রাজনীতিতে বিভিন্ন দল মতের মানুষদের সঙ্গেও সমঝোতা করতে হয়…ওমর ফারুক চৌধুরী

0
16


মঙ্গলবার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল দুপুুরে জেলার বড়মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধন করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী, প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন- আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যাকেই নির্বাচনে প্রার্থী করবে, তার পক্ষেই কাজ করবে য্বুলীগ। কে করলো কে করলো না সেটা আমাদের বিষয় না। নির্বচানে যদি কেউ বিরোধীতা করে যুবলীগ বহিস্কার করবে। বতর্মানে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়েছে জিয়াউর রহমান এমন অভিযোগ করে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, রাজনীতিবিদরা হারিয়ে গেছে তার কারণে। শেখ হাসিনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমাদের অহঙ্কারের নাম রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তিনিই একমাত্র নেতা যিনি জাতিসংঙ্ঘ কতৃক ৩৯ টি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পেয়েছেন।  শেখ হাসিনার বিভিন্ন জনকল্যানমুলক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। মনে রাখতে হবে এই উদ্যোগগুলো শুধু মাত্র উন্নয়নের জন্যই নয়, এর পেছনে আছে একটি রাষ্ট্র চিন্তার দর্শন। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনকল্যান এবং জনগণের অংশগ্রহণ। শেখ হাসিনার উন্নয়ন হচ্ছে জনগণকে সম্পৃক্ত করা। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ভাবনাগুলোকে একত্রিত করে তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন। শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অবদান হলো একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতার আলোয় আলোকিত করা। ৫ তারিখ নির্বাচন না হলে বাংলাদেশ আজ তালেবানি রাষ্ট্রে পরিনত হতো। হরতাল নাশকতা থেকে বাংলাদেশ থেকে বিদায় দেয়া হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে জনগণের ক্ষমতায়নের কারনে। জনগণ বেগম খালেদা জিয়ার ধ্বংসাতœক রাজনীতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাক্ষাণ করেছে। জনগণ সত্য মিথ্যার প্রভেদ বুঝতে পেরেছে। জঙ্গিবাদ দমনে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সফল। এই সাফল্য শেখ হাসিনাকে বিশ্বের প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, মেধাবী বিচক্ষণ, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন এবং জনকল্যাণমুখি নেতার মর্যাদা দিয়েছে। এছাড়া কৃষিতে নিরব বিপ্লব ঘটিয়ে শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের বিষ্ময়ে পরিণত হয়েছে। তার এই নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ এখন খাদ্য আমদানির দেশ নয়, খাদ্য রপ্তানির দেশ। ২০১৬ সালে আমরা বাংলাদেশে ভয়াবহ মৌলবাদ সন্ত্রাসের উত্থান দেখেছি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। আবার আমরা এর শোচণীয় পরাজয় দেখেছি রাষ্টনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। ডিজিটাল বাংলাদেশের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশকে ডিজিটালই করা হচ্ছে না, এটি জ্ঞান নির্ভর একটি বাংলাদেশ। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের ক্ষতায়ন ও জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা এসেছে, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এসেছে। এসব হওয়ার কারণ শেখ হাসিনা পাক প্রেমীদের মাজা ভেঙে দিয়েছেন, রাজাকারদের ফাসিতে ঝুলিয়েছেন। বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোকে  এক কাতারে নিয়ে এসেছেন তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন কিন্তু তার শান্তির দর্শন নেই। কিন্তু শেখ হাসিনার বিশ্ব শান্তির দর্শন বিশ্বের ৯৪টি রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। সমাজে শান্তি আনতে হলে জনগণের ক্ষমতায়ন করতে হবে। জনগণের ক্ষমতায়ন কি? এটা ভাতের অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, কথা শোনার অধিকার।
সমাপনী বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, রাজনীতিতে সমঝোতা একটি শিল্প। আমাদের পরিবারে সদস্য যেমন বাবা, মা, ভাই, বোন সবার সঙ্গে সমঝোতা করে চলতে হয়, ঠিক তেমনি রাজনীতিতে বিভিন্ন দল মতের মানুষদের সঙ্গেও সমঝোতা করতে হয়। এটা এখন শিল্পের পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুদাম সরকারের সভাপত্তিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ আপেলের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. হারুনুর রশীদ, সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটা, যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মোঃ ফারুক হোসেন, আব্দুস সাত্তার মাসুদ, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দীন আহম্মেদ মহি, মঞ্জুর আলম শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান হোসেন খান, সম্পাদকম-লীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, সদস্য এন.আই. আহম্মেদ সৈকত, মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, রেকায়েত আলী খান নিয়ন, ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা মহানগরের দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।
ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের ভোটে আব্দুল মজিদ আপেলকে সভাপতি ও দেবাশীষ দত্ত সমীরকে সাধারণ সম্পাদক  নির্বাচিত করা হয়।

মন্তব্য

মন্তব্য