আজঃ ২রা পৌষ ১৪২৫ - ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ - সকাল ৮:৩৬

প্রতারণা রোধে বাজারে থাকবে ‘ওজন বন্ধু’

Published: অক্টো ১৩, ২০১৮ - ১:৪৫ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: সারা দেশে কাঁচাবাজারগুলোয় ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করেই যাচ্ছে বিক্রেতারা। একদিকে কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেয়া হচ্ছে ওজনে কম।

এ প্রতারণা, বিশেষ করে ওজনে প্রতারণা ঠেকানো এবং এক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। প্রতিটি কাঁচাবাজারে ‘ওজন বন্ধু’ সেবা চালু করতে যাচ্ছে তারা। ভোক্তারা বাজার থেকে পণ্য কিনে সেখানেই ওজন যাচাই করতে পারবেন। ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকায়, পরে পর্যায়ক্রমে অন্য এলাকার বাজারগুলোয় এ সেবা চালু করতে চায় অধিদফতর।

জানতে চাইলে অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে এ সেবা চালু করতে যাচ্ছে অধিদফতর। প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর ১০টি বড় বাজারে ‘ওজন বন্ধু’ নামে ওজন পরিমাপের ডিজিটাল যন্ত্র বাজারের প্রবেশমুখে বসানো হবে। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই সেবা চালু করা হবে।

শাহরিয়ার আরও বলেন, আমরা বাজার কমিটির সঙ্গে মিলে এ সেবা পরিচালনা করব। শুরুর দিকে অধিদফতরের জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালানো হবে। পরে তা বাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রথমে রাজধানীর ১০টি বাজারে এ সেবা চালু করলেও ভবিষ্যতে দেশের প্রত্যেকটি কাঁচাবাজারে এই সেবা চালু করা হবে। তিনি বলেন, কাঁচাবাজার থেকে ভোক্তা কোনো পণ্য কিনে সন্দেহ হলে ‘ওজন বন্ধুর’ মাধ্যমে পরিমাপ করতে পারবে। কম পেলে সেখান থেকেই ভোক্তা অধিদফতরের সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ করতে পারবে।

পরে সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভোক্তা আইনে দোষী ব্যবসায়ীকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, কাঁচাবাজারে বেশি মুনাফার লোভে বিক্রেতারা অনেক সময়েই পণ্য ওজনে কম দেয়। কিন্তু এসব দেখার কেউ ছিল না। তবে ‘ওজন বন্ধু’ সেবা চালু হলে ভোক্তারা উপকৃত হবে। এই ভালো কার্যক্রম যাতে মাঝপথে বন্ধ হয়ে না যায়, এজন্য ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকা দরকার।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বৃহস্পতিবার নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সাধারণ কাঁচাবাজারে বিক্রেতারা যদি ভোক্তাদের কোনো পণ্য ওজনে কম দেয়, সেটা ধরা যায় না। তাদের কারসাজির কাছে আমাদের মতো সাধারণ ভোক্তাদের সব সময় ঠকতে হয়। তাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।

একই বাজারে আসা গৃহিণী আসমা বেগম বলেন, কাঁচাবাজারের অনেক ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। কোনো রসিদ না থাকায় ভোক্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। এর প্রতিকার খুব জরুরি। মো. জুলফিকার বলেন, ব্যবসায়ীরা দিন দিন অভিনব উপায়ে ক্রেতাদের ওজনে কম দিয়ে আসছে। ‘ওজন বন্ধু’ যদি এ সমস্যা থেকে আমাদের পরিত্রাণ দেয়, তাহলে ভালো হবে।

এ বিষয় কারওয়ান বাজারের নিত্যপণ্য বিক্রেতা মো. সোনাই আলী বলেন, আমরা বিক্রেতারা কখনোই ইচ্ছে করে ওজনে কম দেই না। অনেক সময় একটু এদিক-ওদিক হয়ে যেতে পারে। আবার ছোট অনেক দোকানে ওজন মাপার ডিজিটাল যন্ত্র নেই, তাদের বাটখারার ওপর নির্ভর হতে হয়। সেক্ষেত্রে বাটখারা ব্যবহার করতে করতে ক্ষয় হয়ে যায়।

তাই ওজনে অল্প পরিমাণে কম হতে পারে। এজন্য আমরা সচেতন থাকব। কিন্তু ক্রেতারা অধিদফতরের কাছে পণ্যে ওজন কম পেয়ে অভিযোগ করলে যাতে সংশ্লিষ্টরা সঠিক কারণ বের করে বিক্রেতাদের শাস্তির আওতায় আনে। তা না হলে আমরা নির্দোষ হয়েও বিড়ম্বনার শিকার হতে পারি। রাজধানীর বাজারগুলোর মালিক সমিতির কর্মকর্তারা জানান, অধিদফতরের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বিক্রেতারা অনেক সময় জেনে, অনেক সময় না জেনে ভোক্তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণের কম পণ্য ভোক্তার কাছে তুলে দেন।

এতে ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। বাজারে ‘ওজন বন্ধু’ সেবা থাকলে ক্রেতারা এ প্রতারণার হাত থেকে মুক্তি পাবে। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে বাজার কমিটির সদস্যরা অধিদফতরের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করবেন।

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: সারা দেশে কাঁচাবাজারগুলোয় ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করেই যাচ্ছে বিক্রেতারা। একদিকে কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেয়া হচ্ছে ওজনে কম।

এ প্রতারণা, বিশেষ করে ওজনে প্রতারণা ঠেকানো এবং এক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। প্রতিটি কাঁচাবাজারে ‘ওজন বন্ধু’ সেবা চালু করতে যাচ্ছে তারা। ভোক্তারা বাজার থেকে পণ্য কিনে সেখানেই ওজন যাচাই করতে পারবেন। ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকায়, পরে পর্যায়ক্রমে অন্য এলাকার বাজারগুলোয় এ সেবা চালু করতে চায় অধিদফতর।

জানতে চাইলে অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে এ সেবা চালু করতে যাচ্ছে অধিদফতর। প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর ১০টি বড় বাজারে ‘ওজন বন্ধু’ নামে ওজন পরিমাপের ডিজিটাল যন্ত্র বাজারের প্রবেশমুখে বসানো হবে। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই সেবা চালু করা হবে।

শাহরিয়ার আরও বলেন, আমরা বাজার কমিটির সঙ্গে মিলে এ সেবা পরিচালনা করব। শুরুর দিকে অধিদফতরের জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালানো হবে। পরে তা বাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রথমে রাজধানীর ১০টি বাজারে এ সেবা চালু করলেও ভবিষ্যতে দেশের প্রত্যেকটি কাঁচাবাজারে এই সেবা চালু করা হবে। তিনি বলেন, কাঁচাবাজার থেকে ভোক্তা কোনো পণ্য কিনে সন্দেহ হলে ‘ওজন বন্ধুর’ মাধ্যমে পরিমাপ করতে পারবে। কম পেলে সেখান থেকেই ভোক্তা অধিদফতরের সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ করতে পারবে।

পরে সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভোক্তা আইনে দোষী ব্যবসায়ীকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, কাঁচাবাজারে বেশি মুনাফার লোভে বিক্রেতারা অনেক সময়েই পণ্য ওজনে কম দেয়। কিন্তু এসব দেখার কেউ ছিল না। তবে ‘ওজন বন্ধু’ সেবা চালু হলে ভোক্তারা উপকৃত হবে। এই ভালো কার্যক্রম যাতে মাঝপথে বন্ধ হয়ে না যায়, এজন্য ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকা দরকার।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বৃহস্পতিবার নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সাধারণ কাঁচাবাজারে বিক্রেতারা যদি ভোক্তাদের কোনো পণ্য ওজনে কম দেয়, সেটা ধরা যায় না। তাদের কারসাজির কাছে আমাদের মতো সাধারণ ভোক্তাদের সব সময় ঠকতে হয়। তাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।

একই বাজারে আসা গৃহিণী আসমা বেগম বলেন, কাঁচাবাজারের অনেক ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। কোনো রসিদ না থাকায় ভোক্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। এর প্রতিকার খুব জরুরি। মো. জুলফিকার বলেন, ব্যবসায়ীরা দিন দিন অভিনব উপায়ে ক্রেতাদের ওজনে কম দিয়ে আসছে। ‘ওজন বন্ধু’ যদি এ সমস্যা থেকে আমাদের পরিত্রাণ দেয়, তাহলে ভালো হবে।

এ বিষয় কারওয়ান বাজারের নিত্যপণ্য বিক্রেতা মো. সোনাই আলী বলেন, আমরা বিক্রেতারা কখনোই ইচ্ছে করে ওজনে কম দেই না। অনেক সময় একটু এদিক-ওদিক হয়ে যেতে পারে। আবার ছোট অনেক দোকানে ওজন মাপার ডিজিটাল যন্ত্র নেই, তাদের বাটখারার ওপর নির্ভর হতে হয়। সেক্ষেত্রে বাটখারা ব্যবহার করতে করতে ক্ষয় হয়ে যায়।

তাই ওজনে অল্প পরিমাণে কম হতে পারে। এজন্য আমরা সচেতন থাকব। কিন্তু ক্রেতারা অধিদফতরের কাছে পণ্যে ওজন কম পেয়ে অভিযোগ করলে যাতে সংশ্লিষ্টরা সঠিক কারণ বের করে বিক্রেতাদের শাস্তির আওতায় আনে। তা না হলে আমরা নির্দোষ হয়েও বিড়ম্বনার শিকার হতে পারি। রাজধানীর বাজারগুলোর মালিক সমিতির কর্মকর্তারা জানান, অধিদফতরের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বিক্রেতারা অনেক সময় জেনে, অনেক সময় না জেনে ভোক্তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণের কম পণ্য ভোক্তার কাছে তুলে দেন।

এতে ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। বাজারে ‘ওজন বন্ধু’ সেবা থাকলে ক্রেতারা এ প্রতারণার হাত থেকে মুক্তি পাবে। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে বাজার কমিটির সদস্যরা অধিদফতরের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করবেন।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর