আজঃ ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ - ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ - রাত ১২:৪২

বিশ্বনাথে আমন রোপণের ধুম : বুকভরা আশা নিয়ে দিনভর মাঠে কাজ করছেন কৃষকরা

Published: সেপ্টে ০৭, ২০১৮ - ৮:৩০ অপরাহ্ণ

বদরুল ইসলাম মহসিন, বিশ্বনাথ :: আর কয়েক দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের শুরুতে আমন ধান চাষের উপযুক্ত সময়। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় চলছে আমন রোপণের ধুম। কৃষকরা এখন আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার প্রতিটি হাওরে ধান আবাদের উপযুক্ত জমিতে চলছে আমন ধানের চারা রোপণের ব্যস্ততা। গত আমন মৌসুমের শুরুর দিকে আকস্মিক বন্যায় বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এবার সুরমা হয়ে বাসিয়া নদীর অববাহিকায় বন্যা ছাড়া আর কোন ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হওয়ায় এ মৌসুমে বুকভরা আশা নিয়ে দিনভর মাঠে কাজ করছেন কৃষকরা।

বিশ্বনাথ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারের আমন ধান চাষাবাদের জন্য বিশ্বনাথ উপজেলায় ১৩ হাজার ১শত ৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষাবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন জাতের বাইস, ৪৯ ও ৫১/৫২ ধানের আবাদ করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হাওরের তীরবর্তী এলাকায় ভাসমান বীজতলা তৈরি করতে কৃষকদের বলা হচ্ছে।

সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, শ্রাবণের শেষ থেকে শুরু করে ভাদ্র মাসের এ সময়ে এসে এখানে একসাথে কখনো রোদ আবার কখনো বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় কৃষকরা অনেকটা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষাবাদে। কেউবা জমি তৈরি করছেন, আবার কেউকেউ বীজতলা থেকে বীজ তুলছেন। কেউবা বীজতলার চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন, পূবালী বাতাসের সুরে উৎসবমুখর পরিবেশে কৃষকরা বীজতলা থেকে চারা তুলা ও জমিতে চারা রোপণের চিত্রও দেখা যায়।

উপজেলার রামপাশা এলাকার পুরাণ গাও গ্রামের কৃষক আশ্রব আলী বলেন, চলতি বছর শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হলেও ভাদ্র মাসের শুরুতে এসে হঠাৎ করে রোদের প্রথরতা বৃদ্ধি আর স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকরা জমিতে পানি ধরে রাখা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। অন্যান্য বছর জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকলেও এবার প্রখর রোদে জমি থেকে দ্রুত পানি নামতে শুরু করায় তাড়াতাড়ি করে আবাদ সারতেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে সকলেই। আগামী দু’সপ্তাহ বা তারও একটু বেশি সময়ের মধ্যেই এই উপজেলার আমন চাষাবাদ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রমজান আলী জানান, হাওর পাড়ের কৃষকদের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বন্যার শঙ্কা থাকায় চাষাবাদে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা ধীরতা দেখা দিয়েছিল। ইতিমধ্যে এ উপজেলায় প্রায় সব জমিতে ধানের চারা লাগানো হয়েছে। আগামী ১০/১৫ দিনের মধ্যে বাকি জমিতেও চাষাবাদ শেষ হবে।

তিনি আরও জানান, এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনে তারা বিশেষ কিছু কর্মসূচী ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এ বৎসর আমন ধান লাগানো থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বা বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি না হলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি জানান।

Facebook Comments

বদরুল ইসলাম মহসিন, বিশ্বনাথ :: আর কয়েক দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের শুরুতে আমন ধান চাষের উপযুক্ত সময়। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় চলছে আমন রোপণের ধুম। কৃষকরা এখন আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার প্রতিটি হাওরে ধান আবাদের উপযুক্ত জমিতে চলছে আমন ধানের চারা রোপণের ব্যস্ততা। গত আমন মৌসুমের শুরুর দিকে আকস্মিক বন্যায় বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এবার সুরমা হয়ে বাসিয়া নদীর অববাহিকায় বন্যা ছাড়া আর কোন ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হওয়ায় এ মৌসুমে বুকভরা আশা নিয়ে দিনভর মাঠে কাজ করছেন কৃষকরা।

বিশ্বনাথ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারের আমন ধান চাষাবাদের জন্য বিশ্বনাথ উপজেলায় ১৩ হাজার ১শত ৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষাবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন জাতের বাইস, ৪৯ ও ৫১/৫২ ধানের আবাদ করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হাওরের তীরবর্তী এলাকায় ভাসমান বীজতলা তৈরি করতে কৃষকদের বলা হচ্ছে।

সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, শ্রাবণের শেষ থেকে শুরু করে ভাদ্র মাসের এ সময়ে এসে এখানে একসাথে কখনো রোদ আবার কখনো বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় কৃষকরা অনেকটা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষাবাদে। কেউবা জমি তৈরি করছেন, আবার কেউকেউ বীজতলা থেকে বীজ তুলছেন। কেউবা বীজতলার চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন, পূবালী বাতাসের সুরে উৎসবমুখর পরিবেশে কৃষকরা বীজতলা থেকে চারা তুলা ও জমিতে চারা রোপণের চিত্রও দেখা যায়।

উপজেলার রামপাশা এলাকার পুরাণ গাও গ্রামের কৃষক আশ্রব আলী বলেন, চলতি বছর শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হলেও ভাদ্র মাসের শুরুতে এসে হঠাৎ করে রোদের প্রথরতা বৃদ্ধি আর স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকরা জমিতে পানি ধরে রাখা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। অন্যান্য বছর জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকলেও এবার প্রখর রোদে জমি থেকে দ্রুত পানি নামতে শুরু করায় তাড়াতাড়ি করে আবাদ সারতেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে সকলেই। আগামী দু’সপ্তাহ বা তারও একটু বেশি সময়ের মধ্যেই এই উপজেলার আমন চাষাবাদ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রমজান আলী জানান, হাওর পাড়ের কৃষকদের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বন্যার শঙ্কা থাকায় চাষাবাদে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা ধীরতা দেখা দিয়েছিল। ইতিমধ্যে এ উপজেলায় প্রায় সব জমিতে ধানের চারা লাগানো হয়েছে। আগামী ১০/১৫ দিনের মধ্যে বাকি জমিতেও চাষাবাদ শেষ হবে।

তিনি আরও জানান, এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনে তারা বিশেষ কিছু কর্মসূচী ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এ বৎসর আমন ধান লাগানো থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বা বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি না হলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি জানান।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর