যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড.কবিরের বিরুদ্ধে বাসা দখলের অভিযোগ…

0
1428

যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবিরের মদদে ও পৃষ্টপোষকতায় তাঁর ছোটভাই ড. আহমদ আল ওয়ালী ও সিলেট জেলা পরিষদ সদস্য শামিম আহমদসহ ১৩ জন মিলে নগরীল উপশহরের প্রায় দেড় কোটি টাকার একটি বাসা দখলের অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের বাসা দখল করে রেখেছে তারা । শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ ফনু মিয়া উরফে বুলু মিয়ার ছেলে সৈয়দ শামসুন্নুর আলী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০০২ সালের ২১ জুলাই সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আটঘর গ্রামের বাসিন্দা মো. নূর উদ্দিন খাঁনের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা দিয়ে আমার পিতা জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের সৈয়দ ফনু মিয়া উরফে বুলু মিয়া অখন্ডনীয় আমমোক্তারনামা দলিল সম্পাদন পূর্বক রেজিষ্ট্রি করে সিলেট মহানগরের শাহজালাল উপশহরের এইচ ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ৩১২ নম্বর প্লটের ৫ কাটার একটি প্লট ক্রয় করেন।

পরবর্তীতে আমার পিতা সৈয়দ ফনু মিয়া উরফে বুলু মিয়া বরাবরে, সম্পাদিত একরারনামা, আমমোক্তারনামা ও অন্যান্য কাগজাদির ভিত্তিতে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিলেট গৃহসংস্থান উপ-বিভাগ-১ এর কার্যালয়ের স্মারক নম্বর- ৩৯২/৩ এবং ৫/১১/২০০২ তারিখ মূলে জাতীয় গৃহয়ান কর্তৃপক্ষ প্লটের দখল অফিসসিয়ালী সৈয়দ ফনু মিয়া উরফে বুলু মিয়াকে সমজিয়ে দেন।

এরপর আমার পিতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ২০ মে ১৫৬০ নম্বর স্মারকে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাড়ি নির্মাণের সময় বর্ধিত করে দেন এবং বহুতলা ফাউন্ডেশনের বিশিষ্ট দালান নির্মাণের জন্য জনাব মো. এখলাছুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী সিলেট ডিভিশন এর কার্যালয়ের বিগত ২২/০৩/২০০৬ ইং তারিখের ২৫৩ নম্বর স্মারকে ও ০২/০৪/২০০৬ইং তারিখের ১৮৩ নম্বর স্মারকে ১/৫৪/৩৮(অনু)/২৯২ তারিখ ০২/০৪/২০০৬ মূলে গৃহ নির্মাণের নকশা অনুমোদন করেন। এরপর থেকে আমরা ৫ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট এক তলা ভবন নির্মাণ করে ওই জায়গায় ভোগ দখলে ছিলাম।
সাম্প্রতিক জরিপকালে জরিপকারক কর্মকর্তাগণ আমার পিতা সৈয়দ ফনু মিয়া উরফে বুলু মিয়া ভোগদখলদার হিসেবে হাল জরিপী ২৮২৩ নম্বর খতিয়ানের ২৭৭৬ নম্বর দাগে সৈয়দ ফনু মিয়া উরফে বুলু মিয়ার নামে তসদিককৃত মাঠ পর্চা প্রদান করেন।

লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ শামসুন্নুর আলী আরও বলেন, কিন্তু বিগত ২০০৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মো. নূর উদ্দিন খাঁন মারা গেলে নিহতের ছেলে মো. সালমান উদ্দিন খান, মো. বুরহান উদ্দিন খান, মো. এনাম উদ্দিন খান, মো. জামাল উদ্দিন খান, মো. সালাম উদ্দিন খান, মো. সাহাব উদ্দিন খান, মো. মুসলেহ উদ্দিন খান ও মেয়ে মোছাম্মৎ হাফেজা খানম এবং নুর উদ্দিন খানের ভাগ্নে বিএনপি নেতা, ভূমির দালাল জগন্নাথপুর উপজেলার এমএ মালেক খান, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার নুরপুর গ্রামের ডা. তোফাজ্জল আলীর ছেলে ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবিরের ভাই ড. আহমদ আল ওয়ালী, জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসী গ্রামের সাজ্জাদুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও মহানগরীর শাহজালাল উপশহরের ই ব্লকের ৫ নম্বর সড়কের ৮/১ নম্বর বাসার আজিজুর রহমানের ছেলে সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য (জকিগঞ্জ), মহানগর যুবলীগের সাবেক সদস্য শামীম আহমদের পরস্পর যোগসাজসে তপশীল বর্ণিত প্লটটি ২৪/১০/২০১১ইং তারিখে ১৭৫৬১/২০১১ নম্বর রেজিষ্ট্রি দলিলমূলে ড. আহমদ আল ওয়ালী ক্রয় করেন। পরে সৈয়দ ফনু মিয়া উরফে বুলু মিয়াকে প্রতারিত করে ৩১/০১/২০১২ইং তারিখে শামীম আহমদ অজ্ঞাত সন্ত্রাসী নিয়ে বুলু মিয়ার বাসার ওই জায়গা আত্বসাতের জন্য দখলে নেওয়ার প্রচেষ্ঠা চালান। ওইদিনই এ ঘটনায় সৈয়দ ফনু মিয়া উরফে বুলু মিয়ার ছেলে সৈয়দ ফয়জুন্নুর আলী বাদি হয়ে শাপরাণ (রহ.) থানায় উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে জিডি করেন। জিডি নম্বর ৬০।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, উল্লেখিত দখলদার ও সন্ত্রাসীরা নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার পিতা সৈয়দ ফনু মিয়া উরফে বুলু মিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করে এবং আমার পিতার ছবির পরিবর্তে ভিন্ন লোকের ছবি পরিচয়পত্রে সংযোজন করে প্রতারণা করে আমার পিতার আসল জাতীয় পরিচয়পত্র ৯০১৪৭৮৫১২৪১৬৭ নম্বরের স্থলে ৯০১৪৭৪৭০৮১০২১ নম্বরের জাল একটি জাতীয় পরিচয়পত্র সৃজন করে এবং আমার পিতা বুলু মিয়ার স্বাক্ষর জাল করে আমার পিতার স্থলে ভিন্ন লোককে বুলু মিয়া সাজিয়ে ল-৪৭৯৫২৫৩ নম্বরের একশত টাকার একটি ও ম ০৩৫১৭৫০ নম্বরের পাঁচশ টাকার একটি স্ট্যাম্পে, তারিখ বিহীন একখানা নাদাবীনামা সৃজন করে সিলেট হাউজিং এষ্টেট, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সিলেট অফিসের কতিপয় অসাধু ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজসে সব কিছু গোপন করে জাল নাদাবীনামা ও জাতীয় পরিচয়পত্রকে খাঁটি (আসল) হিসাবে ব্যবহার করে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তপশীল বর্ণিত প্লট বিক্রিয়ের অনুমতি প্রাপ্ত হয়।
সৈয়দ শামসুন্নুর আলী দাবি করেন, আমার পিতা সৈয়দ ফনু মিয়া উরফে বুলু মিয়া কখনো কোনো নাদাবীনামা সম্পাদন করেন নি। আমার পিতার পূর্বের স্বাক্ষরের সাথে নাদাবীনামার স্বাক্ষরের কোনো মিল না থাকা স্বত্বেও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বিএনপি নেতা জায়গা জমির দালাল এমএ মালেক খান, যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবিরের ভাই ড. আহমদ আল ওয়ালী, জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসী গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য (জকিগঞ্জ), মহানগর যুবলীগের সাবেক সদস্য শামীম আহমদের ক্ষমতার প্রভাবে নতি স্বীকার করে, অন্যায়ভাবে লাভবান হয়ে জালিয়াতি কার্যক্রমে সহায়তা করে।

তাছাড়া ওই চক্রের আত্বীয়স্বজন দেশের বিভিন্ন উচ্চ পদে কর্মরত থাকায় তাদের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে পূর্বের হস্তান্তরের সকল বিষয় অবহিত থাকা স্বত্ত্বেও, অতি লোভে কম দামে তপশীল বর্ণিত প্লটটি জালিয়াতির মাধ্যমে ক্রয় করেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবিরের ভাই ড. আহমদ আল ওয়ালী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ড. আহমদ আল ওয়ালী ও সাবেক যুবলীগ নেতা শামীম আহমদসহ উল্লেখিত ভূমি জালিয়াত চক্র সিলেট হাউজিং এষ্টেট, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সিলেটের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে প্রতারনা করে আমার পিতা সৈয়দ ফনু মিয়া উরফে বুলু মিয়ার স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করে নাদাবীনামা (মূল্যবান জামানত/দলিল) জাল করে খাঁটি (আসল) হিসাবে ব্যবহার করে ঘটনার তারিখ অর্থাৎ ২৪/১০/১১ ইং তারেিখ ১৭৫৬১/১১ নম্বরের মিথ্যা রেজিষ্টারী দলিল সৃজন করে তপশীল বর্ণিত প্লট আতœসাৎ করে দঃবিঃ ৪৬৭/৪৬৮/৪০৬/৪২০/৪১৯/৪১৭/১০৭ ধারায় দন্ডনীয় অপরাধ করেন। আমরা এর বিচার চাই।

 

Leave a Reply