পলিথিনে মোড়ানো দুটো ফ্ল্যাক্স দেখে সন্দেহ হয় এসএসএফের….

প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার বিশেষ ফ্লাইটে এবার খাবার সরবরাহে চরম অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ উঠল বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি) এর বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৯ মে) ঢাকা থেকে ভিয়েনাগামী ওই ফ্লাইটে অননুমোদিত (সিকিউরিটি ট্যাগবিহীন) খাবার ওঠানোর পর এসএসএফ তা প্রত্যাখান করে।
এর আগে গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বুদাপেস্টগামী বিমানের একটি ফ্লাইট আশগাবাদে জরুরি অবতরণ করে। দেশ বিদেশে তোলপাড় তোলা ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার প্রধানমন্ত্রীর খাবার নিয়ে গাফিলতির এমন ঘটনা ঘটল।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিমানের এমডি ক্যাপ্টেন এম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত না করে কিছুই বলা যাবে না। ওই ফ্লাইটে খাবার তালিকায় কি ছিল আর কি দেয়া হয়েছিল- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার কতোটুকু দায় সেটা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।
বিমানসূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতাধিক সফরসঙ্গী নিয়ে দু’দিনের সফরে সোমবার বিমানের বোয়িং ৭৭৭-এর একটি ফ্লাইটে ভিয়েনা রওয়ানা হন। ওই ভিভিআইপি ফ্লাইটের জন্য এসএসএফ-এর একটি টিমের উপস্থিতিতে রোববার রাত তিনটায় বিএফসিসিতে পূর্ব নিধারিত মেন্যু অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর খাবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে একটি কক্ষে সীলগালা করা হয়। সোমবার সকালে বিএফসিসির একটি কার্টে করে ওই খাবার পাঠানো হয় ফ্লাইটে। তখন এসএসএফ দেখতে পায়- প্রধানমন্ত্রীর জন্য সিকিউরিটি ট্যাগ ছাড়াই দুই ফ্ল্যাক্স স্যুপ দেয়া হয়েছে। এসএসএফ এতে বিস্ময় প্রকাশ করে স্যুপের ফ্লাক্স দুটো তক্ষুনি ফেরত দেয়।
বিএফসিসিসূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর খাবার মেন্যুতে চিকেন ও ভেজিটেবল স্যুপ ছিল। সেভাবে স্যুপ ভর্তি দুটো ফ্ল্যাক্স সেখানে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে নেয়াও হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ফ্ল্যাক্স দুটো তালিকা অনুসারে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে কার্টে না রেখে বাইরে ফেলে রাখেন। সকালে যখন খাবার ওঠানো হচ্ছিল, তখন ওই দুটো ফ্ল্যাক্সে সিকিউরিটি ট্যাগ না লাগিয়ে তাড়াহুড়ো করে দুটো পলিথিনে ভরে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয় ফ্লাইটে। এসএসএফ সিকিউরিটি ট্যাগ ছাড়া পলিথিনে মোড়ানো দুটো ফ্ল্যাক্স দেখে বিস্মিত হয়।খাবারের তালিকায় স্যুপের মেন্যু দেখতে পেলেও সিকিউরিটি ট্যাগ না থাকায় এসএসএফ তা গ্রহণ করেনি। ফলে ফ্লাইট থেকে ফ্ল্যাক্স দুটো ফেরত আনতে বাধ্য হয় বিএফসিসি।
বিমানসূত্র জানিয়েছে, বিএফসিসি অপারেশন শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে রোববার রাতে ওই দুটো ফ্ল্যাক্স প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংরক্ষিত রুমে না রেখে বাইরে ফেলে রাখা হয়। সোমবার সকালে বাইরে ফেলে রাখা ফ্ল্যাক্স দুটো তাড়াহুড়ো করে পলিথিনে ভরে মুখ বেঁধে পাঠানো হয় ফ্লাইটে।
এ ঘটনা তদন্তে বিমানের ডিজিএম রেজাকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
Facebook Comments

Leave a Reply