নিশ্চিত একটি দুর্ভিক্ষের পথে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরী

sylpro24
sylpro24
লন্ডন থেকে আব্দুল হাফিজ কানুঃমাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক অপেক্ষা , প্রতীক্ষার পর আজ লিখতে বসলাম বাংলাদেশ যখন আজ উন্নয়ের মহাসড়কে ভাসছে , বাংলাদেশের মানুষ যখন উন্নত দেশের নাগরিকদের মত সৌখিন জীবন যাপনে অব্যস্থ হতে চলছে , তখন আমার প্রিয় জন্মভুমি সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জের মানুষ ভাতের অভাবে মারা যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হতে চলেছে l
দূর প্রবাসে থেকেও নিজের এলাকার মানুষের দুঃখ , কষ্ট শুনে মনের অজান্তেই চুখের পানি চলে আসে l  ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার কারণে প্রায়ই নিজের এলাকার মানুষের সাথে কথা হয় , যখনই কথা হয় তখনই একটা দীর্ঘশ্বাস কানের মাঝে বাঁজে , “করার কিচ্ছু নেই  সবাই বেকার , অভাব অনটন , চুরি ছিনতাই , ডাকাতি।
এসবের পিছনে একটি মাত্র কারণ – কর্মসংস্থানের অভাব l  এতদিন এ এলাকার মানুষের একমাত্র কর্মসংস্থান ছিল পাথর কুয়ারি দীর্ঘদিন ধরে পাথর কুয়ারি বন্ধ থাকায় এ এলাকার প্রায় স্থানীয় এক লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে l এই এক লক্ষ শ্রমিকের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবার এখন তিন বেলা ঠিকমত ভাত খেতে পারছে না l
একমাত্র এই পাথর কুয়ারিই অত্র এলাকায় মানুষের আয়ের উৎস , নেই কুনো কল কারখানা , নেই কুনো গার্মেন্টস শিল্প l যাও কিছু মানুষ কৃষি নির্বর ছিল , এবারের অতি বৃষ্টি আর পর্যাপ্ত বাদ না থাকা আর যে কয়টি বাদ আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের দুর্নীতির কারণে পর্যাপ্ত পরিমান উঁচু না করার কারণে হাওরে পানি ঢুকে এলাকার সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে l
এক কথায় এ এলাকার মানুষ এখন পুরা দিশেহারা , অভাব অনটনে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে l এলাকার মানুষের এই পরিস্থিতির দায়বার আমাদের সরকার কুনো ভাবে সরাতে পারে না l মাননীয় প্রধান্মন্ত্রি এলাকার এই পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মনে আওয়ামীলীগের উপর নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করে দিয়েছে l যার প্রমান গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন l এলাকার ৯০% মানুষ আওয়ামীলীগ মতাদর্শীর হয়েও ৬টি ইউনিয়ের মধ্যে মাত্র একটিতে আওয়ামীলীগের প্রতীক নৌকা জয় লাভ করে l
একই রকম জেলা পরিষদ নির্বাচনেও   আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হয় l এই অবস্থা চলতে থাকলে ২০১৯ সালের জাতীয় নিবাচনেও নৌকার ভরাডুবির আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না l মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বার বার ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে একটি কথা বলেন , আমরা যেন সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড নিজের এলাকার মানুষের কাছে তুলে ধরি l
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখনই এলাকার মানুষের কাছে নিজের দল আর সরকারের কথা বলতে যাই , প্রদুত্তরে একটাই জবাব পাই ” আমরা ভাত চাই – আমরা বাঁচতে চাই ” আগে বাঁচি তারপর তোমাদের দেওয়া মহাসড়ক দিয়ে হাটব , তোমাদের দেওয়া বিদ্যুৎ দিয়ে ঘর আলোকিত করব , তোমাদের দেওয়া স্কুল কলেজে ছেলেমেয়েদের পড়াব l তখন নিজের অজান্তেই চোঁখের কোণে জল এসে যায় l
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এই এলাকার রাস্তার জন্য ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছেন , এলাকার বিভিন্ন জায়গায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোজন করে দিয়েছেন , বিভিন্ন স্থানে নতুন স্কুল , কলেজ নির্মাণ করে দিয়েছেন , কিন্তু এই এলাকার মানুষের কাছে এগুলার কুনো অর্থ নেই l যাদের ঘরে আজ খেয়ে বাঁচার জন্য ভাত নেই , তাদের কাছে রাস্তা , বিদ্যুৎ আর স্কুল কলেজ কুনো অর্থ বহন করার কথা না l যাদের কাছে ভাত কিনার টাকা নাই , তারা রাস্তায় গাড়ি চড়ার , ঘরে বিদ্যুৎ লাগানোর বা ছেলে মেয়েকে স্কুল কলেজে পড়ালিখা করার খরচ কোথায় পাবে l
এলাকার মানুষের এই পরিস্তিতে যদি বলি সব কিছু বাদ দিয়ে এলাকার মানুষের ভাতের ব্যবস্থা করে দেন সেটাও অন্যায় কিছু হবে না, কিন্তু সেটা বলতে পারি না l তবে একটা অনুরুধ করতে পারি এই এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের অতি তাড়াতাড়ি সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন, পাশাপাশি এ এলাকার মানুষের একমাত্র কর্মস্থল পাথর কুয়ারি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিন l
অন্যথায় যুদ্ধ পরবর্তী দুর্ভিক্ষ আমাদের দেখার সুযোগ হয়নি , কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর একটি মধ্য আয়ের দেশ বাংলাদেশের কোম্পানীগঞ্জে হয়ত দুর্ভিক্ষ দেখতে হতে পারে l
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে , একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কখনই পরিবেশ দূষণের পক্ষে নয় , আবার পরিবেশ রক্ষার নামে ভাতের অভাবে মানুষ হত্যার পক্ষেও নয় l যেখানে মানুষের ভাত রুটির ব্যবস্থা নেই সেখানে মানুষের পরিবেশ দিয়ে কি হবে l পরিবেশত মানুষের জন্যই ?
তাই আমি আপনার কাছে বিনীত অনুরুধ করব পরিবেশের দোহাই দিয়ে , একদল স্বার্থবাদী রাজনীতিবিদ , সাংবাদিক আর কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তার দর দামের কোন্দলের কারণে বন্দ হওয়া পাথর কুয়ারি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিন l
পরিবেশকে মাথায় রেখে , পরিবেশ দূষণ কারী সব যন্ত্রচালিত মেশিন বন্ধ রেখে , সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণে রেখে  এই খেটে খাওয়া মানুষের জন্য , দুই বেলা ভাত রুটির জন্য দেশের এই বৃহত্তম পাথর কুয়ারি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিন l পাশাপাশি কিছু কর্মসংস্থানমূলক কলকারখানা করার ব্যবস্থা নিন।এই এলাকার মানুষ আপনার কাছে চির ঋণী থাকবে l
 এতে করে যেমন একটি পরিপূর্ণ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে পারে বঙ্গবন্ধুর এই সোনার বাংলাদেশ , তেমনি ক্ষুধা , দারিদ্র মুক্ত , একটি উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মানে আপনার অক্লান্ত পরিশ্রম শতভাগ সফল হবে l
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
লেখক-মোঃজাহিদ দেওয়ান
সাংগঠনিক সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুক্তরাজ্য শাখা l
Facebook Comments

Leave a Reply