আজঃ ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ - ২৬শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং - রাত ২:১৯

‘দেশের জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত’-মাশরাফি

Published: Apr 18, 2017 - 2:48 pm

মাশরাফির ফেসবুক থেকে নেওয়া ছবি

জহির খান,ক্রীড়া প্রতিবেদক: ভিন্ন ধাতুতে গড়া মাশরাফির নেতৃত্বগুণ, দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে ম্যাশের মতো আর কোনো ক্রিকেটার নিজের ইনজুরিকে তোয়াক্কা না করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

দুই পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার। পা বাঁচাতে যখন মাশরাফিকে না খেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘পায়ে গুলি খেয়ে যদি মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করতে পারে, তাহলে আমি কেন সামান্য সার্জারি নিয়ে মাঠে খেলতে পারবো না?’

দৃঢ়চেতা মনোভাব, ব্যক্তিত্ব আর সহজাত ক্রিকেটীয় মেধার সঙ্গে দারুণ নেতৃত্বগুণ অন্য আরো ১০ জন ক্রিকেটার থেকে আলাদা করে চিনিয়েছে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। তিনিই দেখিয়েছেন কেবল তীব্র ইচ্ছাশক্তি আর দেশের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা থাকলে- অনেক কিছুই সম্ভব। ম্যাচ জিতিয়ে গোটা দেশ যখন আনন্দে মাতে, মাশরাফি তখন হাঁটুর ব্যথায় কাতরান ড্রেসিংরুমে। ক্রিকেটে তার মতো ইনজুরি জয় করা খেলোয়াড় আর একজন আছেন বলে ইতিহাস সাক্ষী দেয় না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তিনি তাই ধ্রুবতারা!

টাইগারদের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি নিজের পরিবার নিয়ে বৈশাখের ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন খাগড়াছড়িতে। সেখান থেকে ফিরে মাঠে নেমেছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) আসরে। টানা দুই ম্যাচ জিতেছে তাদের দল। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) মাশরাফি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বিশাল স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে লিখেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুতোভয় সৈনিকদের কথা, তাদের বীরত্ব গাঁথা, তাদের আত্মত্যাগ, তাদের দেশাত্মবোধের কথা।

মাশরাফির লেখাটি তুলে ধরা হলো:

‘প্রথমে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সবাইকে যারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সেবা করে যাচ্ছেন। আমার এবারের খাগড়াছড়ি সেনানিবাস ভ্রমণ থেকে আমি বুঝতে পেরেছি একজন সৈনিক তাঁর মাতৃভূমির জন্য কি পরিমাণ আত্মত্যাগ করেন। আপনারা হলেন সেই সব মানুষ যারা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে, কিন্তু আপনাদের বীরত্ব গাঁথা হয়ত কখনো কোন জাতীয় দৈনিক বা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। আমার সাথে এমন একজন সৈনিক এর দেখা হয়েছে যিনি খুব শিগগিরই বাবা হবেন। অথচ দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি আজ তাঁর পরিবার থেকে বহুদূরের এই সেনা ক্যাম্প এ অবস্থান করছেন। আমি স্বীকার করি অনেকের কাছেই সেপাই পলাশ এর দেশের প্রতি অঙ্গীকার একটি সামান্য পরিসংখ্যান ছাড়া আর কিছুই নয়।’

‘নিজের কাজ দিয়ে জাতীয় সঙ্গীতকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা কিংবা গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন দেয়াকেই আমরা হয়ত দেশাত্মবোধের পরিচায়ক হিসেবে মনে করি। কিন্তু মনে রাখবেন, এর কোনকিছুই আপনাদের আত্মত্যাগের সমতূল্য নয়। আজ বাংলাদেশ আর্মির এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রত্যেক সদস্য দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছেন। আমার এই ভেবে খুব কষ্ট হয় যে আপনারা এবং আপনাদের আপনজনেরা অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করেন যেন আমরা নিরাপদে ঘুম থেকে উঠতে পারি। যেদিন আমাদের দেশের সকল নাগরিক একই ভাবে দেশের জন্য আত্মনিয়োগ করতে প্রস্তুত হবে সেদিন আমরা পাবো সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।’

মাশরাফি আরও লিখেছেন, মনে রাখবেন, “সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে”। সর্বশেষ এই বলতে চাই, “যদি কখনো বাংলাদেশ আর্মির সাথে একদিনও কাজ করার সু্যোগ পাই, আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।” এত সময় ধরে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ। 

-আপনাদের মাশরাফি (একজন ব্যক্তি যে শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলে)

Facebook Comments

আরো খবর

ডাচ-বাংলা ব্যাংক অফিসারদের মধ্যে প্রীতি ক্রিকেট ম্... প্রতিদিন ডেস্ক::ডাচ বাংলা ব্যাংক সিলেট শাখার এসিস্ট্যান্ট রিলে...
খেলাধুলা যুব সমাজের শারীরিক গঠনে সহায়ক ভুমিকা পালন... জগন্নাথপুর প্রতিনিধি :: ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্ধো...
‘রোনাল্ডোর সঙ্গে লেভানডফস্কির তুলনা যায় না’... ক্রীড়া ডেস্ক:: রিয়াল মাদ্রিদের প্রাণভোমরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ড...
বাদ পড়া তাসকিন-সৌম্যদের পাশে মাশরাফি... ক্রীড়া ডেস্ক:: বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ছেন ছয় ক্র...
অল্পের জন্যে হ্যাট্রিক করতে পারলেন না তুষার ইমরান... ক্রীড়া ডেস্ক:: খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুর...

জহির খান,ক্রীড়া প্রতিবেদক: ভিন্ন ধাতুতে গড়া মাশরাফির নেতৃত্বগুণ, দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে ম্যাশের মতো আর কোনো ক্রিকেটার নিজের ইনজুরিকে তোয়াক্কা না করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

দুই পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার। পা বাঁচাতে যখন মাশরাফিকে না খেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘পায়ে গুলি খেয়ে যদি মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করতে পারে, তাহলে আমি কেন সামান্য সার্জারি নিয়ে মাঠে খেলতে পারবো না?’

দৃঢ়চেতা মনোভাব, ব্যক্তিত্ব আর সহজাত ক্রিকেটীয় মেধার সঙ্গে দারুণ নেতৃত্বগুণ অন্য আরো ১০ জন ক্রিকেটার থেকে আলাদা করে চিনিয়েছে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। তিনিই দেখিয়েছেন কেবল তীব্র ইচ্ছাশক্তি আর দেশের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা থাকলে- অনেক কিছুই সম্ভব। ম্যাচ জিতিয়ে গোটা দেশ যখন আনন্দে মাতে, মাশরাফি তখন হাঁটুর ব্যথায় কাতরান ড্রেসিংরুমে। ক্রিকেটে তার মতো ইনজুরি জয় করা খেলোয়াড় আর একজন আছেন বলে ইতিহাস সাক্ষী দেয় না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তিনি তাই ধ্রুবতারা!

টাইগারদের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি নিজের পরিবার নিয়ে বৈশাখের ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন খাগড়াছড়িতে। সেখান থেকে ফিরে মাঠে নেমেছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) আসরে। টানা দুই ম্যাচ জিতেছে তাদের দল। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) মাশরাফি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বিশাল স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে লিখেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুতোভয় সৈনিকদের কথা, তাদের বীরত্ব গাঁথা, তাদের আত্মত্যাগ, তাদের দেশাত্মবোধের কথা।

মাশরাফির লেখাটি তুলে ধরা হলো:

‘প্রথমে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সবাইকে যারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সেবা করে যাচ্ছেন। আমার এবারের খাগড়াছড়ি সেনানিবাস ভ্রমণ থেকে আমি বুঝতে পেরেছি একজন সৈনিক তাঁর মাতৃভূমির জন্য কি পরিমাণ আত্মত্যাগ করেন। আপনারা হলেন সেই সব মানুষ যারা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে, কিন্তু আপনাদের বীরত্ব গাঁথা হয়ত কখনো কোন জাতীয় দৈনিক বা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। আমার সাথে এমন একজন সৈনিক এর দেখা হয়েছে যিনি খুব শিগগিরই বাবা হবেন। অথচ দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি আজ তাঁর পরিবার থেকে বহুদূরের এই সেনা ক্যাম্প এ অবস্থান করছেন। আমি স্বীকার করি অনেকের কাছেই সেপাই পলাশ এর দেশের প্রতি অঙ্গীকার একটি সামান্য পরিসংখ্যান ছাড়া আর কিছুই নয়।’

‘নিজের কাজ দিয়ে জাতীয় সঙ্গীতকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা কিংবা গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন দেয়াকেই আমরা হয়ত দেশাত্মবোধের পরিচায়ক হিসেবে মনে করি। কিন্তু মনে রাখবেন, এর কোনকিছুই আপনাদের আত্মত্যাগের সমতূল্য নয়। আজ বাংলাদেশ আর্মির এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রত্যেক সদস্য দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছেন। আমার এই ভেবে খুব কষ্ট হয় যে আপনারা এবং আপনাদের আপনজনেরা অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করেন যেন আমরা নিরাপদে ঘুম থেকে উঠতে পারি। যেদিন আমাদের দেশের সকল নাগরিক একই ভাবে দেশের জন্য আত্মনিয়োগ করতে প্রস্তুত হবে সেদিন আমরা পাবো সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।’

মাশরাফি আরও লিখেছেন, মনে রাখবেন, “সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে”। সর্বশেষ এই বলতে চাই, “যদি কখনো বাংলাদেশ আর্মির সাথে একদিনও কাজ করার সু্যোগ পাই, আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।” এত সময় ধরে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ। 

-আপনাদের মাশরাফি (একজন ব্যক্তি যে শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলে)

Facebook Comments

আরো খবর

ডাচ-বাংলা ব্যাংক অফিসারদের মধ্যে প্রীতি ক্রিকেট ম্... প্রতিদিন ডেস্ক::ডাচ বাংলা ব্যাংক সিলেট শাখার এসিস্ট্যান্ট রিলে...
খেলাধুলা যুব সমাজের শারীরিক গঠনে সহায়ক ভুমিকা পালন... জগন্নাথপুর প্রতিনিধি :: ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্ধো...
‘রোনাল্ডোর সঙ্গে লেভানডফস্কির তুলনা যায় না’... ক্রীড়া ডেস্ক:: রিয়াল মাদ্রিদের প্রাণভোমরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ড...
বাদ পড়া তাসকিন-সৌম্যদের পাশে মাশরাফি... ক্রীড়া ডেস্ক:: বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ছেন ছয় ক্র...
অল্পের জন্যে হ্যাট্রিক করতে পারলেন না তুষার ইমরান... ক্রীড়া ডেস্ক:: খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুর...
error: কপি করবেন না, ধন্যবাদ