আজঃ ২রা পৌষ ১৪২৫ - ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ - সকাল ৮:৩৭

মেসির নৈপুণ্যে বার্সার রোমাঞ্চকর জয়

Published: অক্টো ০৪, ২০১৮ - ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক::পোস্টের বাধায় দুবার গোলবঞ্চিত হলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ঠিকই গোল আদায় করে নিলেন লিওনেল মেসি। জোড়া গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের গোলে রাখলেন ভূমিকা। টটেনহ্যাম হটস্পারকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয়ধারা ধরে রাখলো বার্সেলোনা।

লন্ডনের ওয়েম্বলিতে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি ৪-২ গোলে জিতেছে কাতালান ক্লাবটি। ফিলিপে কৌতিনিয়ো গোলে বার্সেলোনা এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান বাড়ান ইভান রাকিতিচ।

গোলরক্ষকের মারাত্মক ভুলে ৯২ সেকেন্ডে গোল খেয়ে বসে টটেনহ্যাম। মেসির লম্বা করে বাড়ানো বল ধরে বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকা জর্দি আলবাকে ঠেকাতে ছুটে যান উগো লরিস, ফাঁকা হয়ে যায় পোস্ট। দ্রুত ডান দিকে কৌতিনিয়োকে পাস দেন আলবা। ২০ গজ দূর থেকে জোরালো শটে অনায়াসে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার।

এরপর বেশ খানিকটা সময় ধরে দুদলের ফুটবলই ছিল অগোছালো। এরই মাঝে ২৮তম মিনিটে দারুণ ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাকিতিচ।

এই গোলেও ভূমিকা ছিল মেসির। তার উঁচু করে বাড়ানো দারুণ বল ছোট ডি-বক্সের মুখে পেয়ে বাঁয়ে কৌতিনিয়োকে দেন সুয়ারেস। কৌতিনিয়ো বাড়ান রাকিতিচকে। আর ক্রোয়াট মিডফিল্ডারের ভলি পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।

প্রথমার্ধে টটেনহ্যাম তাদের একমাত্র সুযোগটি পায় ৩৩তম মিনিটে। সন হিউং মিনের শট এক জনের পায়ে লেগে কিছুটা দিক পাল্টে জালে জড়াতে যাচ্ছিল। ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন।

দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুবার ভাগ্যের ফেরে গোলবঞ্চিত হন মেসি। ৪৭তম মিনিটে ডি-বক্সে মধ্যে থেকে তার নেওয়া শট লাগে পোস্টে। তিন মিনিট পর ডিফেন্ডারদের পিছনে ফেলে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের নেওয়া শট আবারও লাগে বাঁ পোস্টে।

৫২তম মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে ব্যবধান কমান হ্যারি কেইন। বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পর্তুগিজ ডিফেন্ডার নেলসন সেমেদোকে এক ঝটকায় ফেলে দিয়ে ডান পায়ের শটে গোলটি করেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড।

৫৬তম মিনিটে গোলরক্ষক কিংবা পোস্ট, কিছুই বাধা হতে পারেনি মেসির সামনে। আলবাকে বাঁয়ে পাস দিয়ে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে ফিরতি বল পেয়ে পোস্ট ঘেঁষে লক্ষ্যভেদ করেন আর্জেন্টাইন তারকা।

৬৬তম মিনিটে আবারও ব্যবধান কমিয়ে রোমাঞ্চকর শেষের আভাস দেন এরিক লামেলা। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের জোরালো শট ফরাসি সেন্টার-ব্যাক ক্লেমোঁ লংলের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এটি আট হাজারতম গোল।

দুই মিনিট পরেই দ্বিতীয় ভুল করে বসেন ফরাসি গোলরক্ষক লরিস। ডি-বক্সে আলগা বল ধরতে ছুটে আসেন সুয়ারেস। এগিয়ে গিয়ে শট নেন লরিস, বল মেসির গায়ে লেগে চলে আসে গোলমুখে। কোনোমতে বল বিপদুমক্ত করেন বেলজিয়াম ডিফেন্ডার টবি আল্ডারভাইরেল্ড।

নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে সব অনিশ্চিয়তার ইতি টানেন মেসি। আলবার বাড়ানো বল ডামি করেন সুয়ারেস আর ডি-বক্সে ধরে বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বার্সেলোনা অধিনায়ক।

এবারের আসরে মেসির এটি পঞ্চম গোল। ডাচ চ্যাম্পিয়ন পিএসভির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। ক্লাব পর্যায়ে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বে ৬৫ ম্যাচে মেসির এটি ৬৫তম গোল। আর সব মিলিয়ে তার গোল হলো ১০৫টি।

দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। পিএসভিকে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে হারানো ইন্টার মিলান সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে।

টটেনহ্যাম ও পিএসভির পয়েন্ট শূন্য।

‘এ’ গ্রুপে ঘরের মাঠে ফরাসি ক্লাব মোনাকোকে ৩-০ গোলে হারানো জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমু্ড ৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজকে ৩-০ গোলে হারানো আতলেতিকো মাদ্রিদেরও পয়েন্ট ৬। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা।

‘সি’ গ্রুপে সার্বিয়ার রেড স্টার বেলগ্রেডকে ৬-১ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। আর নাপোলি নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে লিভারপুলকে হারিয়েছে।

‘ডি’ গ্রুপে পর্তুগালের ক্লাব পোর্তো ১-০ গোলে হারিয়েছে তুরস্কের গালাতাসারাইকে। আর রাশিয়ার লোকোমোতিভ মস্কোকে তাদেরই মাঠে ১-০ গোলে হারিয়েছে জার্মানির শালকে।

Facebook Comments

স্পোর্টস ডেস্ক::পোস্টের বাধায় দুবার গোলবঞ্চিত হলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ঠিকই গোল আদায় করে নিলেন লিওনেল মেসি। জোড়া গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের গোলে রাখলেন ভূমিকা। টটেনহ্যাম হটস্পারকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয়ধারা ধরে রাখলো বার্সেলোনা।

লন্ডনের ওয়েম্বলিতে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি ৪-২ গোলে জিতেছে কাতালান ক্লাবটি। ফিলিপে কৌতিনিয়ো গোলে বার্সেলোনা এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান বাড়ান ইভান রাকিতিচ।

গোলরক্ষকের মারাত্মক ভুলে ৯২ সেকেন্ডে গোল খেয়ে বসে টটেনহ্যাম। মেসির লম্বা করে বাড়ানো বল ধরে বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকা জর্দি আলবাকে ঠেকাতে ছুটে যান উগো লরিস, ফাঁকা হয়ে যায় পোস্ট। দ্রুত ডান দিকে কৌতিনিয়োকে পাস দেন আলবা। ২০ গজ দূর থেকে জোরালো শটে অনায়াসে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার।

এরপর বেশ খানিকটা সময় ধরে দুদলের ফুটবলই ছিল অগোছালো। এরই মাঝে ২৮তম মিনিটে দারুণ ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাকিতিচ।

এই গোলেও ভূমিকা ছিল মেসির। তার উঁচু করে বাড়ানো দারুণ বল ছোট ডি-বক্সের মুখে পেয়ে বাঁয়ে কৌতিনিয়োকে দেন সুয়ারেস। কৌতিনিয়ো বাড়ান রাকিতিচকে। আর ক্রোয়াট মিডফিল্ডারের ভলি পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।

প্রথমার্ধে টটেনহ্যাম তাদের একমাত্র সুযোগটি পায় ৩৩তম মিনিটে। সন হিউং মিনের শট এক জনের পায়ে লেগে কিছুটা দিক পাল্টে জালে জড়াতে যাচ্ছিল। ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন।

দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুবার ভাগ্যের ফেরে গোলবঞ্চিত হন মেসি। ৪৭তম মিনিটে ডি-বক্সে মধ্যে থেকে তার নেওয়া শট লাগে পোস্টে। তিন মিনিট পর ডিফেন্ডারদের পিছনে ফেলে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের নেওয়া শট আবারও লাগে বাঁ পোস্টে।

৫২তম মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে ব্যবধান কমান হ্যারি কেইন। বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পর্তুগিজ ডিফেন্ডার নেলসন সেমেদোকে এক ঝটকায় ফেলে দিয়ে ডান পায়ের শটে গোলটি করেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড।

৫৬তম মিনিটে গোলরক্ষক কিংবা পোস্ট, কিছুই বাধা হতে পারেনি মেসির সামনে। আলবাকে বাঁয়ে পাস দিয়ে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে ফিরতি বল পেয়ে পোস্ট ঘেঁষে লক্ষ্যভেদ করেন আর্জেন্টাইন তারকা।

৬৬তম মিনিটে আবারও ব্যবধান কমিয়ে রোমাঞ্চকর শেষের আভাস দেন এরিক লামেলা। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের জোরালো শট ফরাসি সেন্টার-ব্যাক ক্লেমোঁ লংলের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এটি আট হাজারতম গোল।

দুই মিনিট পরেই দ্বিতীয় ভুল করে বসেন ফরাসি গোলরক্ষক লরিস। ডি-বক্সে আলগা বল ধরতে ছুটে আসেন সুয়ারেস। এগিয়ে গিয়ে শট নেন লরিস, বল মেসির গায়ে লেগে চলে আসে গোলমুখে। কোনোমতে বল বিপদুমক্ত করেন বেলজিয়াম ডিফেন্ডার টবি আল্ডারভাইরেল্ড।

নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে সব অনিশ্চিয়তার ইতি টানেন মেসি। আলবার বাড়ানো বল ডামি করেন সুয়ারেস আর ডি-বক্সে ধরে বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বার্সেলোনা অধিনায়ক।

এবারের আসরে মেসির এটি পঞ্চম গোল। ডাচ চ্যাম্পিয়ন পিএসভির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। ক্লাব পর্যায়ে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বে ৬৫ ম্যাচে মেসির এটি ৬৫তম গোল। আর সব মিলিয়ে তার গোল হলো ১০৫টি।

দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। পিএসভিকে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে হারানো ইন্টার মিলান সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে।

টটেনহ্যাম ও পিএসভির পয়েন্ট শূন্য।

‘এ’ গ্রুপে ঘরের মাঠে ফরাসি ক্লাব মোনাকোকে ৩-০ গোলে হারানো জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমু্ড ৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজকে ৩-০ গোলে হারানো আতলেতিকো মাদ্রিদেরও পয়েন্ট ৬। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা।

‘সি’ গ্রুপে সার্বিয়ার রেড স্টার বেলগ্রেডকে ৬-১ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। আর নাপোলি নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে লিভারপুলকে হারিয়েছে।

‘ডি’ গ্রুপে পর্তুগালের ক্লাব পোর্তো ১-০ গোলে হারিয়েছে তুরস্কের গালাতাসারাইকে। আর রাশিয়ার লোকোমোতিভ মস্কোকে তাদেরই মাঠে ১-০ গোলে হারিয়েছে জার্মানির শালকে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর