আজঃ ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - দুপুর ১:৪৯

মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়নে নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন : ১৫ বছর পর নির্বাচনী আমেজ

Published: সেপ্টে ০৭, ২০১৮ - ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসন হওয়ায় এ দু’টি ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে, ইউনিয়ন দু’টির বাসিন্দারা উৎফুল্ল। অনেকেই প্রার্থী হতে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ও পার্শ্ববর্তী বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ২০০৩ সালে সর্বশেষ মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আকমল হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আর দশঘর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা সফিক উদ্দিন। ২০০৮ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে আকমল হোসেন পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ইউপি সদস্য জমির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে, ২০১৩ সালে দশঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমালে এ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইউপি সদস্য ছাতির মিয়া।

জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়- ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নের মতো মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়নের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে বিশ্বনাথের দশঘর গ্রামের মানিক মিয়া বাদী হয়ে হাইকোর্টে ওয়ান ইলেভেনের সময় সারাদেশে ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়ন কালে মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়নের সীমান্তের লহরী গ্রামের কিছু ভোট বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন থেকে মীরপুর ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সংক্ষুব্ধ হয়ে সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।

সেই থেকে উচ্চ আদালতে মামলা চলায় এ দু’টি ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে না। ২০১৬ সালে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়নি।

মীরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মহি উদ্দিন জানান, ১৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করায় জনপ্রতিনিধিরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে অনেকটা সরে গেছেন। যে কারণে অধিকাংশ জনপ্রতিনিধিরাই খেয়াল খুশিমতো দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তাই ইউনিয়নে দ্রুত নির্বাচন হওয়ার জন্য সবাই ব্যাকুল হয়ে আছেন।

মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন বলেন- পরিষদের ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্যে চেয়ারম্যান পদত্যাগের পর ১২ জন থাকার কথা থাকলেও ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আরশ আলী ও ৩নং ওয়ার্ড সদস্য হারুন মিয়া নির্বাচনের দুই বছর পর থেকে যুক্তরাজ্যে চলে যান। গত চার-পাঁচ বছর থেকে ১নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল কাদির ও ৮নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস ছোবহান অসুস্থ হয়ে পরিষদে আসতে পারছেন না। অন্য আটজনকে নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, তিনি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান।

অপরদিকে, বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাতির মিয়া বলেন- চেয়ারম্যান সফিক উদ্দিন ও ৫নং ওয়ার্ড সদস্য সায়েস্তা মিয়া যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। এ দু’জন জনপ্রতিনিধি ছাড়া অন্য সবাই আমরা দায়িত্ব পালন করছি। নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা খারিজ হয়েছে বলে শুনেছি। এখনো কাগজপত্র কিছু পাইনি।

মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বাস্তবায়ন পরিষদ নেতা ছায়াদুর রহমান বলেন, ১৫ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় ইউনিয়ন দু’টি অনেক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। তাই আমরা বাধ্য হয়ে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সম্প্রতি হাইকোর্টে সীমানা সংক্রান্ত মামলা খারিজ হয়েছে। এখন নির্বাচন হতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। মামলার আদেশের ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

মীরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান প্রত্যাশী ইলিয়াছ আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন পর আইনি জটিলতা নিরসন হওয়ায় আমরা খুব খুশি। নির্বাচনের জন্য এখন আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান ও বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার বলেন- মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন নির্বাচন বিষয়ে এখনো আদালত কিংবা নির্বাচন কমিশনের কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে, শুনেছি নির্বাচনের প্রতিবন্ধকতা সীমানা সংক্রান্ত মামলা খারিজ হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথে নির্বাচন আয়োজন করবো।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসন হওয়ায় এ দু’টি ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে, ইউনিয়ন দু’টির বাসিন্দারা উৎফুল্ল। অনেকেই প্রার্থী হতে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ও পার্শ্ববর্তী বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ২০০৩ সালে সর্বশেষ মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আকমল হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আর দশঘর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা সফিক উদ্দিন। ২০০৮ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে আকমল হোসেন পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ইউপি সদস্য জমির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে, ২০১৩ সালে দশঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমালে এ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইউপি সদস্য ছাতির মিয়া।

জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়- ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নের মতো মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়নের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে বিশ্বনাথের দশঘর গ্রামের মানিক মিয়া বাদী হয়ে হাইকোর্টে ওয়ান ইলেভেনের সময় সারাদেশে ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়ন কালে মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়নের সীমান্তের লহরী গ্রামের কিছু ভোট বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন থেকে মীরপুর ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সংক্ষুব্ধ হয়ে সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।

সেই থেকে উচ্চ আদালতে মামলা চলায় এ দু’টি ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে না। ২০১৬ সালে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়নি।

মীরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মহি উদ্দিন জানান, ১৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করায় জনপ্রতিনিধিরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে অনেকটা সরে গেছেন। যে কারণে অধিকাংশ জনপ্রতিনিধিরাই খেয়াল খুশিমতো দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তাই ইউনিয়নে দ্রুত নির্বাচন হওয়ার জন্য সবাই ব্যাকুল হয়ে আছেন।

মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন বলেন- পরিষদের ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্যে চেয়ারম্যান পদত্যাগের পর ১২ জন থাকার কথা থাকলেও ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আরশ আলী ও ৩নং ওয়ার্ড সদস্য হারুন মিয়া নির্বাচনের দুই বছর পর থেকে যুক্তরাজ্যে চলে যান। গত চার-পাঁচ বছর থেকে ১নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল কাদির ও ৮নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস ছোবহান অসুস্থ হয়ে পরিষদে আসতে পারছেন না। অন্য আটজনকে নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, তিনি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান।

অপরদিকে, বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাতির মিয়া বলেন- চেয়ারম্যান সফিক উদ্দিন ও ৫নং ওয়ার্ড সদস্য সায়েস্তা মিয়া যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। এ দু’জন জনপ্রতিনিধি ছাড়া অন্য সবাই আমরা দায়িত্ব পালন করছি। নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা খারিজ হয়েছে বলে শুনেছি। এখনো কাগজপত্র কিছু পাইনি।

মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বাস্তবায়ন পরিষদ নেতা ছায়াদুর রহমান বলেন, ১৫ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় ইউনিয়ন দু’টি অনেক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। তাই আমরা বাধ্য হয়ে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সম্প্রতি হাইকোর্টে সীমানা সংক্রান্ত মামলা খারিজ হয়েছে। এখন নির্বাচন হতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। মামলার আদেশের ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

মীরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান প্রত্যাশী ইলিয়াছ আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন পর আইনি জটিলতা নিরসন হওয়ায় আমরা খুব খুশি। নির্বাচনের জন্য এখন আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান ও বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার বলেন- মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন নির্বাচন বিষয়ে এখনো আদালত কিংবা নির্বাচন কমিশনের কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে, শুনেছি নির্বাচনের প্রতিবন্ধকতা সীমানা সংক্রান্ত মামলা খারিজ হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথে নির্বাচন আয়োজন করবো।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর