আজঃ ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ - ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ - ভোর ৫:২২

নগরীতে ভুল চিকিৎসায় দুই প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

Published: এপ্রি ১৩, ২০১৮ - ২:০১ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটেন গরীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আধাঘণ্টার ব্যবধানে দুই প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৭টা ও সাড়ে ৭টায় এ ঘটনা ঘটে।

সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের কল্লগ্রামের শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী আসমা বেগম (২৪) ও জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের চুনাহাটি গ্রামের রুবেল আহমদের স্ত্রী ফয়জুন্নাহার (২২) মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

নিহত আসমা বেগমের ভাই কাইয়ুম আল রনি অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসায় তার বোন মারা গেছেন।

তিনি বলেন, বোনের প্রসব বেদনা ওঠার আগেই রাতে ডা. মিনতি সিনহা অস্ত্রোপচার করেন। সিজারে একটি কন্যা সন্তান হয়। এরপরই একজন নবীন চিকিৎসকের হাওলায় আমার বোনকে রেখে যান ওই চিকিৎসক। সকালে রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর তার বোন মারা যায়।

অপর নিহত ফয়জুন নাহারের স্বামী রুবেল আহমদ বলেন, রাতে ডা. মিনতি সিনহা আমার স্ত্রীর অস্ত্রোপচার করেন। তার একটি পুত্র সন্তান হয়। সকাল ৭টার দিকে তার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আশরাফ এসে ইনজেকশন পুশ করার পর রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সে মারা যান।

তিনি আরো বলেন, রোগী মারা যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আইসিইউ সাপোর্টে নেওয়ার কথা বলেন। এরপর নগরীর রাগিব রাবেয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেন, রোগী অনেক আগেই মারা গেছেন।

রোগী মারা যাওয়ার পর বিল না রেখেই রোগী বিদায় করে দেওয়ার চেষ্টা করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, এমন অভিযোগও করেন তিনি।

রোগীদের স্বজনরা বলেন, দুই রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ার পর চিকিৎসকদের খোঁজ মেলেনি। তারা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান।

অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. মিনতি সিনহা বলেন, দুই রোগীকে রাতে অপারেশন করে রেখে যান। রোগীর অবস্থার অবনতি হলেও কেউ তাকে জানায়নি। তার মতে, রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার পর হয়তো কোনো ভুল ইনজেকশন পুশ করা হতে পারে। চিকিৎসার গাফিলতি থাকলে ময়না তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. মিনতি বলেন, এ মাসেই তিনি এ পর্যন্ত ১০টি অস্ত্রোপচার করেছেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর মোট কয়জন রোগী মারা গেছেন, সে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গউছুল হোসেন বলেন, খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডা. মিনতি সিনহা ১৯৯৬ সালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ও ২০১০ সালে ডিজিও ডিগ্রিলাভ করেন। বর্তমানে তিনি নগরের পার্কভিউ হাসপাতালসহ দু’টি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

Facebook Comments

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটেন গরীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আধাঘণ্টার ব্যবধানে দুই প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৭টা ও সাড়ে ৭টায় এ ঘটনা ঘটে।

সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের কল্লগ্রামের শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী আসমা বেগম (২৪) ও জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের চুনাহাটি গ্রামের রুবেল আহমদের স্ত্রী ফয়জুন্নাহার (২২) মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

নিহত আসমা বেগমের ভাই কাইয়ুম আল রনি অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসায় তার বোন মারা গেছেন।

তিনি বলেন, বোনের প্রসব বেদনা ওঠার আগেই রাতে ডা. মিনতি সিনহা অস্ত্রোপচার করেন। সিজারে একটি কন্যা সন্তান হয়। এরপরই একজন নবীন চিকিৎসকের হাওলায় আমার বোনকে রেখে যান ওই চিকিৎসক। সকালে রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর তার বোন মারা যায়।

অপর নিহত ফয়জুন নাহারের স্বামী রুবেল আহমদ বলেন, রাতে ডা. মিনতি সিনহা আমার স্ত্রীর অস্ত্রোপচার করেন। তার একটি পুত্র সন্তান হয়। সকাল ৭টার দিকে তার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আশরাফ এসে ইনজেকশন পুশ করার পর রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সে মারা যান।

তিনি আরো বলেন, রোগী মারা যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আইসিইউ সাপোর্টে নেওয়ার কথা বলেন। এরপর নগরীর রাগিব রাবেয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেন, রোগী অনেক আগেই মারা গেছেন।

রোগী মারা যাওয়ার পর বিল না রেখেই রোগী বিদায় করে দেওয়ার চেষ্টা করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, এমন অভিযোগও করেন তিনি।

রোগীদের স্বজনরা বলেন, দুই রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ার পর চিকিৎসকদের খোঁজ মেলেনি। তারা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান।

অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. মিনতি সিনহা বলেন, দুই রোগীকে রাতে অপারেশন করে রেখে যান। রোগীর অবস্থার অবনতি হলেও কেউ তাকে জানায়নি। তার মতে, রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার পর হয়তো কোনো ভুল ইনজেকশন পুশ করা হতে পারে। চিকিৎসার গাফিলতি থাকলে ময়না তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. মিনতি বলেন, এ মাসেই তিনি এ পর্যন্ত ১০টি অস্ত্রোপচার করেছেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর মোট কয়জন রোগী মারা গেছেন, সে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গউছুল হোসেন বলেন, খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডা. মিনতি সিনহা ১৯৯৬ সালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ও ২০১০ সালে ডিজিও ডিগ্রিলাভ করেন। বর্তমানে তিনি নগরের পার্কভিউ হাসপাতালসহ দু’টি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর