আজঃ ৪ঠা কার্তিক ১৪২৫ - ১৯শে অক্টোবর ২০১৮ - ভোর ৫:৪৩

বইয়ের পাতায় ফাগুনের রঙ

Published: ফেব্রু ১৩, ২০১৮ - ৮:২৮ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: ‘বালিকার ওড়নায় ফাগুনের হাওয়া প্রজাপতি পিছু নিয়ে করে তাকে ধাওয়া’। ফাগুনে এসেছে প্রকৃতিকে। ফাগুনের হাওয়া লেগেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়ও। বইয়ের পাতায় যেনো ফাগুনের রঙ। সেই রঙ ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের এই দিনটাকে আরো রঙিন করতে বাসন্তী রঙের পোশাকে তরুনীরা হাজির হবেন বইমেলায়। তাদের মাথায় থাকবে ফুলের মালা। সেই মালার ফুলের সুবাস নতুন বইয়ের ঘ্রাণকেও ছাপিয়ে যাবে।

গতকাল থেকেই বইমেলায় ফাগুনের হাওয়া বইছিল। আজ সেটি পূর্ণতা পাবে। আর আগামীকাল যেহেতু বিশ^ ভালোবাসা দিবস তাই এই কয়দিন মেলা বেশ রঙিন হয়ে উঠবে।

এদিকে গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি মেলায় আজ নতুন বই এসেছিল ১২৬টি। এর মধ্যে কবিতা, গল্প এবং উপন্যাসের বইয়ের সংখ্যাই বেশি।
গতকাল বিকাল চারটায় মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিক্ষা সংস্কৃতি সমাজ ও রাষ্ট্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রাশেদা কে চৌধূরী, আতিউর রহমান এবং এ. এম. মাসুদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মনজুর আহমেদ।

প্রাবন্ধিক বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বাস্তবতায় নানা নেতিবাচক চিত্রের পাশাপাশি প্রাণবন্ত সজীব বিকশমান তারুণ্যের ঝিলিক আমরা এ সমাজেও দেখতে পাই। তা যতই ক্ষীণ ও দুর্লভ হোক তবুও বলব সব সম্ভাবনার অবসান হয়নি, কেবল বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে সাংস্কৃতিক অবক্ষয় ও শিক্ষার বন্ধ্যাত্ব প্রকট হয়ে উঠছে। শিক্ষার সাথে মানবিক সংস্কৃতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। স্কুল-কলেজগুলো ডিগ্রি-সনদপত্র বিতরণ-বিপণনের কেন্দ্রে রূপান্তরিত। অভিভাবকরা অর্থোপার্জন, সস্তা বিনোদন, ধর্মসংস্কারের ক্ষুদ্র গ-িতে বাঁধা জীবনের ফাঁদে আটকে গেছেন। এই অবস্থার অবসানকল্পে প্রয়োজন নতুন মানবিক শিক্ষা আন্দোলন।

আলোচকবৃন্দ বলেন, শিক্ষা সংস্কৃতি সমাজ ও রাষ্ট্র পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। শিক্ষার সঙ্গে সাংস্কৃতিক সাক্ষরতার সংযোগ না ঘটলে শিক্ষিত মানুষ শুধু সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে, জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে তাদের বিকাশ ঘটবে না। আর সমাজে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে রাষ্ট্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতির বক্তব্যে মনজুর আহমেদ বলেন, শিক্ষার প্রকৃত পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তবে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিক সমাজেরও করণীয় আছে।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গোলাম কুদ্দুছ-এর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন : ‘বহ্নিশিখা’ এবং ড. শায়লা নাসরিনের পরিচালনায় সরকারি বদরুন্নেসা কলেজের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

যথারীতি আজ মেলা শুরু হবে বেলা তিনটায়। চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত।

