আজঃ ৪ঠা কার্তিক ১৪২৫ - ১৯শে অক্টোবর ২০১৮ - ভোর ৫:৪৪

বঙ্গবন্ধু রাজনীতির কবি : প্রধানমন্ত্রী

Published: মে ২৬, ২০১৮ - ৭:২২ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: বাংলা ভাগ হলেও রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ও নজরুল ইসলাম ভাগ হননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পশ্চিমবঙ্গের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি.লিট) ডিগ্রি গ্রহণের সময় শনিবার তিনি ওই অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন ও তৃতীয় বার্ষিক সমাবর্তনে এই ডিগ্রি দেওয়া হয় শেখ হাসিনাকে।

শেখ হাসিনা বলেন, কাজী নজরুল সবসময় বাংলাদেশের মানুষের চেতনায় জাগ্রত। বাংলাদেশের মানুষের লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা।

অনুষ্ঠানে বৃটিশ শাসকদের বাংলা ভাগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাগ হলেও রবীন্দ্র নাথ ও নজরুল ইসলাম ভাগ হননি। আমরা দেখছি বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ দু’জায়গায়ই নজরুলের নামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্মে সর্বদাই ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবতার বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে। নজরুল এক হাতে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় ধর্মীয় বার্তা পৌঁছে ইসলামিক হামদ্-নাত লিখেছেন এবং আরেক হাতে শ্যামা সঙ্গীত বৈষ্ণব গান রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন এবং এই অসাধারণ সৃষ্টির মাধ্যমে হিন্দু ধর্মীয় বার্তা সাধারণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

নজরুলের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তরুণ বয়সের প্রথম দিকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ফরিদপুরে নজরুলের সাক্ষাত ঘটে।

বঙ্গবন্ধু তার জয়বাংলা স্লোগান নজরুলের কবিতা থেকে নিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দুই স্বল্পায়ু ব্যক্তিত্বেও চরিত্রের বেশ মিল রয়েছে। একজন ছিলেন সাহিত্যের কবি অন্যজন ছিলেন রাজনীতির কবি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং নজরুল চিন্তা ও আদর্শে একই ছিলেন এবং উভয়ই শোষণ, বঞ্চনা মুক্ত একটি স্যেকুলার সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন এবং তারা স্বৈরাচারী শাসকের কাছে মাথা নত করেননি বরং তারা কারাবরণ করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জনগণের সৌভাগ্য এই যে, তারা বঙ্গবন্ধু ও নজরুলের মতো দুই মহান কবিকে পেয়েছে। তারা কেবলমাত্র বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ করেনি তারা আমাদের জীবন ও মূল্যবোধে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন।

বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলায় তার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে সমৃদ্ধ হবে। প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু আমাদের সেই সমস্যাগুলো অমিমাংসিত রাখা উচিত নয়।

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: বাংলা ভাগ হলেও রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ও নজরুল ইসলাম ভাগ হননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পশ্চিমবঙ্গের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি.লিট) ডিগ্রি গ্রহণের সময় শনিবার তিনি ওই অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন ও তৃতীয় বার্ষিক সমাবর্তনে এই ডিগ্রি দেওয়া হয় শেখ হাসিনাকে।

শেখ হাসিনা বলেন, কাজী নজরুল সবসময় বাংলাদেশের মানুষের চেতনায় জাগ্রত। বাংলাদেশের মানুষের লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা।

অনুষ্ঠানে বৃটিশ শাসকদের বাংলা ভাগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাগ হলেও রবীন্দ্র নাথ ও নজরুল ইসলাম ভাগ হননি। আমরা দেখছি বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ দু’জায়গায়ই নজরুলের নামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্মে সর্বদাই ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবতার বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে। নজরুল এক হাতে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় ধর্মীয় বার্তা পৌঁছে ইসলামিক হামদ্-নাত লিখেছেন এবং আরেক হাতে শ্যামা সঙ্গীত বৈষ্ণব গান রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন এবং এই অসাধারণ সৃষ্টির মাধ্যমে হিন্দু ধর্মীয় বার্তা সাধারণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

নজরুলের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তরুণ বয়সের প্রথম দিকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ফরিদপুরে নজরুলের সাক্ষাত ঘটে।

বঙ্গবন্ধু তার জয়বাংলা স্লোগান নজরুলের কবিতা থেকে নিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দুই স্বল্পায়ু ব্যক্তিত্বেও চরিত্রের বেশ মিল রয়েছে। একজন ছিলেন সাহিত্যের কবি অন্যজন ছিলেন রাজনীতির কবি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং নজরুল চিন্তা ও আদর্শে একই ছিলেন এবং উভয়ই শোষণ, বঞ্চনা মুক্ত একটি স্যেকুলার সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন এবং তারা স্বৈরাচারী শাসকের কাছে মাথা নত করেননি বরং তারা কারাবরণ করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জনগণের সৌভাগ্য এই যে, তারা বঙ্গবন্ধু ও নজরুলের মতো দুই মহান কবিকে পেয়েছে। তারা কেবলমাত্র বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ করেনি তারা আমাদের জীবন ও মূল্যবোধে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন।

বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলায় তার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে সমৃদ্ধ হবে। প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু আমাদের সেই সমস্যাগুলো অমিমাংসিত রাখা উচিত নয়।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর