর অদ্বৈতাচার্যের সঙ্গে সম্পর্কিত এই এলাকাটিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে বিষয়টি অনুসরণ করে ইতিহাসের নতুন দিগন্ত আবিস্কার করতে পারেন। না হয় এই এলাকা ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে এবং কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।

এরপর থেকে কয়েকবারই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গবেষকরা এই অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন এবং আজ উৎখনন কাজের উদ্ধোধন হয়েছে।

সিলেট প্রতিদিন/১৪নভেম্বর ২০১৮/জেকে

Facebook Comments

রাজন চন্দ, তাহিরপুর :: তাহিরপুর উপজেলার লাউড় রাজ্যের রাজধানী’র হলহলিয়া দুর্গ ও পাশের ব্রাহ্মণগাঁওয়ের গৌর গবিন্দ রাজবাড়ির উৎখননের কাজ উদ্ধোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এই খনন কাজ শুরু করেছে।

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ বরকতুল্লাহ খান এ উৎখনন কাজের শুভ উদ্ধোধন করেন। উদ্ধোধনকালে উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্নেন্দু দেব,তাহিরপুর জয়নাল আবেদীন ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ ফণী ভূষণ সরকার। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান জানান,প্রাচীন নিদর্শন রক্ষা,ইতিহাস সম্পর্কে জানা ও পর্যটন বিকাশের উদ্দেশ্যে ২ মাস ব্যাপী ৯ জনের একটি টিম এ খনন কাজ করবেন।

উৎখনন কাজে অংশ গ্রহণের জন্য কুমিল্লার শালবন বিহারের ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ড. আহমেদ আবদুল্লাহ্, ময়নামতি জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. হাফিজুর রহমান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক অফিসের সিনিয়র ড্রাফটসম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, সার্ভেয়ার জালাল আহমেদ, আলোকচিত্রি মো. নুরুজ্জাামান মিয়া, পটারী রেকর্ডার মো. ওমর ফারুক, অফিস সহায়ক লক্ষণ দাস বর্তমানে উৎখনন কাজে লাউড়েরগড়ে অবস্থান নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জের ধারারগাঁওয়ের বাসিন্দা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)’র চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সাদিক ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের দেশ ও জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিচারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে আধাসরকারি পত্র দিয়েছিলেন।

ড. মোহাম্মদ সাদিক তাঁর পত্রে আরও উল্লেখ করেছিলেন- সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় প্রাচীণ লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল। এখানকার রাজা ভগদত্ত মহাভারতের যুদ্ধে অর্জুনকে সৈন্য পাঠিয়ে সাহায্য করেছিলেন বলেও তথ্য রয়েছে। মহাভারতের প্রথম বাংলায় অনুবাদকারী মহাকবি সঞ্জয়’র নিবাসও এই এলাকায়। হযরত শাহ জালাল (র.)’এর সঙ্গী শাহ আরেফিন (র.)’এর মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যের সহচর অদ্বৈতাচার্যের সঙ্গে সম্পর্কিত এই এলাকাটিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে বিষয়টি অনুসরণ করে ইতিহাসের নতুন দিগন্ত আবিস্কার করতে পারেন। না হয় এই এলাকা ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে এবং কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।

এরপর থেকে কয়েকবারই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গবেষকরা এই অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন এবং আজ উৎখনন কাজের উদ্ধোধন হয়েছে।

সিলেট প্রতিদিন/১৪নভেম্বর ২০১৮/জেকে

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর