আজঃ ২রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ - ১৭ই আগস্ট, ২০১৮ ইং - দুপুর ১২:২৩

ফ্রান্সের কাছে ক্রোয়েশিয়ার হারের ৬ কারণ

Published: Jul 16, 2018 - 2:28 am

ক্রীড়া ডেস্ক :: রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে একরকম উড়ে গেল ক্রোয়েশিয়া। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারল না ক্রোয়াটরা। ৪-২ গোলে হেরে প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো তাদের। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না! ফ্রান্সের চেয়েও ছন্দে থাকা দলকে হারিয়েই ফাইনালি লড়াইয়ে এসেছিল তারা। তাহলে ফরাসিদের বিপক্ষে কেন এমন ভরাডুবি তাদের? কৌতুহলী পাঠকদের সেই চাহিদা নিবৃত্ত করতেই আমাদের এ লেখা-

অতি আত্মবিশ্বাস: সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অতি আত্মবিশ্বাসে ভুগছিল ক্রোয়েশিয়া। ক্রোয়াটরা মনে মনে গেঁথে ফেলেছিলেন, ইংলিশদের পারলে ফ্রান্সকে নয় কেন? সূক্ষ্ন দৃষ্টিতে দেখলে, এবার ফরাসিদের চেয়ে ভালো খেলেছে হ্যারি কেনরা। তাদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল এমবাপ্পেদের হারানোই যায়। এমন মনোভাবই ডুবিয়েছে তাদের।

দুর্বল রক্ষণভাগ: ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠ যতটা শক্তিশালী, রক্ষণভাগ ততটা নয়। ফ্রান্স ৪টি গোলই পেয়েছে ক্রোয়াটদের রক্ষণের ভুলে। এদিন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে মার্ক করার যেন বালাই ছিল না ভিদা-লভরেনদের। যার সুযোগটা নিয়েছেন পগবা-এমবাপ্পে। দুজনই গোল করেছেন ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণেল ভুলে।

অতি সতর্ক ফ্রান্স: ২০১৬ সালে সেমিফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে ইউরোর ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। সেখানে প্রতিপক্ষ ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল পর্তুগাল। অথচ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ফরাসিদের। নেপথ্যে জার্মানদের হারিয়ে অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে যাওয়া। ইউরোর সেই ভুল করেনি ফ্রান্স। মড্রিচ-রাকিটিচদের নিয়ে ভীষণ সতর্ক ছিল ’৯৮ বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

অভিজ্ঞতার অভাব: ফাইনালে আক্রমণাত্মক শুরু করেছিল ক্রোয়েশিয়া। সেখানে ধীরলয়ে এগোয় ফ্রান্স। ফরাসিদের কৌশলই ছিল, দালিচ শিষ্যদের আক্রমণে উঠিয়ে খেলা ওপেন করে দেয়া। সেটা বুঝে উঠতে পারেননি তারা। গোল হজম করে এর কড়া মাশুল গুনতে হয় তাদের। ফ্রান্সের অভিজ্ঞতার কাছেই হেরে গেছে ক্রোয়েশিয়া।

নিষ্প্রভ ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক: পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত গোলকিপিং করেছেন সুবাসিচ। অথচ ফাইনালে তাকে খুজেঁই পাওয়া গেল না। তার দুর্বল গোলকিপিংও ডুবিয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে।

ফ্রান্স কোচের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক: দিদিয়ের দেশমের অধিনায়কত্বেই ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। বড় মঞ্চের শিরোপা কীভাবে জিততে হয় খুব ভালো করেই জানা ছিল তার। কোচ দেশমের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক ও ট্যাক্টিকসের কাছে হেরে গেছে ক্রোয়েশিয়া।

Facebook Comments

আরো খবর

ভুটানকে উড়িয়ে ফাইনালে মেয়েরা... ক্রীড়া প্রতিবেদক :: অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ...
প্রথমার্ধ শেষে ৩-০ গোলে এগিয়ে নারী ফুটবলাররা... ক্রীড়া ডেস্ক :: সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনা...
‘ঘুরে দাঁড়ানোয় বড় অবদান মাশরাফির’... ক্রীড়া ডেস্ক :: ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজে গুঁড়িয়ে যাওয়া পর ব...
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ফ্রান্স, চারে ক্রো... ক্রীড়া ডেস্ক : ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছে বর্তমান...
নতুন ‘মোড়কে’ আসছে আর্জেন্টিনা... ক্রীড়া ডেস্ক :: রাশিয়া বিশ্বকাপটা দুঃস্বপ্নের মতো গেছে আর্জেন্...

ক্রীড়া ডেস্ক :: রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে একরকম উড়ে গেল ক্রোয়েশিয়া। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারল না ক্রোয়াটরা। ৪-২ গোলে হেরে প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো তাদের। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না! ফ্রান্সের চেয়েও ছন্দে থাকা দলকে হারিয়েই ফাইনালি লড়াইয়ে এসেছিল তারা। তাহলে ফরাসিদের বিপক্ষে কেন এমন ভরাডুবি তাদের? কৌতুহলী পাঠকদের সেই চাহিদা নিবৃত্ত করতেই আমাদের এ লেখা-

অতি আত্মবিশ্বাস: সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অতি আত্মবিশ্বাসে ভুগছিল ক্রোয়েশিয়া। ক্রোয়াটরা মনে মনে গেঁথে ফেলেছিলেন, ইংলিশদের পারলে ফ্রান্সকে নয় কেন? সূক্ষ্ন দৃষ্টিতে দেখলে, এবার ফরাসিদের চেয়ে ভালো খেলেছে হ্যারি কেনরা। তাদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল এমবাপ্পেদের হারানোই যায়। এমন মনোভাবই ডুবিয়েছে তাদের।

দুর্বল রক্ষণভাগ: ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠ যতটা শক্তিশালী, রক্ষণভাগ ততটা নয়। ফ্রান্স ৪টি গোলই পেয়েছে ক্রোয়াটদের রক্ষণের ভুলে। এদিন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে মার্ক করার যেন বালাই ছিল না ভিদা-লভরেনদের। যার সুযোগটা নিয়েছেন পগবা-এমবাপ্পে। দুজনই গোল করেছেন ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণেল ভুলে।

অতি সতর্ক ফ্রান্স: ২০১৬ সালে সেমিফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে ইউরোর ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। সেখানে প্রতিপক্ষ ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল পর্তুগাল। অথচ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ফরাসিদের। নেপথ্যে জার্মানদের হারিয়ে অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে যাওয়া। ইউরোর সেই ভুল করেনি ফ্রান্স। মড্রিচ-রাকিটিচদের নিয়ে ভীষণ সতর্ক ছিল ’৯৮ বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

অভিজ্ঞতার অভাব: ফাইনালে আক্রমণাত্মক শুরু করেছিল ক্রোয়েশিয়া। সেখানে ধীরলয়ে এগোয় ফ্রান্স। ফরাসিদের কৌশলই ছিল, দালিচ শিষ্যদের আক্রমণে উঠিয়ে খেলা ওপেন করে দেয়া। সেটা বুঝে উঠতে পারেননি তারা। গোল হজম করে এর কড়া মাশুল গুনতে হয় তাদের। ফ্রান্সের অভিজ্ঞতার কাছেই হেরে গেছে ক্রোয়েশিয়া।

নিষ্প্রভ ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক: পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত গোলকিপিং করেছেন সুবাসিচ। অথচ ফাইনালে তাকে খুজেঁই পাওয়া গেল না। তার দুর্বল গোলকিপিংও ডুবিয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে।

ফ্রান্স কোচের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক: দিদিয়ের দেশমের অধিনায়কত্বেই ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। বড় মঞ্চের শিরোপা কীভাবে জিততে হয় খুব ভালো করেই জানা ছিল তার। কোচ দেশমের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক ও ট্যাক্টিকসের কাছে হেরে গেছে ক্রোয়েশিয়া।

Facebook Comments

আরো খবর

ভুটানকে উড়িয়ে ফাইনালে মেয়েরা... ক্রীড়া প্রতিবেদক :: অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ...
প্রথমার্ধ শেষে ৩-০ গোলে এগিয়ে নারী ফুটবলাররা... ক্রীড়া ডেস্ক :: সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনা...
‘ঘুরে দাঁড়ানোয় বড় অবদান মাশরাফির’... ক্রীড়া ডেস্ক :: ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজে গুঁড়িয়ে যাওয়া পর ব...
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ফ্রান্স, চারে ক্রো... ক্রীড়া ডেস্ক : ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছে বর্তমান...
নতুন ‘মোড়কে’ আসছে আর্জেন্টিনা... ক্রীড়া ডেস্ক :: রাশিয়া বিশ্বকাপটা দুঃস্বপ্নের মতো গেছে আর্জেন্...