র‍্যাগিং যখন আতঙ্ক

0
96


পাবলিক ভার্সিটিতে পড়ে আর র‍্যাগিং এর সাথে
পরিচিত নয় এমন স্টুডেন্ট খুঁজে পাওয়া কঠিন যদিও(আমি প্রথম দিকে এই শব্দের সাথে পরিচিত ছিলাম না;আমার এক ফ্রেন্ড একদিন বললো,শুনেছিস্ ভার্সিটিতে বড় ভাইরা র‍্যাগ দেয়!)
প্রথমদিকে খুবই ভয়ে ভয়ে থাকতাম, কখন র‍্যাগের খপ্পরে পড়ি,যেমনটা ফার্স্ট ইয়ারের ছেলেমেয়ে ভয়ে থাকে।

Ragging, শব্দের বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়,গোলমাল,হু-হুল্লোর, ডিকশনারি যেই অর্থ হোকনা কেন,আমার কাছে র‍্যাগিং মানে-মেন্টালি টর্চার! সেই টর্চার করা হয় ম্যানার শিখানোর জন্য!
ভার্সিটিতে যখন নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়,তাদেরকে স্মার্ট করার জন্য বড় ভাইয়া/আপুরা র‍্যাগ দেন, তাদের কথা হলো,ক্ষ্যাত পোলাপান বড় ভাই/আপুকে রেসপেক্ট করতে জানে না, পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না তাই একটু খাপ খাওয়ানোর ট্রিটমেন্ট দেই!
কিন্ত সেটার ধরন কি মারাত্মক সেটা যারা র‍্যাগ খায় তারাই জানে ।  র‍্যাগিং এর মাত্রা একেক ভার্সিটিতে একেক রকমের হয়ে থাকে।
সাধারণত: ছেলেদের বলা হয়, বিভিন্ন ধরনের গানের সাথে ডান্স করতে(যেমন: চিকনী চামেলি,আর কি কি যেনো আছে), অরুচিশীল চিত্র অঙ্কন,উল্টাপাল্টা গালি আওড়ানো, বড় আপুকে প্রপোজ দেওয়া এইসব।
অপারগতা জানালে একটা গালিও মাটিতে পড়ে না।
আর মেয়েদের কিভাবে র‍্যাগ দেয় সেটা খুব একটা জানি না, তবে গান,নাচ কিংবা বড় ভাইকে প্রপোজ দেওয়া
কিংবা একজায়গায় বসিয়ে রাখা এরকমভাবে র‍্যাগ দেওয়া হয়।

আজকে যাদেরকে র‍্যাগ দেওয়া হচ্ছে,তাদের মনে কি একটু নেগেটিভ ধারনা জন্মাবে না,বড়দের তো দায়িত্ব জুনিয়দের আগলে রাখা,হেল্প করা। বেয়াদবি করলে বুঝিয়ে বলা।
মানুষ মানুষকে দুটি কারনে রেসপেক্ট করে, এক.ভয়ের কারনে দুই.ভালবাসার কারনে।
কে কোনটার কারনে সম্মান পাবেন সেটা একান্তই নিজস্ব ব্যাপার।

একটা ছেলে/মেয়ে হয়তো পরিবার ছেড়ে এখানে
আসছে পড়ালেখা করবে বলে,নতুন আবহ,নতুন পরিবেশ,মানিয়ে নিতে কারো কারো সমস্যা হয়,আর এর মাঝে র‍্যাগিং খেলে কি অবস্থা হয় চিন্তা করা যায়!বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি একটা পরিবার ধরি,তাহলে এখানের স্টুডেন্টস তার সদস্য। পরিবারে ভদ্রতা কি র‍্যাগিং দিয়ে শিখায়? নাকি স্নেহ -ভালবাসা দিয়ে শিখানো হয়।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ,তারপর‍ও কেনো র‍্যাগিং বন্ধ হচ্ছে না।
কারণটা খুব ক্লিয়ার, আমি এবার র‍্যাগিং খাইছি,জুনিয়ররা আসুক সুদে-আসলে বুঝিয়ে দিবো!
এই মাইন্ডসেট এর কারনে।
এটা এভাবে হলে ভাল হতো,
র‍্যাগিং যে কত যন্ত্রণার আমি বুঝেছি,আর কাউকে র‍্যাগিং দিবো না! এরকম করে সবাই ভাবলে র‍্যাগিং কমে যেতো।
যাই হোক,সবাই ভার্সিটিতে প্রাণখোলে ঘুরে বেড়াক,আনন্দ করুক,যেখানে তাড়া করে বেড়াবে না র‍্যাগিং এর আতঙ্ক।

শায়খুল ইসলাম,শিক্ষার্থীঃ শাবিপ্রবি

মন্তব্য

মন্তব্য