আজঃ ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - সকাল ৯:৫০

নোয়াখালীতে গোপন বৈঠক থেকে শিবিরের ৩৮ নেতাকর্মী আটক

Published: মার্চ ০৬, ২০১৮ - ১:১৯ পূর্বাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: সোমবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন বীরত্তোম শাহ আলম সড়কের একটি ৪ তলার বাড়ির ফ্লাট থেকে নাশকতার গোপন বৈঠক করার সময় শিবিরের ৩৮ নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।

এ সময় তাদের থেকে ২১টি তাজা পেট্রল বোমা, ৮টি কিরিচ, ওই বাড়ির নিচে তাদের ব্যবহৃত ৮টি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ জেহাদী বই উদ্ধার করেছে।

আটককৃত শিবির নেতা-কর্মীদের মধ্যে শিবিরের নোয়াখালী শহর শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল রাকিবসহ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের ১৮ জন, কুমিল্লা আইন কলেজের ১ জন, বেগমগঞ্জ পলিটেকনিক্যালের ১ জন এবং বিভিন্ন মাদরাসার ৭ জন রয়েছে। রাতেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানায় রাখা হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানায় গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে জেলা শহরের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন বীরত্তোম শাহ আলম সড়কে আমেনা মঞ্জিলের ৪র্থ তলার একটি ফ্লাটে জামাত-শিবিরের বেশ কিছু ক্যাডার সেখানে গোপন বৈঠক করে জেলা শহরে বড় ধরনের  নাশকতার পরিকল্পনা করছে। খবর পেয়ে তিনি সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি শক্তিশালী দল নিয়ে সন্ধ্যার পর আমেনা মঞ্জিল ঘিরে ফেলেন।

পরে ৪র্থ তলার ওই পস্নাটে গিয়ে হানা দেন, এ সময়ে তারা পালানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে পরে পুলিশের নিকট ধরা দেয়। তারা নাশকতার কথা স্বীকার করে। এ সময়ে নাশকতার পরিকল্পনার ম্যাপসহ তাদের নিকট থাকা ২১টি পেট্রল বোমা, ৮টি কিরিচ, বেশ কিছু জেহাদী বই ও তাদের গোপন বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে আগতদের ব্যবহৃত ৮টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, তারা জেলা শহরের বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। তারা ওই বাসায় বসে গোপন বৈঠকে করে পরবর্তিতে মামলা করত বলে মনে করা হচ্ছে।

ওই বৈঠক থেকে শিবিরের নোয়াখালী শহর শাখার সাধারন সম্পাদকসহ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের ১৮ জন, বিভিন্ন মাদরাসার ৭ জন, কুমিল্লা আইন কলেজের ১ জন ও বেগমগঞ্জ পলিটেকনিক্যালের ১ জন ছাত্র রয়েছে। যারা সকলেই জামাত শিবিরের সমর্থক। তাদের বর্তমানে সুধারাম থানা হাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থার কাজ চলছে। এ ছাড়া ওই ভবনের মালিক ওমর ফারুখকে পাওয়া যায়নি, তবে তার সন্তান ইকবাল ফারুখকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাতে নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সুধারাম থানায় এসে এ নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে জেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের ব্রিফিং দেন।

তিনি জানান নোয়াখালী জেলায় বড় ধরনের নাশকতা করতে তারা এ ভবনে জড়ো হয়েছিল। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর সুধারাম থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে সফল অভিযান করে। আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদসহ তাদের নাশকতার বিষয়ে জানার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আটককৃত সকলেই বিভিন্ন কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

তথ্য : কালেরকন্ঠ

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: সোমবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন বীরত্তোম শাহ আলম সড়কের একটি ৪ তলার বাড়ির ফ্লাট থেকে নাশকতার গোপন বৈঠক করার সময় শিবিরের ৩৮ নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।

এ সময় তাদের থেকে ২১টি তাজা পেট্রল বোমা, ৮টি কিরিচ, ওই বাড়ির নিচে তাদের ব্যবহৃত ৮টি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ জেহাদী বই উদ্ধার করেছে।

আটককৃত শিবির নেতা-কর্মীদের মধ্যে শিবিরের নোয়াখালী শহর শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল রাকিবসহ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের ১৮ জন, কুমিল্লা আইন কলেজের ১ জন, বেগমগঞ্জ পলিটেকনিক্যালের ১ জন এবং বিভিন্ন মাদরাসার ৭ জন রয়েছে। রাতেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানায় রাখা হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানায় গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে জেলা শহরের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন বীরত্তোম শাহ আলম সড়কে আমেনা মঞ্জিলের ৪র্থ তলার একটি ফ্লাটে জামাত-শিবিরের বেশ কিছু ক্যাডার সেখানে গোপন বৈঠক করে জেলা শহরে বড় ধরনের  নাশকতার পরিকল্পনা করছে। খবর পেয়ে তিনি সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি শক্তিশালী দল নিয়ে সন্ধ্যার পর আমেনা মঞ্জিল ঘিরে ফেলেন।

পরে ৪র্থ তলার ওই পস্নাটে গিয়ে হানা দেন, এ সময়ে তারা পালানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে পরে পুলিশের নিকট ধরা দেয়। তারা নাশকতার কথা স্বীকার করে। এ সময়ে নাশকতার পরিকল্পনার ম্যাপসহ তাদের নিকট থাকা ২১টি পেট্রল বোমা, ৮টি কিরিচ, বেশ কিছু জেহাদী বই ও তাদের গোপন বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে আগতদের ব্যবহৃত ৮টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, তারা জেলা শহরের বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। তারা ওই বাসায় বসে গোপন বৈঠকে করে পরবর্তিতে মামলা করত বলে মনে করা হচ্ছে।

ওই বৈঠক থেকে শিবিরের নোয়াখালী শহর শাখার সাধারন সম্পাদকসহ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের ১৮ জন, বিভিন্ন মাদরাসার ৭ জন, কুমিল্লা আইন কলেজের ১ জন ও বেগমগঞ্জ পলিটেকনিক্যালের ১ জন ছাত্র রয়েছে। যারা সকলেই জামাত শিবিরের সমর্থক। তাদের বর্তমানে সুধারাম থানা হাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থার কাজ চলছে। এ ছাড়া ওই ভবনের মালিক ওমর ফারুখকে পাওয়া যায়নি, তবে তার সন্তান ইকবাল ফারুখকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাতে নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সুধারাম থানায় এসে এ নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে জেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের ব্রিফিং দেন।

তিনি জানান নোয়াখালী জেলায় বড় ধরনের নাশকতা করতে তারা এ ভবনে জড়ো হয়েছিল। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর সুধারাম থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে সফল অভিযান করে। আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদসহ তাদের নাশকতার বিষয়ে জানার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আটককৃত সকলেই বিভিন্ন কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

তথ্য : কালেরকন্ঠ

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর