আজঃ ৫ই কার্তিক ১৪২৫ - ২০শে অক্টোবর ২০১৮ - সকাল ৭:১১

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একটি আবেগের বিষয়

Published: অক্টো ১২, ২০১৮ - ২:০৯ পূর্বাহ্ণ

মোঃমিফতাহ্ উদ্দিন::নব্য সুশীলরা এখন প্রায় বলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টেতনা বাদ দেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের দল বলতে কিছু নাই। সবই নিজের পকেট ভারী করার ধান্দা।এসব বলে তারা চায় বিএনপি আওয়ামী লীগকে একী কাতারে দাঁড় করাতে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের একটি আবেগের বিষয়। কোনো বিশেষ চেতনা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই একটি দেশ তার পথ পরিচালনা করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে যেসব আবেগ ও উচ্ছ্বাস সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং সাহস জুগিয়েছে দুর্বার আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে, তা-ই সমষ্টিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এর রয়েছে সুদীর্ঘ পটভূমি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তা চরমরূপ ধারণ করে ১৯৭১ সালে। বীর বাঙালি দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলে দুর্বার প্রতিরোধ আন্দোলন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও অত্যাচার থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। সুদীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের ফলে পরাজিত হয় হাজার হাজার পাকহানাদার বাহিনী এবং বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তাই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে তা একটি আলোচনার বিষয়।দীর্ঘ দিন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আদর্শের স্বাদ পায়নি।এদেশের একটি প্রজন্মকে শেখানোই হয়েছে এসব চেতনা টেতনা এখন আর বলে লাভ নাই,সবাই এক।আসলেই কী সবাই এক?তরুণ প্রজন্মের সামনে সুযোগ ইতিহাস জানার,নিজেদের অস্তিত্বকে নতুন করে চিনে নেওয়ার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব আন্দোলন সংগ্রাম গুলোতে নেতৃত্ব্ দিয়ে সফল ভাবে বাঙালি জাতিকে কয়েকটি নির্দিষ্ট স্তম্ভে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন। আর এই স্তম্ভের মিশ্রনে তিনি চার মুলনীতির মিশ্রন গঠিয়ে বাঙালির জন্য স্বাধীন স্বার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র তৈরী করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই উনার চেয়ে আর কেউ বেশী করে বুঝতে পারবে না যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা কি রকম হতে পারে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়টুকুতে তিনি বাংলাদেশকে বাঙালির উপযোগী করে এবং বিগত দিনগুলোর আন্দোলন সংগ্রামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের নির্যাস থেকে এই দেশের মহান সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন।এদেশে এখন ৭২ এর সংবিধান হুবহু চালু করা দুরূহ কারন যে চার নীতির উপর এদেশকে দাঁড় করানো হয়েছিলো তার ১৮০ ডিগ্রী এংগেলে এদেশ দীর্ঘদিন পরিচালিত হয় এন্টি আওয়ামীলীগ দ্বারা।

আওয়ামীলীগের এই ১০ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে আপনি যতোবার মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছেন আগে কী শুনতেন?উত্তর না।কারন একটাই আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল,যাদের রক্তে মননে চিন্তায় চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ।
সময় পরিবর্তিত হলেও ধ্রুবকের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কণ্ঠস্বর এখনো আওয়ামীলীগ-ই।তাই এদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলকে ক্ষমতায় রাখাটা ভীষণ প্রয়োজন তা না হলে পুরো রাজনীতিতেই আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের পরিপন্থী রাজনীতির আস্ফালন পূর্বের চেয়েও অধিক হারে বেড়ে যাবে যেটা হতে না দেওয়াটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।দায়িত্বটা নিতে হবে আবার তরুণ প্রজন্মকেই।

লেখক:সভাপতি,বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ,সিলেট মহানগর।

Facebook Comments

মোঃমিফতাহ্ উদ্দিন::নব্য সুশীলরা এখন প্রায় বলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টেতনা বাদ দেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের দল বলতে কিছু নাই। সবই নিজের পকেট ভারী করার ধান্দা।এসব বলে তারা চায় বিএনপি আওয়ামী লীগকে একী কাতারে দাঁড় করাতে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের একটি আবেগের বিষয়। কোনো বিশেষ চেতনা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই একটি দেশ তার পথ পরিচালনা করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে যেসব আবেগ ও উচ্ছ্বাস সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং সাহস জুগিয়েছে দুর্বার আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে, তা-ই সমষ্টিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এর রয়েছে সুদীর্ঘ পটভূমি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তা চরমরূপ ধারণ করে ১৯৭১ সালে। বীর বাঙালি দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলে দুর্বার প্রতিরোধ আন্দোলন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও অত্যাচার থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। সুদীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের ফলে পরাজিত হয় হাজার হাজার পাকহানাদার বাহিনী এবং বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তাই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে তা একটি আলোচনার বিষয়।দীর্ঘ দিন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আদর্শের স্বাদ পায়নি।এদেশের একটি প্রজন্মকে শেখানোই হয়েছে এসব চেতনা টেতনা এখন আর বলে লাভ নাই,সবাই এক।আসলেই কী সবাই এক?তরুণ প্রজন্মের সামনে সুযোগ ইতিহাস জানার,নিজেদের অস্তিত্বকে নতুন করে চিনে নেওয়ার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব আন্দোলন সংগ্রাম গুলোতে নেতৃত্ব্ দিয়ে সফল ভাবে বাঙালি জাতিকে কয়েকটি নির্দিষ্ট স্তম্ভে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন। আর এই স্তম্ভের মিশ্রনে তিনি চার মুলনীতির মিশ্রন গঠিয়ে বাঙালির জন্য স্বাধীন স্বার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র তৈরী করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই উনার চেয়ে আর কেউ বেশী করে বুঝতে পারবে না যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা কি রকম হতে পারে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়টুকুতে তিনি বাংলাদেশকে বাঙালির উপযোগী করে এবং বিগত দিনগুলোর আন্দোলন সংগ্রামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের নির্যাস থেকে এই দেশের মহান সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন।এদেশে এখন ৭২ এর সংবিধান হুবহু চালু করা দুরূহ কারন যে চার নীতির উপর এদেশকে দাঁড় করানো হয়েছিলো তার ১৮০ ডিগ্রী এংগেলে এদেশ দীর্ঘদিন পরিচালিত হয় এন্টি আওয়ামীলীগ দ্বারা।

আওয়ামীলীগের এই ১০ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে আপনি যতোবার মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছেন আগে কী শুনতেন?উত্তর না।কারন একটাই আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল,যাদের রক্তে মননে চিন্তায় চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ।
সময় পরিবর্তিত হলেও ধ্রুবকের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কণ্ঠস্বর এখনো আওয়ামীলীগ-ই।তাই এদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলকে ক্ষমতায় রাখাটা ভীষণ প্রয়োজন তা না হলে পুরো রাজনীতিতেই আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের পরিপন্থী রাজনীতির আস্ফালন পূর্বের চেয়েও অধিক হারে বেড়ে যাবে যেটা হতে না দেওয়াটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।দায়িত্বটা নিতে হবে আবার তরুণ প্রজন্মকেই।

লেখক:সভাপতি,বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ,সিলেট মহানগর।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর