আজঃ ২রা পৌষ ১৪২৫ - ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ - সকাল ৮:৩৪

যে ভাবে খুন হয় রাজু:ঘাতকরা আরিফের বাসার সামনে ছিল!

Published: আগ ১২, ২০১৮ - ২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক::নগরীর কুমার পাড়ায় নিহত রাজুর ঘাতকরা সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বাসার সামনে ছিল।এমনটাই সিলেট প্রতিদিনের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে জানিয়েছেন ঐ ঘটনার সময়কার প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি নিহত রাজুর ঘনিষ্ট বড় ভাই নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন আরিফুল চৌধুরীকে নিয়ে রাজু সহ আমরা নির্বাচনী অফিস থেকে উনার বাসায় নিয়ে আসি তখন ঐ খুনীরা মেয়রের বাসার গেইটে ছিল। আরিফুল হক চৌধুরীর বাসা ও ঐ রোডে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে দেখলে আমার কথার সত্যতা পাবেন।পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করবো আপনারা ফুটেজে সংগ্রহ করুন।

তিনি আরো বলেন আমরা আরিফুল হক চৌধুরীর বাসার একটু সামনে আসতেই এক যুবক আমাদের উপর গুলি চালায় বাকিরা দা দিয়ে এলোপাতাড়ী কুপাতে থাকে। আল্লাহর হুকুমে আমি বেচে যাই।ঘাতকরা রাজুকে গুলি করার পর তার মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য দা দিয়ে মাথায় কুপায়।

এ দিকে এই খুনের পেছনে সিটি নির্বাচনের আগে গঠন হওয়া সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটিকেই দায়ী করছেন অনেকে। এই কমিটি গঠনের পর দুভাগে ভিভক্ত হয়ে যায় সিলেটের ছাত্রদল। এক পক্ষ কমিটির পক্ষে আরেক পক্ষ বিপক্ষে। নির্বাচনের পূর্বে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এমনকি ছোটখাট সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

এ দিকে অপর একটি সুত্র বলছে আরিফুল হক চৌধুরীর গাড়িতে উটা নিয়ে রকিব চৌধুরী ও রাজুর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।ঘটনার সুত্রপাত এখান থেকেও হতে পারে বলে ঐ সুত্র দাবি করছে।

দলীয় আরেক সুত্র জানায় রাজু আরিফের ঘনিষ্টজন ছাত্রদল নেতা রকিব চৌধুরীর গ্রুপ করতো।সম্প্রতি রাজু গ্রুপ পরিবর্তন করে এই কারনেও রাজু খুন হতে পারেন।

নিহত রাজু নগরের উপশহর ‘এ’ ব্লকের ৯ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাসার বাসিন্দা,তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার শাহপুর গ্রামের ফজর আলীর ছেলে ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক দবির আলীর বাতিজা।

এ দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের পুনরায় নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিজয় মিছিল শেষে ফেরার সময় হামলায় নিহত সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজুর উপর হামলাকারী খুনীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন মেয়র আরিফ।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে আরিফ বলেন- নির্বাচন কমিশন থেকে বাসায় ফেরার পথে তার গাড়িবহরের সাথে মোটরসাইকেলে ছিল রাজু। বাসায় পৌছে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. শাহজাহানের সাথে দেখা করতে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর তার বাসা থেকে বের হয় রাজু। বাসা থেকে বরে হয়ে গলির মুখে আসামাত্র তার উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ঘটনা শুনে ওসমানী মেডিকেলে ছুটে যান আরিফ। সেখানে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন- হামলাকারীরা সন্ত্রাসী। এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

একই সাথে এদের যদি কোন রাজনৈতিক পরিচয় থাকে তবে তাদেও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবী জানান তিনি।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক::নগরীর কুমার পাড়ায় নিহত রাজুর ঘাতকরা সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বাসার সামনে ছিল।এমনটাই সিলেট প্রতিদিনের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে জানিয়েছেন ঐ ঘটনার সময়কার প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি নিহত রাজুর ঘনিষ্ট বড় ভাই নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন আরিফুল চৌধুরীকে নিয়ে রাজু সহ আমরা নির্বাচনী অফিস থেকে উনার বাসায় নিয়ে আসি তখন ঐ খুনীরা মেয়রের বাসার গেইটে ছিল। আরিফুল হক চৌধুরীর বাসা ও ঐ রোডে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে দেখলে আমার কথার সত্যতা পাবেন।পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করবো আপনারা ফুটেজে সংগ্রহ করুন।

তিনি আরো বলেন আমরা আরিফুল হক চৌধুরীর বাসার একটু সামনে আসতেই এক যুবক আমাদের উপর গুলি চালায় বাকিরা দা দিয়ে এলোপাতাড়ী কুপাতে থাকে। আল্লাহর হুকুমে আমি বেচে যাই।ঘাতকরা রাজুকে গুলি করার পর তার মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য দা দিয়ে মাথায় কুপায়।

এ দিকে এই খুনের পেছনে সিটি নির্বাচনের আগে গঠন হওয়া সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটিকেই দায়ী করছেন অনেকে। এই কমিটি গঠনের পর দুভাগে ভিভক্ত হয়ে যায় সিলেটের ছাত্রদল। এক পক্ষ কমিটির পক্ষে আরেক পক্ষ বিপক্ষে। নির্বাচনের পূর্বে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এমনকি ছোটখাট সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

এ দিকে অপর একটি সুত্র বলছে আরিফুল হক চৌধুরীর গাড়িতে উটা নিয়ে রকিব চৌধুরী ও রাজুর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।ঘটনার সুত্রপাত এখান থেকেও হতে পারে বলে ঐ সুত্র দাবি করছে।

দলীয় আরেক সুত্র জানায় রাজু আরিফের ঘনিষ্টজন ছাত্রদল নেতা রকিব চৌধুরীর গ্রুপ করতো।সম্প্রতি রাজু গ্রুপ পরিবর্তন করে এই কারনেও রাজু খুন হতে পারেন।

নিহত রাজু নগরের উপশহর ‘এ’ ব্লকের ৯ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাসার বাসিন্দা,তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার শাহপুর গ্রামের ফজর আলীর ছেলে ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক দবির আলীর বাতিজা।

এ দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের পুনরায় নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিজয় মিছিল শেষে ফেরার সময় হামলায় নিহত সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজুর উপর হামলাকারী খুনীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন মেয়র আরিফ।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে আরিফ বলেন- নির্বাচন কমিশন থেকে বাসায় ফেরার পথে তার গাড়িবহরের সাথে মোটরসাইকেলে ছিল রাজু। বাসায় পৌছে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. শাহজাহানের সাথে দেখা করতে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর তার বাসা থেকে বের হয় রাজু। বাসা থেকে বরে হয়ে গলির মুখে আসামাত্র তার উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ঘটনা শুনে ওসমানী মেডিকেলে ছুটে যান আরিফ। সেখানে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন- হামলাকারীরা সন্ত্রাসী। এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

একই সাথে এদের যদি কোন রাজনৈতিক পরিচয় থাকে তবে তাদেও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবী জানান তিনি।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর