আজঃ ৫ই পৌষ ১৪২৫ - ১৯শে ডিসেম্বর ২০১৮ - দুপুর ২:৪৪

নেপালে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত : জীবন-যুদ্ধে হেরে গেলেন আরো ২ যাত্রী

Published: মার্চ ১৩, ২০১৮ - ৭:০৬ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিধ্বস্ত বিমানের দুই যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে বিধ্বস্ত বিমানের ৫১ জন যাত্রী প্রাণ হারালেন।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সবাদ সংস্থা রাষ্ট্রীয় সমাচার সমিতি (আরএসএস) বলছে, দুর্ঘটনায় ২২ নেপালি, ২৮ বাংলাদেশি, এক চীনা যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। নেপালের ইতিহাসের তৃতীয় বৃহত্তম বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা এটি।

সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ৪ ক্রু ও ৬৭ আরোহীবাহী বাংলাদেশি বেসরকারি এ বিমানটি ত্রিভুবন বিমানবন্দরের পাশের ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

এদিকে, বিমান দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছয় কর্মকর্তাকে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের (এটিসি) কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার বদলি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এ ছয় কর্মকর্তার মানসিক আঘাত প্রশমনে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে দেশটির ইংরেজি দৈনিক মাই রিপাব্লিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

অন্যদিকে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটকে বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে অবতরণের ভুল নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে ঘটনার পরপরই। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে বিমানের পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ কথোপকথনে এমন আভাস মিলেছে।

নেপালের ইংরেজি দৈনিক নেপালি টাইমস কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের সর্বশেষ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড হাতে পেয়েছে। নেপালি এ দৈনিক বলছে, কন্ট্রোল রুম থেকে ভুল বার্তা দেয়ার কারণেই ককপিটে দ্বিধায় পড়েন পাইলট।

অডিও রেকর্ডের শুরুতে শোনা যায়, কন্ট্রোল রুম থেকে বিমানের পাইলটকে বিমানবন্দরের ডানদিকের দুই নাম্বার রানওয়েতে অবতরণের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। পরে পাইলট বলেন, ঠিক আছে স্যার। নির্দেশনা অনুযায়ী পাইলট বিমানটি বিমানবন্দরের ডানদিকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান কন্ট্রোল রুমে।

কিন্তু ডানদিকে রানওয়ে ফ্রি না থাকায় তিনি আবারো কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তাকে ভিন্ন বার্তা দেয়া হয়। এবারে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি বর্তমান অবস্থানে থাকতে পারবেন?

এ সময় পাইলট দুই নাম্বার রানওয়ে ফ্রি করার জন্য কন্ট্রোল রুমের কাছে অনুরোধ জানান। কিন্তু তাকে আবারো ভিন্ন বার্তা দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর পাইলট বলেন, স্যার আমি আবারো অনুরোধ করছি রানওয়ে ক্লিয়ার করুন। এর পরপরই বিমানটি বিকট শব্দ করতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই বিমানটি ত্রিভুবণ বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে আঁছড়ে পড়ে।

সূত্র : মাই রিপাব্লিকা, নেপালি টাইমস।

Facebook Comments

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিধ্বস্ত বিমানের দুই যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে বিধ্বস্ত বিমানের ৫১ জন যাত্রী প্রাণ হারালেন।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সবাদ সংস্থা রাষ্ট্রীয় সমাচার সমিতি (আরএসএস) বলছে, দুর্ঘটনায় ২২ নেপালি, ২৮ বাংলাদেশি, এক চীনা যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। নেপালের ইতিহাসের তৃতীয় বৃহত্তম বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা এটি।

সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ৪ ক্রু ও ৬৭ আরোহীবাহী বাংলাদেশি বেসরকারি এ বিমানটি ত্রিভুবন বিমানবন্দরের পাশের ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

এদিকে, বিমান দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছয় কর্মকর্তাকে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের (এটিসি) কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার বদলি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এ ছয় কর্মকর্তার মানসিক আঘাত প্রশমনে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে দেশটির ইংরেজি দৈনিক মাই রিপাব্লিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

অন্যদিকে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটকে বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে অবতরণের ভুল নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে ঘটনার পরপরই। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে বিমানের পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ কথোপকথনে এমন আভাস মিলেছে।

নেপালের ইংরেজি দৈনিক নেপালি টাইমস কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের সর্বশেষ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড হাতে পেয়েছে। নেপালি এ দৈনিক বলছে, কন্ট্রোল রুম থেকে ভুল বার্তা দেয়ার কারণেই ককপিটে দ্বিধায় পড়েন পাইলট।

অডিও রেকর্ডের শুরুতে শোনা যায়, কন্ট্রোল রুম থেকে বিমানের পাইলটকে বিমানবন্দরের ডানদিকের দুই নাম্বার রানওয়েতে অবতরণের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। পরে পাইলট বলেন, ঠিক আছে স্যার। নির্দেশনা অনুযায়ী পাইলট বিমানটি বিমানবন্দরের ডানদিকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান কন্ট্রোল রুমে।

কিন্তু ডানদিকে রানওয়ে ফ্রি না থাকায় তিনি আবারো কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তাকে ভিন্ন বার্তা দেয়া হয়। এবারে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি বর্তমান অবস্থানে থাকতে পারবেন?

এ সময় পাইলট দুই নাম্বার রানওয়ে ফ্রি করার জন্য কন্ট্রোল রুমের কাছে অনুরোধ জানান। কিন্তু তাকে আবারো ভিন্ন বার্তা দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর পাইলট বলেন, স্যার আমি আবারো অনুরোধ করছি রানওয়ে ক্লিয়ার করুন। এর পরপরই বিমানটি বিকট শব্দ করতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই বিমানটি ত্রিভুবণ বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে আঁছড়ে পড়ে।

সূত্র : মাই রিপাব্লিকা, নেপালি টাইমস।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর