আজঃ ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - সকাল ৯:৫১

বদলির আদেশের পরও কর্মস্থলে ২৯ শিক্ষা কর্মকর্তা!

Published: মার্চ ০২, ২০১৮ - ৩:২২ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পর বদলি হওয়া বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ২৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও বদলিকৃতরা কর্মস্থলে যোগদান করেনি। তারা আগের দপ্তরেই কাজ করে যাচ্ছেন।

বদলির আদেশ উপেক্ষা করার বিষয়ে কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে নানা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তারচেয়েও বড় কথা এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে প্রশাসনে নানা কানাঘুষা আছে। এরা ক্ষমতাধর বলেও বলে থাকেন অন্যরা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখা-৪ এর সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তাকে বদলি করা হয়েছে ফেনী জিয়া সরকারি মহিলা কলেজে। কিন্তু তিনি সেই কলেজে যোগ দিচ্ছেন না। বৃহস্পতিবার মাউশিতে দপ্তরের বাইরে এখনও নামের ফলক দেখা গেছে জাকির হোসেনের নাম। পরে তার দপ্তরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে সাক্ষাৎ মেলে।

বদলির ৮ দিন পার হলে এখনও এই দপ্তরেই কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এমন প্রশ্নে জাকির বলেন, ‘যাব তবে আমার স্থলে কোন কর্মকর্তা এখনও আসেনি। ফলে আমাকে দাপ্তরিক কাজগুলো করতে হচ্ছে।’

বদলি হওয়ার পরও কতদিন নাগাদ এ দায়িত্ব পালন করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে জাকির বলেন, ‘যতদিন আমার চেয়ারে কেউ না আসে ততদিন হয়তো থাকব। কারণ কেউ আসলে তাকে তো কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে, তাই না?’।

একই অধিদপ্তরের কলেজ শাখা-২ এর সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেনের দপ্তরে গিয়েও তার নামের ফলকও পাওয়া যায়। তবে তিনি জরুরি কাজে দপ্তরের বাইরে আছেন বলে জানান তার অফিস সহকারী মো. আলী।

আলী বলেন, ‘স্যার কখন যাবেন সেটা আমি জানি না। তবে যতদিন নতুন কর্মকর্তা আসেনি ততদিন তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন। সেটা যদি কয়েক মাসও হয় তবুও।’

তাহলে তাকে বদলির উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে মো. আলী বলেন, ‘এটা হয়। আপনারাও বোঝেন। এটা তো স্ট্যান্ড রিলিজ নয়। স্যার যখন মনে করবেন তখন যাবেন।’

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেনকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চট্রগ্রাম সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-২ এর দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক মেজবাহ উদ্দিনকে মাদারীপুরের বরহামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যাক্ষ হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

মেজবাহ উদ্দিনের নামফলক এখনও আছে অধিদপ্তরে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় পাশের রুমে তার বিদায় অনুষ্ঠান হচ্ছে। সেখানে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে ঢুকতে চাইলে বাধা দেয়া হয়।

তার অনুপস্থিতিতে উপ-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন অধিদপ্তরের কলেজ-৩ শাখার সহকারী পরিচালক ফারহানা আক্তার। পরে তার রুমে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব এ জেড এম নূরুল হক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘শিগগিরই নতুন কর্মকর্তারা আসবেন। এখনও কেউ যোগদান করেনি তবে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তখন তারা চলে যাবেন।’

বদলির প্রজ্ঞাপন হয়েছে কিন্তু নতুন কর্মকর্তা যোগদান করেনি এতে দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে কি না-জানকে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘না ব্যাহত হচ্ছে না। চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।’

‘আমরা এবার নতুন কর্মকর্তাদের এমনভাবে বাছাই করছি যাতে আগের সেই নাজুক পরিস্থিতি তৈরি না হয়। এক্ষেত্রে ভালভাবে যাচাই বাছাই চলছে। এমনকি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে আমরা সহযোগিতা নিচ্ছি। যাদের এসব পদে যোগদানের কথা চলছে তাদের চাকরি জীবনে নানা কার্যক্রমের খবরাখবর গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে নেয়ার পরই চুড়ান্ত সিন্ধান্ত হবে।’

ঢাকার বাইর থেকে এসব কর্মকর্তাদের আনা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে নুরুল হক বলেন, ‘শিক্ষা ক্যাডারের অফিসার যেখানেই থাকুক সেখান থেকেই আনা হবে। মন্ত্রণালয়ে তো আর শিক্ষা ক্যাডারের অফিসার নেই।’

যাদেরকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট কলেজ বা দপ্তরে যোগদান করেছেন কি না এমন প্রশ্নে নুরুল হক বলেন, ‘এখনও সবাই যোগদান করেনি। হয়তো করছে ধীরে ধীরে। অনেকে করেছেন, অনেকে করেননি। তবে আমি যতদূর জানি বেশিভাগই করেনি। হয়তো খুব কম সময়ের মধ্যে করবেন।’

বদলি হওয়া অফিসারদের মাঝে কেউ যেতে আগ্রহী নয় তারা উল্টো এখানে থাকতে তদবিরও করছে, এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল বলেন, ‘না আমার এটা জানা নেই। তবে যেহেতু তারা গভর্নমেন্ট জব করেন ফলে সিন্ধান্ত তাদের মেনে চলতেই হবে।’

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পর বদলি হওয়া বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ২৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও বদলিকৃতরা কর্মস্থলে যোগদান করেনি। তারা আগের দপ্তরেই কাজ করে যাচ্ছেন।

বদলির আদেশ উপেক্ষা করার বিষয়ে কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে নানা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তারচেয়েও বড় কথা এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে প্রশাসনে নানা কানাঘুষা আছে। এরা ক্ষমতাধর বলেও বলে থাকেন অন্যরা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখা-৪ এর সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তাকে বদলি করা হয়েছে ফেনী জিয়া সরকারি মহিলা কলেজে। কিন্তু তিনি সেই কলেজে যোগ দিচ্ছেন না। বৃহস্পতিবার মাউশিতে দপ্তরের বাইরে এখনও নামের ফলক দেখা গেছে জাকির হোসেনের নাম। পরে তার দপ্তরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে সাক্ষাৎ মেলে।

বদলির ৮ দিন পার হলে এখনও এই দপ্তরেই কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এমন প্রশ্নে জাকির বলেন, ‘যাব তবে আমার স্থলে কোন কর্মকর্তা এখনও আসেনি। ফলে আমাকে দাপ্তরিক কাজগুলো করতে হচ্ছে।’

বদলি হওয়ার পরও কতদিন নাগাদ এ দায়িত্ব পালন করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে জাকির বলেন, ‘যতদিন আমার চেয়ারে কেউ না আসে ততদিন হয়তো থাকব। কারণ কেউ আসলে তাকে তো কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে, তাই না?’।

একই অধিদপ্তরের কলেজ শাখা-২ এর সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেনের দপ্তরে গিয়েও তার নামের ফলকও পাওয়া যায়। তবে তিনি জরুরি কাজে দপ্তরের বাইরে আছেন বলে জানান তার অফিস সহকারী মো. আলী।

আলী বলেন, ‘স্যার কখন যাবেন সেটা আমি জানি না। তবে যতদিন নতুন কর্মকর্তা আসেনি ততদিন তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন। সেটা যদি কয়েক মাসও হয় তবুও।’

তাহলে তাকে বদলির উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে মো. আলী বলেন, ‘এটা হয়। আপনারাও বোঝেন। এটা তো স্ট্যান্ড রিলিজ নয়। স্যার যখন মনে করবেন তখন যাবেন।’

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেনকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চট্রগ্রাম সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-২ এর দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক মেজবাহ উদ্দিনকে মাদারীপুরের বরহামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যাক্ষ হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

মেজবাহ উদ্দিনের নামফলক এখনও আছে অধিদপ্তরে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় পাশের রুমে তার বিদায় অনুষ্ঠান হচ্ছে। সেখানে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে ঢুকতে চাইলে বাধা দেয়া হয়।

তার অনুপস্থিতিতে উপ-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন অধিদপ্তরের কলেজ-৩ শাখার সহকারী পরিচালক ফারহানা আক্তার। পরে তার রুমে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব এ জেড এম নূরুল হক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘শিগগিরই নতুন কর্মকর্তারা আসবেন। এখনও কেউ যোগদান করেনি তবে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তখন তারা চলে যাবেন।’

বদলির প্রজ্ঞাপন হয়েছে কিন্তু নতুন কর্মকর্তা যোগদান করেনি এতে দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে কি না-জানকে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘না ব্যাহত হচ্ছে না। চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।’

‘আমরা এবার নতুন কর্মকর্তাদের এমনভাবে বাছাই করছি যাতে আগের সেই নাজুক পরিস্থিতি তৈরি না হয়। এক্ষেত্রে ভালভাবে যাচাই বাছাই চলছে। এমনকি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে আমরা সহযোগিতা নিচ্ছি। যাদের এসব পদে যোগদানের কথা চলছে তাদের চাকরি জীবনে নানা কার্যক্রমের খবরাখবর গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে নেয়ার পরই চুড়ান্ত সিন্ধান্ত হবে।’

ঢাকার বাইর থেকে এসব কর্মকর্তাদের আনা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে নুরুল হক বলেন, ‘শিক্ষা ক্যাডারের অফিসার যেখানেই থাকুক সেখান থেকেই আনা হবে। মন্ত্রণালয়ে তো আর শিক্ষা ক্যাডারের অফিসার নেই।’

যাদেরকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট কলেজ বা দপ্তরে যোগদান করেছেন কি না এমন প্রশ্নে নুরুল হক বলেন, ‘এখনও সবাই যোগদান করেনি। হয়তো করছে ধীরে ধীরে। অনেকে করেছেন, অনেকে করেননি। তবে আমি যতদূর জানি বেশিভাগই করেনি। হয়তো খুব কম সময়ের মধ্যে করবেন।’

বদলি হওয়া অফিসারদের মাঝে কেউ যেতে আগ্রহী নয় তারা উল্টো এখানে থাকতে তদবিরও করছে, এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল বলেন, ‘না আমার এটা জানা নেই। তবে যেহেতু তারা গভর্নমেন্ট জব করেন ফলে সিন্ধান্ত তাদের মেনে চলতেই হবে।’

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর