আজঃ ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - দুপুর ২:১৬

পারিবারিক ঐতিহ্যে আমি নৌকার দাবিদার’

Published: এপ্রি ২৪, ২০১৮ - ১১:০২ অপরাহ্ণ

এম. এ. কাইয়ুম, মৌলভীবাজার ::কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নওয়াব আলী ওয়াজেদ খান বাবু। তাঁর বাবা নবাব আলী সরওয়ার খান (চুন্নু নওয়াব) ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে এ আসন থেকে গণমানুষের ভোটে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। চুন্নু নওয়াব মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক এবং ১৯৭২ এর সংবিধানের প্রণয়নকারীও বটে। সে হিসেবে পারিবারিক ধারাবাহিকতায় আসন্ন নৌকা প্রতীক দাবীদার বলে পূর্বপশ্চিমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন কুলাউড়া উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি নওয়াব আলী ওয়াজেদ খান বাবু ।
প্রতিদিন: হঠাৎ জাতীয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার ইচ্ছে হল কেন?
আলী ওয়াজেদ খান: দেখুন আমার পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে আমি নৌকার কান্ডারি হতে চাই। রাজনীতি শিখেছি বাবার হাত ধরে আর আদর্শ লালন করেছি বঙ্গবন্ধুর। বাবা দুইবারের সফল এমপি ছিলেন এ আসনে তাও আ.লীগের ব্যানেরা। তাই বাবারমত আমিও সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।

প্রতিদিন: রাজনীতিতে সক্রিয় কবে থেকে ?
আলী ওয়াজেদ খান: ১৯৯৬ সাল থেকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে কাজ করছি। ১৯৯৬ থেকে কুলাউড়া উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। শুরু থেকেই খুব কাছ থেকে বাবার রাজনীতি দেখার সুযোগ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নানা কর্মকা- বাস্তবায়নে আমার বাবার সঙ্গী ছিলাম।
প্রতিদিন: কুলাউড়ায় আ.লীগের একটি পক্ষকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আপনি, এটা কি মূল ধারার সাথে সংঘর্ষ বলে মনে করেন না ?

আলী ওয়াজেদ খান: আমাদের মাঝে প্রতিযোগীতা চাই প্রতিহিংসা নয়। আ.লীগ এক এবং অভিন্ন। সুলতান মনসুর হাল ছাড়ার পর থেকে কুলাউড়ায় আ’লীগের রাজনীতির অতিশয় সুন্দর পরিবেশ না থাকাতে আমি হাল ধরেছি। এখানে সংঘর্ষের প্রশ্নই আসে না। যেখানে জেলায় সুষ্ঠ ও গ্রহনযোগ্য একটি কমিটি কেন্দ্রীয় আ.লীগ উপহার দিয়েছে সেখানে সব সমঝোতার মধ্যমে হবে এটাই আমি বিশ্বাস করি।
প্রতিদিিন: কুলাউড়ার পরিবেশ ফিরে আসবে বলে মনে করেন ?
আলী ওয়াজেদ খান: এটা জেলার উপর নির্ভর করছে। রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতির দায়িত্ব দেওয়া হলেওই কেবল শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মনে করি। সর্বোপরি চাই সুষ্ঠ নেতৃত্ব।
প্রতিদিন: রাজনীতির পরিবেশ বলতে কি বুঝাতে চাইছেন ?
আলী ওয়াজেদ খান: সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এমপি থাকাকালীন সময়ে উন্নয়ন দেখেছি, রাজনীতি দেখেছি। সেজন্য কুলাউড়ার মানুষ এখন সুলতান মনসুরকে মিস করে। তখন মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষের শক্তি ভালো অবস্থানে ছিলো। কিন্তু এখন নাজুক…
প্রতিদিিন: নৌকার কা-ারী অনেকেই হতে চান, মনোনয়ন লড়াইয়ে কতটা ঠিকতে পারবেন ?
আলী ওয়াজেদ খান: আমি মনোনয়ন চাইব। দলীয় হাইকমা- আমার ব্রেকরাউন্ড দেখে মূল্যায়ন করবে। আমার বাবার অবস্থান মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জ্ঞাত। দল মূল্যায় করলেই আমি নির্বাচনে অংশ নিব।
প্রতিদিিন:বলা যায় কি নবাব পরিবার থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দু’জন প্রার্থী ?
আলী ওয়াজেদ খান: এ নতুন কিছু নয়। ১৯৭০ এর নির্বাচনে আ.লীগ থেকে এমপি প্রার্থী ছিলেন আমার বাবা নওয়াব আলী ছরওয়ার খান আর মুসলীমলীগ থেকে প্রার্থী ছিলেন নওয়াব আলী ইয়াওর খান। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নওয়াব আলী আব্বাছ জাতীয় পার্টি থেকে আর আমি আ.লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। সর্বশেষ গেল ইউপি নির্বাচনেও একি পরিবার থেকে দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছে এজন সফল হয়েছেন।
প্রতিদিন: বর্তমান এমপির রাজনৈতিক ও সরকারি উন্নয়ন কিভাবে মূল্যায়ন করবেন ?
আলী ওয়াজেদ খান: উন্নয়নের দৃষ্টান্ত হল ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল ( এমপি ছিলেন সুলতান মনসুর)। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে আমাদের এ আসনে উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন হয়নি। হবার সুযোগও দেখছি না। যেখানে সাধারণ জনগন এমপি থেকে দূরে, এমপি জনগন বিচ্ছিন্ন, ভাগ বাটোয়ারা করেন নিজিরে মধ্যে সেখানে উন্নয়ন হবে কি করে?
প্রতিদিন: সাধারণ জনগনের প্রতি কোন মেসেজ ?
আলী ওয়াজেদ খান: কুলাউাড়ায় সঠিক রাজনীতির সুষ্ঠ নেতৃত্ব কায়েম তরতে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যিবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবী। এতে যোগ্য নেতৃত্ব আসবে আর উন্নয়নের কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হবে এতে করে বেকারত্ব কমবে।

Facebook Comments

এম. এ. কাইয়ুম, মৌলভীবাজার ::কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নওয়াব আলী ওয়াজেদ খান বাবু। তাঁর বাবা নবাব আলী সরওয়ার খান (চুন্নু নওয়াব) ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে এ আসন থেকে গণমানুষের ভোটে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। চুন্নু নওয়াব মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক এবং ১৯৭২ এর সংবিধানের প্রণয়নকারীও বটে। সে হিসেবে পারিবারিক ধারাবাহিকতায় আসন্ন নৌকা প্রতীক দাবীদার বলে পূর্বপশ্চিমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন কুলাউড়া উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি নওয়াব আলী ওয়াজেদ খান বাবু ।
প্রতিদিন: হঠাৎ জাতীয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার ইচ্ছে হল কেন?
আলী ওয়াজেদ খান: দেখুন আমার পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে আমি নৌকার কান্ডারি হতে চাই। রাজনীতি শিখেছি বাবার হাত ধরে আর আদর্শ লালন করেছি বঙ্গবন্ধুর। বাবা দুইবারের সফল এমপি ছিলেন এ আসনে তাও আ.লীগের ব্যানেরা। তাই বাবারমত আমিও সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।

প্রতিদিন: রাজনীতিতে সক্রিয় কবে থেকে ?
আলী ওয়াজেদ খান: ১৯৯৬ সাল থেকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে কাজ করছি। ১৯৯৬ থেকে কুলাউড়া উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। শুরু থেকেই খুব কাছ থেকে বাবার রাজনীতি দেখার সুযোগ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নানা কর্মকা- বাস্তবায়নে আমার বাবার সঙ্গী ছিলাম।
প্রতিদিন: কুলাউড়ায় আ.লীগের একটি পক্ষকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আপনি, এটা কি মূল ধারার সাথে সংঘর্ষ বলে মনে করেন না ?

আলী ওয়াজেদ খান: আমাদের মাঝে প্রতিযোগীতা চাই প্রতিহিংসা নয়। আ.লীগ এক এবং অভিন্ন। সুলতান মনসুর হাল ছাড়ার পর থেকে কুলাউড়ায় আ’লীগের রাজনীতির অতিশয় সুন্দর পরিবেশ না থাকাতে আমি হাল ধরেছি। এখানে সংঘর্ষের প্রশ্নই আসে না। যেখানে জেলায় সুষ্ঠ ও গ্রহনযোগ্য একটি কমিটি কেন্দ্রীয় আ.লীগ উপহার দিয়েছে সেখানে সব সমঝোতার মধ্যমে হবে এটাই আমি বিশ্বাস করি।
প্রতিদিিন: কুলাউড়ার পরিবেশ ফিরে আসবে বলে মনে করেন ?
আলী ওয়াজেদ খান: এটা জেলার উপর নির্ভর করছে। রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতির দায়িত্ব দেওয়া হলেওই কেবল শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মনে করি। সর্বোপরি চাই সুষ্ঠ নেতৃত্ব।
প্রতিদিন: রাজনীতির পরিবেশ বলতে কি বুঝাতে চাইছেন ?
আলী ওয়াজেদ খান: সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এমপি থাকাকালীন সময়ে উন্নয়ন দেখেছি, রাজনীতি দেখেছি। সেজন্য কুলাউড়ার মানুষ এখন সুলতান মনসুরকে মিস করে। তখন মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষের শক্তি ভালো অবস্থানে ছিলো। কিন্তু এখন নাজুক…
প্রতিদিিন: নৌকার কা-ারী অনেকেই হতে চান, মনোনয়ন লড়াইয়ে কতটা ঠিকতে পারবেন ?
আলী ওয়াজেদ খান: আমি মনোনয়ন চাইব। দলীয় হাইকমা- আমার ব্রেকরাউন্ড দেখে মূল্যায়ন করবে। আমার বাবার অবস্থান মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জ্ঞাত। দল মূল্যায় করলেই আমি নির্বাচনে অংশ নিব।
প্রতিদিিন:বলা যায় কি নবাব পরিবার থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দু’জন প্রার্থী ?
আলী ওয়াজেদ খান: এ নতুন কিছু নয়। ১৯৭০ এর নির্বাচনে আ.লীগ থেকে এমপি প্রার্থী ছিলেন আমার বাবা নওয়াব আলী ছরওয়ার খান আর মুসলীমলীগ থেকে প্রার্থী ছিলেন নওয়াব আলী ইয়াওর খান। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নওয়াব আলী আব্বাছ জাতীয় পার্টি থেকে আর আমি আ.লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। সর্বশেষ গেল ইউপি নির্বাচনেও একি পরিবার থেকে দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছে এজন সফল হয়েছেন।
প্রতিদিন: বর্তমান এমপির রাজনৈতিক ও সরকারি উন্নয়ন কিভাবে মূল্যায়ন করবেন ?
আলী ওয়াজেদ খান: উন্নয়নের দৃষ্টান্ত হল ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল ( এমপি ছিলেন সুলতান মনসুর)। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে আমাদের এ আসনে উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন হয়নি। হবার সুযোগও দেখছি না। যেখানে সাধারণ জনগন এমপি থেকে দূরে, এমপি জনগন বিচ্ছিন্ন, ভাগ বাটোয়ারা করেন নিজিরে মধ্যে সেখানে উন্নয়ন হবে কি করে?
প্রতিদিন: সাধারণ জনগনের প্রতি কোন মেসেজ ?
আলী ওয়াজেদ খান: কুলাউাড়ায় সঠিক রাজনীতির সুষ্ঠ নেতৃত্ব কায়েম তরতে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যিবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবী। এতে যোগ্য নেতৃত্ব আসবে আর উন্নয়নের কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হবে এতে করে বেকারত্ব কমবে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর