আজঃ ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ - ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ - ভোর ৫:২০

রাখেন আল্লাহ মারে কে

Published: মার্চ ০১, ২০১৮ - ১০:০৫ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: বৃহস্পতিবার সকাল অনুমান সাড়ে ৫টা। ফজর নামাজ পড়ার জন্য ওযু করতে যাচ্ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বানিয়াগাতী গ্রামের মিনা আক্তার। এ সময় বাড়ির পেছনে শিশুর কান্না শুনতে পান পঞ্চাশ বছর বয়সী মিনা। কান্না শব্দ ধরে তিনি সেখানে গিয়ে রাস্তার পাশে ঝোপের আড়ালে গামছা দিয়ে মোড়ানো ফুটফুটে এক নবজাতক শিশু দেখতে পান তিনি। এরপর শিশুটিকে কোলে নিয়ে ঘরে ফিরে আসেন মিনা।

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সকালে মোবাইল ফোনে তিনি শিশুটির খবর পান। পরে সঙ্গে সঙ্গে তিনি এসআই আবুল হাসেমকে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পাঠান। হয়তো লোকলজ্জার ভয়ে কোনো মা তার নবজাতক শিশুটিকে ঝোপের আড়ালে ফেলে রেখে গেছেন। কিন্তু মিনা আক্তারের মাধ্যমে ঝোপের আড়াল থেকে উদ্ধার পায় শিশুটি।

এসআই আবুল হাসেম জানান, সকাল নয়টার দিকে তিনি বানিয়াগাতী গ্রামে যান। সেখানে মিনা আক্তারের কাছ থেকে নিয়ে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানকার মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুজ্জামান তার সহকর্মীদের নিয়ে প্রথমে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। শিশুটি দত্তক নেওয়ার জন্য উপজেলা সমাজসেবা বিভাগসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনেকেই যোগাযোগ করতে থাকেন। এরপর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ইউএনও মুকতাদিরুল আহমেদ শিশুটিকে দেখার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান।

ইউএনও বলেন, আমরা জানি না- এই নবজাতকের মা-বাবা কে, কি তার পরিচয়। তবে শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। এ সময় তিনি শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় নিজে বহনের ঘোষণা দেন এবং মার্চ মাসের প্রথম দিন তাকে পাওয়া গেছে বলে নাম দেন স্বাধীন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, আপাতত শিশুটিকে কারও কাছে হস্থান্তর করা যাচ্ছে না। তাকে সমাজ সেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের শিশু বিভাগে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

এরপর সন্ধ্যায় সমাজসেবা বিভাগের সমাজকর্মী হোসাইন ঠাকুর মানিকের তত্ত্বাবধানের ওই নবজাতক শিশুকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে পাঠানো হয়।

ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: বৃহস্পতিবার সকাল অনুমান সাড়ে ৫টা। ফজর নামাজ পড়ার জন্য ওযু করতে যাচ্ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বানিয়াগাতী গ্রামের মিনা আক্তার। এ সময় বাড়ির পেছনে শিশুর কান্না শুনতে পান পঞ্চাশ বছর বয়সী মিনা। কান্না শব্দ ধরে তিনি সেখানে গিয়ে রাস্তার পাশে ঝোপের আড়ালে গামছা দিয়ে মোড়ানো ফুটফুটে এক নবজাতক শিশু দেখতে পান তিনি। এরপর শিশুটিকে কোলে নিয়ে ঘরে ফিরে আসেন মিনা।

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সকালে মোবাইল ফোনে তিনি শিশুটির খবর পান। পরে সঙ্গে সঙ্গে তিনি এসআই আবুল হাসেমকে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পাঠান। হয়তো লোকলজ্জার ভয়ে কোনো মা তার নবজাতক শিশুটিকে ঝোপের আড়ালে ফেলে রেখে গেছেন। কিন্তু মিনা আক্তারের মাধ্যমে ঝোপের আড়াল থেকে উদ্ধার পায় শিশুটি।

এসআই আবুল হাসেম জানান, সকাল নয়টার দিকে তিনি বানিয়াগাতী গ্রামে যান। সেখানে মিনা আক্তারের কাছ থেকে নিয়ে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানকার মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুজ্জামান তার সহকর্মীদের নিয়ে প্রথমে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। শিশুটি দত্তক নেওয়ার জন্য উপজেলা সমাজসেবা বিভাগসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনেকেই যোগাযোগ করতে থাকেন। এরপর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ইউএনও মুকতাদিরুল আহমেদ শিশুটিকে দেখার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান।

ইউএনও বলেন, আমরা জানি না- এই নবজাতকের মা-বাবা কে, কি তার পরিচয়। তবে শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। এ সময় তিনি শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় নিজে বহনের ঘোষণা দেন এবং মার্চ মাসের প্রথম দিন তাকে পাওয়া গেছে বলে নাম দেন স্বাধীন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, আপাতত শিশুটিকে কারও কাছে হস্থান্তর করা যাচ্ছে না। তাকে সমাজ সেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের শিশু বিভাগে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

এরপর সন্ধ্যায় সমাজসেবা বিভাগের সমাজকর্মী হোসাইন ঠাকুর মানিকের তত্ত্বাবধানের ওই নবজাতক শিশুকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে পাঠানো হয়।

ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর