বাউল আব্দুল করিমের ১০০ তম জন্মবার্ষিকী

sylhet prothidin 24
sylhet prothidin 24

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কালনীর
তীরে উজান ধল গ্রামে ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি,জন্ম নিয়েছিলেন শাহ
আব্দুল করিম। বাংলা বাউল গানের কিংবদন্তী। কালনী নদীর তীরে বেড়ে উঠা
করিমের গান ভাটি অঞ্চলে তুমুল জনপ্রিয় হলেও সারাদেশে

sylhet prothidin 24

জনপ্রিয়তা পায় বিগত
কয়েক বছর ধরে। তার গান ছাড়া পুজা -পার্বণ, বৈশাখী মেলা জমে না।
দারিদ্র্য ও জীবন সংগ্রামের মধ্যে বড় হওয়ার কারণে একাডেমিক পড়াশোনা করতে
পারেন নি। মাত্র তিনদিন স্কুলে বারান্দায় পা রেখেছিলেন পরবর্তীতে জনপ্রিয়
হওয়া গুনী এই শিল্পি।

করিম তাঁর গানে বলেছেন,
গরীব কূলে জন্ম আমার আজো তা মনে পড়ে/ছোট্টবেলা বাস করিতাম /ছোট্ট এক
কুঁড়ে ঘরে ..” শৈশবের দিনগুলোতে বাড়ির পাশে গরু চড়াতেন আর বাঁশি বাজাতেন।
মনে যার এতো সুর সেকি থেমে থাকে? প্রশ্নই উঠে না। শুরু করলেন সাধনা। বাউল রশিদ ছিলেন তার প্রথম উস্তাদ। তার কাছ থেকেই তিনি দীক্ষা নেন। তবে, বাউল করিমের অনুপ্রেরণা জুড়ে ছিলেন
তার প্রথম স্ত্রী “আফতাবুন্নেসা ” যাকে ভালবেসে করিম সরলা নাম দিয়েছেন।
আব্দুল করিমের অনেক গানেই তিনি সরলার কথা উল্লেখ করেছেন। যেমনঃ প্রেম ফুলের গন্ধে ঠেকিয়াছি ফান্দে/প্রাণে সহেনা দারুণ জ্বালা… কেনো পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু গানগুলো সরলার জন্যই লিখেছেন।
এছাড়াও প্রখ্যাত বাউল সাধক লালন সাঁই, দূরবীণ শাহ, দুদ্দু শাহের বাউল
দর্শন অনুপ্রাণিত করেছিল তাঁকে।

গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা কালনী নদী, সবুজ
প্রকৃতি , ধানখেত ,সরিষা ক্ষেত এসব কিছু ছিল বাউল
গানের জন্য সহায়ক।
পাড়াগাঁয় মালজোরা, পালাগান, গাজীর গীত
গাওয়া হতো, আব্দুল করিম এসব
অনুষ্টানে গান করতেন।
তিনি লিখেছেন,
বর্ষা যখন হইতো /গাজীর গান আইতো,
রঙে ঢঙে গাইত আনন্দ পাইতাম/আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম…”
বাউল গানের কী নির্যাস তা আব্দুল করিমের
গান শুনলে বুঝা যায়। সকল জাগতিকতার
উর্ধে উঠে কিভাবে প্রকৃত সত্য পথ
খুঁজে পাওয়া যায় সেটাই তার গানের
মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন সুনিপুণ দক্ষতায়।
ভাটি অঞ্চলের চিরায়ত প্রেম ভালবাসার গান
লেখার পাশাপাশি জারী,
সারী,মারফতি,ভাটিয়ালি গানসহ প্রায় দেড়
হাজারেরও অধিক গান তিনি রচনা করেছেন।
বাংলা একাডেমি তার ১০টি গান
ইংরেজি তে অনুমদিত করেছে। আব্দুল করিমের
প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ছয়টি,
যথা –
ভাটির চিঠি,
কালনীর ঢেউ
কালনীর কূলে
আফতাব সংগীত
গণসংগীত
দোল মেলা।
তার গানে তিনি শোষণ আর অসাম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ১৯৫৪ সালে কাগমারী সম্মেলনে গান গেয়ে মাওলানা ভাসানীর মন জয় করে নিয়েছিলেন। ভাসানী সাহেব বলেছিলেন,’তুমি অনেক বড় গায়ক হবে’! হয়েছেনও।

দেশের বাউল গানকে যিনি করেছেন সমৃদ্ধ
দেরীতে হলেও বাংলাদেশ সরকার
তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার
একুশে পদকে ভূষিত করেছে (২০০১),
এছাড়াও
সিটিসেল মিউজিক এওয়ার্ড আজীবন
সম্মাননা, আঃ রউফ পুরস্কারসহ প্রায়
শতাধিক পুরস্কার পেয়েছেন এই কিংবদন্তী।
সিলেটের নাগরিক সমান ভালবেসে দিয়েছেন
“বাউল সম্রাট ” খেতাব।
গুনী এই শিল্পী ২০০৯ সালের
১২ সেপ্টেম্বর সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে। মানুষের সম্মান প্রদর্শনের পর তাকে সমাহিত করা হয় সহধর্মিণী সরলার কবরের পাশে

লেখকঃ শায়খুল ইসলাম
শিক্ষার্থীঃ শাবিপ্রবি

Facebook Comments

Leave a Reply