বাংলা একাডেমি চত্বরে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে বিকাল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে নারীর নিরাপদ পরিসর ও পরিবেশ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন খুশী কবির। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সুলতানা কামাল, হোসনে আরা শাহেদ, সুভাষ সিংহ রায় এবং নূরুন্নাহার মুক্তা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন আয়েশা খানম। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: ‘বালিকার ওড়নায় ফাগুনের হাওয়া প্রজাপতি পিছু নিয়ে করে তাকে ধাওয়া’। ফাগুনে এসেছে প্রকৃতিকে। ফাগুনের হাওয়া লেগেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়ও। বইয়ের পাতায় যেনো ফাগুনের রঙ। সেই রঙ ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের এই দিনটাকে আরো রঙিন করতে বাসন্তী রঙের পোশাকে তরুনীরা হাজির হবেন বইমেলায়। তাদের মাথায় থাকবে ফুলের মালা। সেই মালার ফুলের সুবাস নতুন বইয়ের ঘ্রাণকেও ছাপিয়ে যাবে।

গতকাল থেকেই বইমেলায় ফাগুনের হাওয়া বইছিল। আজ সেটি পূর্ণতা পাবে। আর আগামীকাল যেহেতু বিশ^ ভালোবাসা দিবস তাই এই কয়দিন মেলা বেশ রঙিন হয়ে উঠবে।

এদিকে গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি মেলায় আজ নতুন বই এসেছিল ১২৬টি। এর মধ্যে কবিতা, গল্প এবং উপন্যাসের বইয়ের সংখ্যাই বেশি।
গতকাল বিকাল চারটায় মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিক্ষা সংস্কৃতি সমাজ ও রাষ্ট্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রাশেদা কে চৌধূরী, আতিউর রহমান এবং এ. এম. মাসুদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মনজুর আহমেদ।

প্রাবন্ধিক বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বাস্তবতায় নানা নেতিবাচক চিত্রের পাশাপাশি প্রাণবন্ত সজীব বিকশমান তারুণ্যের ঝিলিক আমরা এ সমাজেও দেখতে পাই। তা যতই ক্ষীণ ও দুর্লভ হোক তবুও বলব সব সম্ভাবনার অবসান হয়নি, কেবল বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে সাংস্কৃতিক অবক্ষয় ও শিক্ষার বন্ধ্যাত্ব প্রকট হয়ে উঠছে। শিক্ষার সাথে মানবিক সংস্কৃতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। স্কুল-কলেজগুলো ডিগ্রি-সনদপত্র বিতরণ-বিপণনের কেন্দ্রে রূপান্তরিত। অভিভাবকরা অর্থোপার্জন, সস্তা বিনোদন, ধর্মসংস্কারের ক্ষুদ্র গ-িতে বাঁধা জীবনের ফাঁদে আটকে গেছেন। এই অবস্থার অবসানকল্পে প্রয়োজন নতুন মানবিক শিক্ষা আন্দোলন।

আলোচকবৃন্দ বলেন, শিক্ষা সংস্কৃতি সমাজ ও রাষ্ট্র পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। শিক্ষার সঙ্গে সাংস্কৃতিক সাক্ষরতার সংযোগ না ঘটলে শিক্ষিত মানুষ শুধু সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে, জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে তাদের বিকাশ ঘটবে না। আর সমাজে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে রাষ্ট্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতির বক্তব্যে মনজুর আহমেদ বলেন, শিক্ষার প্রকৃত পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তবে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিক সমাজেরও করণীয় আছে।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গোলাম কুদ্দুছ-এর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন : ‘বহ্নিশিখা’ এবং ড. শায়লা নাসরিনের পরিচালনায় সরকারি বদরুন্নেসা কলেজের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

যথারীতি আজ মেলা শুরু হবে বেলা তিনটায়। চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত।

বাংলা একাডেমি চত্বরে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে বিকাল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে নারীর নিরাপদ পরিসর ও পরিবেশ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন খুশী কবির। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সুলতানা কামাল, হোসনে আরা শাহেদ, সুভাষ সিংহ রায় এবং নূরুন্নাহার মুক্তা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন আয়েশা খানম। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর