আজঃ ২৬শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ - ১০ই ডিসেম্বর ২০১৮ - রাত ২:৪৭

থমথমে তমব্রু সীমান্ত, বিকেলে পতাকা বৈঠক

Published: মার্চ ০২, ২০১৮ - ২:৪২ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের হঠাৎ ভারী অস্ত্র ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘটনায় সীমান্তে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) শুক্রবার বিকেলে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সঙ্গে এক পতাকা বৈঠকের আয়োজন করেছে।

বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। সার্বিক বিষয়ে আলোচনার জন্য বিজিপির সঙ্গে বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ সীমান্তের ঘুমধুম পয়েন্টে পতাকা বৈঠক হবে।

সীমান্তে মিয়ানমারের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতি গভীরভাবে নজর রাখছে বাংলাদেশ। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি শক্ত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কক্সাবজারের টেকনাফ সীমান্তেও যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবেলায় শক্ত ও সর্তকভাবে অবস্থান রয়েছে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকের তমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তের জিরো লাইনের কাছাকাছি গিয়ে দেখেন, সীমান্তের ওপারে পাহাড়ে বাংকার খুঁড়ে মিয়ানমারের সেনারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে।

ওই পয়েন্টে দেড় শতাধিক সেনা মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন বিজিবির এক সদস্য। সীমান্তের ওই স্থানে জিরো লাইনে অবস্থান করছে প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গা। তারা গত আগস্ট থেকে সেখানে রয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি খায়রুল বশর বলেন, ‘বুধবার থেকে হঠাৎ করে অতিরিক্ত সেনা সমাবেশ করার খবর আমরা জানতে পেরেছি। সকালে দেখা গেছে, ভারী ও হালকা অস্ত্র নিয়ে তারা সীমান্তে রণসজ্জায় আছে।’

শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গারা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে সাতটি ট্রাকে করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা তমব্রু সীমান্তের ওপারে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তের বেড়া বরাবর তারা বাংকার খনন করেছে।

মিয়ানমারের সেনাদের সঙ্গে তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ সদস্যরাও অবস্থান করছে।

শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ জানান, সকাল থেকে মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা মর্টার, কামানসহ ভারী অস্ত্র নিয়ে এসেছে। তারা জিরো লাইনে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। সকাল থেকে মাইকিং করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

শূন্যরেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গা নেতা আকতার কামাল জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি সদস্যরা তাদের অংশে মহড়া দেয়। এরপর বিজিবিও বাংলাদেশের অংশে মহড়া দিলে তারা কিছুটা পিছু হটে।

পরে বিকেলে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এরই মধ্যে রাত ৮টার দিকে জিরো লাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ করলে সীমান্তের মিয়ানমারের অংশ থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, হঠাৎ মিয়ানমার মর্টার শেল ছুড়ে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি ঘোলাটে করার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে বিশ্ববাসীর নজর ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করতে পারে। এর আগেও বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে মিয়ানমার সেনারা। বাংলাদেশ সরকার এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের হঠাৎ ভারী অস্ত্র ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘটনায় সীমান্তে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) শুক্রবার বিকেলে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সঙ্গে এক পতাকা বৈঠকের আয়োজন করেছে।

বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। সার্বিক বিষয়ে আলোচনার জন্য বিজিপির সঙ্গে বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ সীমান্তের ঘুমধুম পয়েন্টে পতাকা বৈঠক হবে।

সীমান্তে মিয়ানমারের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতি গভীরভাবে নজর রাখছে বাংলাদেশ। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি শক্ত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কক্সাবজারের টেকনাফ সীমান্তেও যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবেলায় শক্ত ও সর্তকভাবে অবস্থান রয়েছে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকের তমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তের জিরো লাইনের কাছাকাছি গিয়ে দেখেন, সীমান্তের ওপারে পাহাড়ে বাংকার খুঁড়ে মিয়ানমারের সেনারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে।

ওই পয়েন্টে দেড় শতাধিক সেনা মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন বিজিবির এক সদস্য। সীমান্তের ওই স্থানে জিরো লাইনে অবস্থান করছে প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গা। তারা গত আগস্ট থেকে সেখানে রয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি খায়রুল বশর বলেন, ‘বুধবার থেকে হঠাৎ করে অতিরিক্ত সেনা সমাবেশ করার খবর আমরা জানতে পেরেছি। সকালে দেখা গেছে, ভারী ও হালকা অস্ত্র নিয়ে তারা সীমান্তে রণসজ্জায় আছে।’

শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গারা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে সাতটি ট্রাকে করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা তমব্রু সীমান্তের ওপারে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তের বেড়া বরাবর তারা বাংকার খনন করেছে।

মিয়ানমারের সেনাদের সঙ্গে তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ সদস্যরাও অবস্থান করছে।

শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ জানান, সকাল থেকে মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা মর্টার, কামানসহ ভারী অস্ত্র নিয়ে এসেছে। তারা জিরো লাইনে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। সকাল থেকে মাইকিং করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

শূন্যরেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গা নেতা আকতার কামাল জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি সদস্যরা তাদের অংশে মহড়া দেয়। এরপর বিজিবিও বাংলাদেশের অংশে মহড়া দিলে তারা কিছুটা পিছু হটে।

পরে বিকেলে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এরই মধ্যে রাত ৮টার দিকে জিরো লাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ করলে সীমান্তের মিয়ানমারের অংশ থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, হঠাৎ মিয়ানমার মর্টার শেল ছুড়ে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি ঘোলাটে করার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে বিশ্ববাসীর নজর ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করতে পারে। এর আগেও বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে মিয়ানমার সেনারা। বাংলাদেশ সরকার এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর