মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৬:০২ অপরাহ্ন

নবীগঞ্জের পিন্টুর জীবনযুদ্ধ:আখের রস বিক্রি করে চলে লেখাপড়া ও সংসার

নবীগঞ্জের পিন্টুর জীবনযুদ্ধ:আখের রস বিক্রি করে চলে লেখাপড়া ও সংসার

ছনি চৌধুরী, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি::জীবনযুদ্ধে হার না মানা একজন কিশোরের নাম পিন্টু দাশ।সে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ পৌর এলাকার জয়নগর গ্রামের দেবেশ দাশের পুত্র । ১৭ বৎসর বয়সে চরম অভাবের যন্ত্রনা-ক্ষুধা দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে জীবন সংগ্রামে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে। জন্মের পর থেকেই জীবন যন্ত্রনাকে সঙ্গী করে খেয়ে না খেয়ে বেড়ে উঠেছে সদা-হাস্যজ্জ্বল সবার প্রিয় পিন্টু।

পিন্টুর বাবা দেবেশ দাশ বিগত ১৫ বছর ধরে নবীগঞ্জ শহরে টেলা গাড়ী চালান। জীবন সংগ্রামে এগিয়ে চলা কিশোর পিন্টু নবীগঞ্জ শহরে আখের রস বিক্রি করে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে শত দারিদ্রতার মাঝেও চালিয়ে যাচ্ছে লেখাপড়া ও সংসারের ব্যয়ভার। নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের দ্বাদশ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী পিন্টু দারিদ্রতাকে জয় করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে চায়।

নবীগঞ্জ সরকারি জে কে মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে দশম শ্রেণিতে উঠার পরই পিন্টু অত্র বিদ্যালয় থেকে মেধা পুরষ্কার ভূষিত হয়। আখের রস বিক্রি করে পরিবারের জীবিকা ও লেখাপড়া করে নবীগঞ্জবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পিন্টু।

শুক্রবার পিন্টুর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে দেখা যায় টিনের ঘরের এক কোনে বসে কাজ করছেন পিন্টুর মা-বোন । পিন্টুর খোঁজ নিতে আসার খবরে কাদঁতে কাদঁতে পিন্টুর মা বলেন, পিন্টুর বাবা ঠেলা গাড়ি চালান সে বাজারে আখের রস বিক্রি করে তার লেখাপড়া ও আমাদের পরিবারের ভরন-পোষণ করছে। মরার আগে যেন দেখে যেতে পারি পিন্টু একজন উচ্চপদস্থ অফিসার হয়ে দেশ ও সমাজের উপকার করছে।আমি সব সময় এই কামনা করি।

পিন্টুর সাথে আলাপকালে চোখে টলমল পানি নিয়ে কুশল বিনিময় করে সে জানায় আমার মা-বাবা একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারেনা। সেই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে আমি লেখাপড়া করছি। আমার বাবা টেলা চালিয়ে আমাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। আমি কিছুটা বড় হওয়ার পর যখন দেখেছি বাবা ঠেলাগাড়ি চালান। তখন আমি বাবাকে সহযোগীতা করতে শহরে আখের রস বিক্রি করছি।

আমার বাবা মায়ের কাছে আমি কৃতজ্ঞ ইশ্বরের কৃপায় তারা আমাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। প্রায়ই পত্রিকার খবরে পড়ি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়ান। তাদের লেখাপড়ার খরচের ভার বহন করেন। যদি আমার লেখাপড়ার দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেন। তাহলে বাবা মায়ের মৃত্যুর পূর্বে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শেষ চেষ্টা করে যাবো।

নিউজটি শেয়ার করুন






© All rights reserved © 2019 sylhetprotidin24