আজঃ ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - বিকাল ৪:১০

নবীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আবারও উত্তেজনা

Published: সেপ্টে ০৮, ২০১৮ - ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নবীগঞ্জ সংবাদদাতা::নবীগঞ্জে শহরের দুটি অটোরিকশা (সিএনজি) স্ট্যান্ড নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরের মাছ বাজার লুটের অভিযোগে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দু’দিন ধরে বাজারে মাছ বিক্রি অঘোষিতভাবে বন্ধ থাকায় বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জনৈক আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগে চরগাঁও ও তিমিরপুর গ্রামের লোকজন শহরের মাছ বাজারে প্রবেশ করে।

এসময় মাছ ও শুঁটকি ব্যবসায়ীদের মারধর করে বিপুল পরিমাণ মাছ, শুঁটকি, মাছ ভর্তি ড্রাম এবং মাছ বিক্রির সরঞ্জামসহ প্রায় কোটি টাকার মালামাল লোপাটের অভিযোগ ওঠে। এখবর ছড়িয়ে পড়লে শহরের মৎস্যজীবী অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামের লোকজন সংঘাতে লিপ্ত হয়। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, পৌর মেয়র আলহাজ ছাবির আহমদ চৌধুরীসহ উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে ঘটনা শালিসে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত চরগাঁও, তিমিরপুর গ্রামের লোকজন বৈঠক করেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মৎস্যজীবী অধ্যুষিত রাজাবাদ, রাজনগর, কানাইপুর, নোয়াপাড়া ও আনমনু গ্রামের নেতৃস্থানীয় লোকজন বৈঠকে মিলিত হন। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. আলমগীর চৌধুরী, হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আহমদ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাউল গনি ওসমানী, জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাড. সুলতান মাহমুদ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাশ রানাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের তরফ থেকে উত্তেজনা নিরসনে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। বিদ্যমান দু’পক্ষের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মাছ বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ও শুঁটকি ব্যবসায়ীরা হলেন, জাহির আলীর প্রায় দেড় লাখ টাকার মাছ ও সরঞ্জাম, কাছুম আলী, মন্টু মিয়া, আলা উদ্দিন, ছুবান মিয়া, ছেমেদ মিয়া, আয়াত আলী, সাফিক মিয়া,কদ্দুছ মিয়া,মছই মিয়া,বাবুল মিয়া, ইউন্নুছ আলী, আবুল কাশেম, তোয়াব উল্লা, আলাল মিয়া, বাদল মিয়া, সাজান মিয়া, ওয়াহিদ মিয়া, রেনু মিয়া, ছালামত মিয়া, ফরহাদ মিয়া, সাহেদ আলী, শুঁটকি ব্যবসায়ী মাসুক মিয়া, আব্দুস ছুবান, রাজু মিয়াসহ বিপুল পরিমাণ মাছ এবং শুঁটকর দোকান ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতিসাধণ হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সিএনজির ঘটনাকে কেন্দ্র নিরীহ মাছ বাজারে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, গত ক’দিন পুর্বে কাগাপাশা ও গুজাখাইর সিএনজি স্ট্যান্ডের শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এনিয়ে শহরের চরগাঁও থমাল তলা সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি নিয়ে কাগাপাশা যেতে বাঁধা দেয় কাগাপাশার শ্রমিকরা।

গুজাখাইড় গ্রামের শ্রমিকরা চরগাঁও স্ট্যান্ডের আওতাভুক্ত। থানা পয়েন্টের আওতাভুক্ত কাগাপাশার শ্রমিক। থানা পয়েন্টের সিএনজি চালককে গত সোমবার মারপিট করে গুজাখাইড় গ্রামের বেতাপুর সংলগ্ন স্থানে গুজাখাইড় শ্রমিকরা। এরই জের হিসেবে থানা পয়েন্টের সিএনজি শ্রমিকরা বুধবারে চরগাঁও স্ট্যান্ডের সিএনজি চালকেদের ব্যারিকেড দেয় কানাইপুর শান্তিনগর এলাকায়। এসময় দু’পক্ষের শ্রমিকদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ লিপ্ত হয়।

চরগাঁও পয়েন্টের শ্রমিকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বানিয়াচং সড়কের অবস্থান নেয়। পরে থানা পয়েন্টের শ্রমিকদের ধাওয়ায় পিছু হটে। একপর্যায়ে গুজব ছড়ালে সংঘর্ষের তীব্রতায় শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। সার্বিক বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে উপজেলার সুশীল সমাজকে নিয়ে সমঝোতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উপজেলার দীর্ঘদিনের সম্প্রতি বজায় রাখা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

Facebook Comments

নবীগঞ্জ সংবাদদাতা::নবীগঞ্জে শহরের দুটি অটোরিকশা (সিএনজি) স্ট্যান্ড নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরের মাছ বাজার লুটের অভিযোগে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দু’দিন ধরে বাজারে মাছ বিক্রি অঘোষিতভাবে বন্ধ থাকায় বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জনৈক আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগে চরগাঁও ও তিমিরপুর গ্রামের লোকজন শহরের মাছ বাজারে প্রবেশ করে।

এসময় মাছ ও শুঁটকি ব্যবসায়ীদের মারধর করে বিপুল পরিমাণ মাছ, শুঁটকি, মাছ ভর্তি ড্রাম এবং মাছ বিক্রির সরঞ্জামসহ প্রায় কোটি টাকার মালামাল লোপাটের অভিযোগ ওঠে। এখবর ছড়িয়ে পড়লে শহরের মৎস্যজীবী অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামের লোকজন সংঘাতে লিপ্ত হয়। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, পৌর মেয়র আলহাজ ছাবির আহমদ চৌধুরীসহ উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে ঘটনা শালিসে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত চরগাঁও, তিমিরপুর গ্রামের লোকজন বৈঠক করেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মৎস্যজীবী অধ্যুষিত রাজাবাদ, রাজনগর, কানাইপুর, নোয়াপাড়া ও আনমনু গ্রামের নেতৃস্থানীয় লোকজন বৈঠকে মিলিত হন। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. আলমগীর চৌধুরী, হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আহমদ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাউল গনি ওসমানী, জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাড. সুলতান মাহমুদ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাশ রানাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের তরফ থেকে উত্তেজনা নিরসনে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। বিদ্যমান দু’পক্ষের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মাছ বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ও শুঁটকি ব্যবসায়ীরা হলেন, জাহির আলীর প্রায় দেড় লাখ টাকার মাছ ও সরঞ্জাম, কাছুম আলী, মন্টু মিয়া, আলা উদ্দিন, ছুবান মিয়া, ছেমেদ মিয়া, আয়াত আলী, সাফিক মিয়া,কদ্দুছ মিয়া,মছই মিয়া,বাবুল মিয়া, ইউন্নুছ আলী, আবুল কাশেম, তোয়াব উল্লা, আলাল মিয়া, বাদল মিয়া, সাজান মিয়া, ওয়াহিদ মিয়া, রেনু মিয়া, ছালামত মিয়া, ফরহাদ মিয়া, সাহেদ আলী, শুঁটকি ব্যবসায়ী মাসুক মিয়া, আব্দুস ছুবান, রাজু মিয়াসহ বিপুল পরিমাণ মাছ এবং শুঁটকর দোকান ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতিসাধণ হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সিএনজির ঘটনাকে কেন্দ্র নিরীহ মাছ বাজারে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, গত ক’দিন পুর্বে কাগাপাশা ও গুজাখাইর সিএনজি স্ট্যান্ডের শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এনিয়ে শহরের চরগাঁও থমাল তলা সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি নিয়ে কাগাপাশা যেতে বাঁধা দেয় কাগাপাশার শ্রমিকরা।

গুজাখাইড় গ্রামের শ্রমিকরা চরগাঁও স্ট্যান্ডের আওতাভুক্ত। থানা পয়েন্টের আওতাভুক্ত কাগাপাশার শ্রমিক। থানা পয়েন্টের সিএনজি চালককে গত সোমবার মারপিট করে গুজাখাইড় গ্রামের বেতাপুর সংলগ্ন স্থানে গুজাখাইড় শ্রমিকরা। এরই জের হিসেবে থানা পয়েন্টের সিএনজি শ্রমিকরা বুধবারে চরগাঁও স্ট্যান্ডের সিএনজি চালকেদের ব্যারিকেড দেয় কানাইপুর শান্তিনগর এলাকায়। এসময় দু’পক্ষের শ্রমিকদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ লিপ্ত হয়।

চরগাঁও পয়েন্টের শ্রমিকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বানিয়াচং সড়কের অবস্থান নেয়। পরে থানা পয়েন্টের শ্রমিকদের ধাওয়ায় পিছু হটে। একপর্যায়ে গুজব ছড়ালে সংঘর্ষের তীব্রতায় শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। সার্বিক বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে উপজেলার সুশীল সমাজকে নিয়ে সমঝোতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উপজেলার দীর্ঘদিনের সম্প্রতি বজায় রাখা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর