ভাটি নিয়ে খেলা আর কতোকাল….

sylpro24
sylpro24

সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের সমস্যা একটা জাতীয় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়ে আন্তরিকতার সাথে সবাইকে এগিয়ে আসতে আসতে হবে। এ অঞ্চলের নদীগুলো পলিমাটি আর বালুতে ভরাট হয়ে গেছে। বিল আর হাওরের পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। এ প্রতিবন্ধকতার কারণে আজ বোরো জমি চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে খাল-বিল, নদীনালা ডোবা পানিতে একাকার হয়ে যায়। অথচ এসব সমস্যা সমাধান কল্পে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেই। সুনামগঞ্জ জেলা থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার ধান আর মৎস্য চাষ করে বিদেশে রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে শুধু উদ্যোগ আর আন্তরিকতার প্রয়োজন।সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের সমস্যা নতুন নয়-কোন আকস্মিক দুর্ঘটনাও নয়। এ সমস্য কমবেশী সকলেরই জানা। এ অঞ্চলে প্রতি বছরই ঢল নামে, বন্যা হয় দুর্দশার সম্মুখীন হয় লাখ লাখ মানুষ। বিনষ্ট হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ। প্লাবনের পানি সাগরের ঢেউ-এর মত উত্তাল তরঙ্গে জেগে উঠে। হাওর আর বিলের স্রোতরাশি দেখলে মনে হয় এ যেন এক বিশাল সাগর, যার কোন সীমানা নেই।

সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে জরুরী ভিত্তিতে যা প্রয়োজন তা হলো নৌ ও সড়ক পথে প্রতিটি থানাকে জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন কল্পে সুদুর প্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা। জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত প্রতিটি নদী খনন করে প্রয়োজন বোধে স্থানে স্থানে বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করে প্রচুর গাছ লাগাতে হবে যাতে পানির ঢলে বা স্রোতে বাঁধ ভেঙ্গে না যায়। নদী খনন করে নাব্যতা বৃদ্ধি করে পানির গতি প্রবাহকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত করতে হবে যাতে পানি তীর বেয়ে উপরে উঠতে না পারে। বিল ও হাওর থেকে পানি যাতে সহজে বেরিয়ে যেতে পারে, স্থানীভাবে এর ব্যবস্থাও করতে হবে। প্রয়োজনীয় স্থানসমূহে স্লুইচ গেটের ব্যবস্থা করতে হবে, যাবে পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য গেট উঠানো বা নামানো যায়।
এলাকার হাল অবস্থা সার্বিকভাবে জানেন প্রশাসন, জন প্রতিনিধি, মন্ত্রী আমলা সবাই। বন্যার খবর পেলে তাঁরা একটু সজাগ হোন সচেতন আসেন সুনামগঞ্জে, প্রেস ব্রিফিং করেন জনগণের সঙ্গে বন্যার ক্ষতি গ্রন্থদের সঙ্গে আলাপ করেন, ফটো উঠান, সমবেদনা প্রকাশ করেন। এটা রাজনীতি কিন্তু সমস্যার গভীরে কেউ যেতে চান না। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেউ যেন আন্তরিক নয়, তৎপর নয়। জনগণের জীবন মরণ সমস্যা যেখানে -সেখানে চলে রাজনীতি।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, উর্ধতন কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের সাথে আলাপে জানা যায় সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে তারা তৎপর। প্রতি বছর এর স্থায়ী সমাধানে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ ও ব্যয় করা হচ্ছে। এখানে প্রশ্ন আসে সমস্যার সমাধান হয় না কেন? সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়-বরাদ্দকৃত টাকা সময়মত ব্যয় করা হয় না। অসময়ে কাজ করা হয় আর বরাদ্দকৃত টাকার বৃহৎ অংশই নাকি সঠিকপথে ব্যয় করা হয় না-বরাদ্দকৃত টাকার বড় অংশই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের পকেটস্থ হয়।
জাতীয় সমস্যা সমাধানে আমাদের সকলেই আন্তরিক সৎ উদার ও উদ্যোগী হওয়া বঞ্চনীয়। এক্ষেত্রে দেশ-প্রেমের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। কিন্তু দেখা যায়, এখানেও দুর্নীতি। ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থকেই বড় করে দেখা হয়। রক্ষক এখানে ভক্ষকের ভূমিকায় অবর্তীণ হয় যা বাঞ্চনীয় নয়।
সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের উন্নয়নে ও লক্ষ লক্ষ লোকের কল্যাণ তথা জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনে প্রযুক্তির দিক দিয়ে উন্নত দেশ সমূহের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা গ্রহণ করা যেতে পারে। সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার সঙ্গে সততা, সদিচ্ছা, নিষ্ঠা একাগ্রতা থাকতে হবে। প্রমাণ করতে হবে দেশপ্রেম থাকলে এমন কোন সমস্যা নেই যার সমাধান সম্ভব নয়। আর তা না হলে একদিন হয়তো এমন হবে যে সুনামগঞ্জ জেলার ভাটি অঞ্চল জনবিরল কিংবা বসতিহীন বেলা ভূতিতে রূপ  নিবে। সময়ের কাজ সময়ে না করলে শেষ পর্যন্ত অনুতাপ অনুশোচনা কোন কাজেই আসেনা, আসবেওনা।
লেখকঃআফতাব চৌধুরী
সিনিয়র সাংবাদিক কলামিষ্ট
Facebook Comments

Leave a Reply