আজঃ ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ - ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ - রাত ১১:১৫

তুই একবার আসবি খোকন… শুধু একবার

Published: অক্টো ০২, ২০১৮ - ১:৩০ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: গাজীপুরে মুকুলের বৃদ্ধাশ্রমে থাকা জাহানারার দীর্ঘশ্বাস আর চোখের জলই বলে দিচ্ছে তার বেদনার কথা।

থমকে যেতে হয় এখানে, এই মুকুলের আশ্রমে। তাৎক্ষণিক মনে পড়ে যায় শুভদাশ গুপ্তের কবিতাকে- ‘এখানে এই বৃদ্ধাশ্রমে, আমার একলা ঘরে, আর কেউ নেই! তুই একবার আসবি খোকন! একবার… শুধু একবার!’

মুকুলের বৃদ্ধাশ্রমের বেশিরভাগ প্রবীণের চোখে-মুখে প্রিয়জনকে কাছে না পাওয়ার করুণ আর্তনাদ, একাকিত্বের হাহাকার, জীবনের শেষ দিনগুলোতে স্বজনদের কাছে থাকার নীরব আকুতি। বুকের দহন নিয়ে দিব্যি কষ্ট গোপনের চেষ্টা তাদের।

কারও কারও অভিমান মেশানো স্বর- এখানে ‘দিন কাটে তো রাত কাটে না, রাত কাটে তো ভোর দেখি না।’

গাজীপুর সদরের মণিপুরে মুকুলের এই বৃদ্ধাশ্রমে চার বছর ধরে আছেন জাহানারা বেগম। শরীরজুড়ে স্থায়ী বলিরেখা। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোরবানপুর গ্রামের বিমান বাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার প্রয়াত সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী তিনি।

বেদনা-ছাওয়া বুকের দীর্ঘশ্বাসে পঁচাত্তর বছর বয়সী এই নারী নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলেন, ‘আমি এখানে কেন?’ ছলছল চোখ তার। প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ায় ব্যর্থতায়, না জীবনের জটিল সমীকরণ মেলাতে না পারার যন্ত্রণায়, বোঝা গেল না তা।

তারপর চুপচাপ। একটু ক্ষণ। তারপর প্রগলভতা পেয়ে বসে তাকে, ‘জানো, চারটা ছেলে আমার, চারটা মেয়েও। আমির বড় অফিসার এক ছেলে, তার পরেরটা বাংলাদেশ বেতারের প্রযোজক, ছোট ছেলে বিজি প্রেসের অফিসার। স্বামীর মৃত্যুর পর ছোট ছেলে আমার কাছে থাকা পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে নেয় কৌশলে।

অন্যরা দেখভার করে না। নানারকম অত্যাচার করতে শুরু করে এক সময়। অভিমান আর ক্ষোভে একদিন চলে আসি এখানে। বড় ছেলে দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে এসে জানতে পারে আমি বৃদ্ধাশ্রমে, সঙ্গে সঙ্গে হার্টস্ট্রোক করে মারা যায় সে। ছেলের লাশ দেখতে যাওয়ার পর চরম অপমান করে তার ছেলেরা। পরে আবার ফিরে আসি এখানে। ছোট ছেলেটা অবশ্য একবার নিতে এসেছিল আমাকে, যাইনি।’ থামলেন জাহানারা। ঠিক তখনই বোঝা গেল- ওটা প্রগলভতা নয়, বুকে জমে থাকা অব্যক্ত বেদনা।

শিক্ষকতা করতেন শফিকুর রহমান। চার কুড়ি বয়স। বিয়ে করেননি। চাঁদপুরের শাহজাহানপুর গ্রামে ভালোই ছিলেন ভাই-ভাতিজাদের নিয়ে। বছরখানেক আগে গাড়িতে তুলে ভাতিজারা রেখে যায় এই বৃদ্ধাশ্রমে। ঘোলাটে চোখের জমিন মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘ভাতিজা সেলিমের কথা খুব মনে পড়ে। স্বজনদের দেখতে মনটা আকুলি বিকুলি করে সব সময়।’

‘এখানে কেমন আছেন আপনি?’

মৌনতায় কেটে যায় কিছুক্ষণ। তারপর চিরচেনা শিক্ষকের স্বর তার, ‘বৃদ্ধাশ্রমে থাকার চেয়ে একজন মানুষের ভিক্ষা করে খাওয়া অনেক ভালো।’

চাঁদপুরের বিষনদী গ্রামের ইয়াকুব আলী খান যোগাযোগ কর্মকর্তা ছিলেন বাংলাদেশ বিমানের। তিন ছেলে দুই মেয়ে- কারও সংসারেই ঠাঁই হয়নি তার। জীবনের শেষ দিনগুলো তাই এই আশ্রমে। ভালোবাসা আর যত্নে ভালোই আছেন তিনি।

বয়স্ক পুনর্বাসন এই কেন্দ্রে রয়েছেন এরকম আড়াইশ’ নারী-পুরুষ। এক কাপড়ে কোনো প্রবীণ যদি এই আশ্রমে এসে পৌঁছতে পারেন, বাকি কাজ কর্তৃপক্ষের।

প্রভাতী প্রার্থনার মধ্য দিয়ে প্রবীণদের দিন শুরু হয় এখানে। এরপর হাঁটতে বের হন তারা। সকাল ৮টার মধ্যে নাশতা শেষ। এরপর কেউ লুডুতে ব্যস্ত, কেউ দাবায়। দুপুর হয়ে যায় একসময়। গোসল সেরে ফের প্রার্থনা। খাবার পর গল্প-গুজব। সন্ধ্যায় মাগরিব, টিভিতে চোখ। এশার নামাজ শেষে রাতের খাবার।

সব হারানো বাবা-মায়ের সন্তান হয়ে এই প্রবীণদের বুকে আগলে রেখেছেন খতিব আবদুল জাহিদ মুকুল। প্রায় ১শ’ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘মুকুলের বৃদ্ধাশ্রম’। ভেতরে নানা জাতের অসংখ্য গাছ। ফুল ফলের বাগান, রয়েছে পুকুর। আঙিনাজুড়ে বসার বেঞ্চ। ইট বিছানো রাস্তা, অন্ধকার দূর করতে লাইট। পাখির কলকাকলিতে প্রবীণদের ঘুম ভাঙে ভোর বেলা। এ যেন এক অন্য ভুবন, ভিন্ন গ্রহ। পুকুরের সামনে মসজিদ, অজুখানা, প্রায় ১২ বিঘা জমিতে কবরস্থান। আশ্রমের তত্ত্বাবধায়ক আবু শরীফ বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৫৩৭ জন প্রবীণের মৃত্যু হয়েছে আশ্রমে। বেশিরভাগকেই দাফন করা হয়েছে এখানেই। মৃত্যুর পর স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। তারা ইচ্ছে করলে লাশ নিয়ে যেতে পারেন। তবে বেশির ভাগ স্বজনই লাশ নিতে আসেন না।’

ছেলেবেলায় মুকুল একদিন দেখলেন- বাচ্চা কোলে নিয়ে এক বৃদ্ধা কাঁদছেন। কাছে গিয়ে কান্নার কারণ জানতে চান তিনি। বৃদ্ধা জানালেন, সন্তানরা বাড়িতে রাখতে চান না তাকে। এ কারণে এই নাতিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন। নাতিরা যেমন তাকে ছাড়তে চায় না, তিনিও তেমনি নাতিদের ছেড়ে কোথায় থাকবেন, ভেবে পান না। বৃদ্ধার এই অসহায়ত্বের কথা শুনে মুকুল আপ্লুত হয়ে পড়েন। মনে প্রগাঢ় স্বপ্ন বোনেন, দৃঢ় প্রতিজ্ঞাও গেঁথে ফেলেন মননে- বড় হয়ে এসব অসহায় প্রবীণের জন্য কিছু একটা করবেন তিনি, সন্তান থাকার পরও যাদের না থাকার অবস্থা, তাদের সন্তান হয়ে আশ্রয় দেবেন তিনি।

পাবনার শ্রীপুর গ্রামের খতিব আবদুল হামিদের ছেলে খতিব আবদুল জাহিদ মুকুল বলেন, ‘সেই লালিত স্বপ্নের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাই ১৯৮৭ সালে। উত্তরার আজমপুরে ১২টি কক্ষ ভাড়া নিয়ে শুরু করি প্রথমে। পরে গাজীপুরের এই মণিপুর কুড়িবাড়ি এলাকায় ১শ’ বিঘা জমি কিনে গড়ে তুলি বৃদ্ধাশ্রম। ১৯৯৫ সালের ২১ এপ্রিল শান্তিতে নোবেল পাওয়া মাদার তেরেসা উদ্বোধন করেন এটি।’

১৯৫৬ সালে বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন মুকুল; কিন্তু বেড়ে ওঠেন পাবনায়। এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ঢাকা এসে সিদ্ধেশ্বরী কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে পাড়ি জামান প্রবাসে। পাঁচ বছর আবুধাবি কাটিয়ে দেশে ফিরে শুরু করেন তৈরি পোশাকের ব্যবসা। গড়ে তোলেন গিভেন্সি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি শিল্প গ্রুপ। মুকুল বলেন, ‘গভীর রাতে প্রায়ই শহর ঘুরতে বের হই। রাস্তায় একা কোনো প্রবীণকে ঘুমাতে দেখলে নিজের গাড়িতে করে নিয়ে আসি আশ্রমে। পতিতালয়ের বৃদ্ধা, চা বাগানের প্রবীণ, শ্রমজীবী প্রবীণদেরও নিয়ে আসি। আশ্রমের সব বাসিন্দাই বাবা বলে ডাকেন আমাকে।’ তৃপ্তিছোঁয়া মুখ মুকলের, পুণ্যতার পূর্ণতায় চোখও, ‘এটা আমার পরম পাওয়া।’

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: গাজীপুরে মুকুলের বৃদ্ধাশ্রমে থাকা জাহানারার দীর্ঘশ্বাস আর চোখের জলই বলে দিচ্ছে তার বেদনার কথা।

থমকে যেতে হয় এখানে, এই মুকুলের আশ্রমে। তাৎক্ষণিক মনে পড়ে যায় শুভদাশ গুপ্তের কবিতাকে- ‘এখানে এই বৃদ্ধাশ্রমে, আমার একলা ঘরে, আর কেউ নেই! তুই একবার আসবি খোকন! একবার… শুধু একবার!’

মুকুলের বৃদ্ধাশ্রমের বেশিরভাগ প্রবীণের চোখে-মুখে প্রিয়জনকে কাছে না পাওয়ার করুণ আর্তনাদ, একাকিত্বের হাহাকার, জীবনের শেষ দিনগুলোতে স্বজনদের কাছে থাকার নীরব আকুতি। বুকের দহন নিয়ে দিব্যি কষ্ট গোপনের চেষ্টা তাদের।

কারও কারও অভিমান মেশানো স্বর- এখানে ‘দিন কাটে তো রাত কাটে না, রাত কাটে তো ভোর দেখি না।’

গাজীপুর সদরের মণিপুরে মুকুলের এই বৃদ্ধাশ্রমে চার বছর ধরে আছেন জাহানারা বেগম। শরীরজুড়ে স্থায়ী বলিরেখা। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোরবানপুর গ্রামের বিমান বাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার প্রয়াত সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী তিনি।

বেদনা-ছাওয়া বুকের দীর্ঘশ্বাসে পঁচাত্তর বছর বয়সী এই নারী নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলেন, ‘আমি এখানে কেন?’ ছলছল চোখ তার। প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ায় ব্যর্থতায়, না জীবনের জটিল সমীকরণ মেলাতে না পারার যন্ত্রণায়, বোঝা গেল না তা।

তারপর চুপচাপ। একটু ক্ষণ। তারপর প্রগলভতা পেয়ে বসে তাকে, ‘জানো, চারটা ছেলে আমার, চারটা মেয়েও। আমির বড় অফিসার এক ছেলে, তার পরেরটা বাংলাদেশ বেতারের প্রযোজক, ছোট ছেলে বিজি প্রেসের অফিসার। স্বামীর মৃত্যুর পর ছোট ছেলে আমার কাছে থাকা পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে নেয় কৌশলে।

অন্যরা দেখভার করে না। নানারকম অত্যাচার করতে শুরু করে এক সময়। অভিমান আর ক্ষোভে একদিন চলে আসি এখানে। বড় ছেলে দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে এসে জানতে পারে আমি বৃদ্ধাশ্রমে, সঙ্গে সঙ্গে হার্টস্ট্রোক করে মারা যায় সে। ছেলের লাশ দেখতে যাওয়ার পর চরম অপমান করে তার ছেলেরা। পরে আবার ফিরে আসি এখানে। ছোট ছেলেটা অবশ্য একবার নিতে এসেছিল আমাকে, যাইনি।’ থামলেন জাহানারা। ঠিক তখনই বোঝা গেল- ওটা প্রগলভতা নয়, বুকে জমে থাকা অব্যক্ত বেদনা।

শিক্ষকতা করতেন শফিকুর রহমান। চার কুড়ি বয়স। বিয়ে করেননি। চাঁদপুরের শাহজাহানপুর গ্রামে ভালোই ছিলেন ভাই-ভাতিজাদের নিয়ে। বছরখানেক আগে গাড়িতে তুলে ভাতিজারা রেখে যায় এই বৃদ্ধাশ্রমে। ঘোলাটে চোখের জমিন মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘ভাতিজা সেলিমের কথা খুব মনে পড়ে। স্বজনদের দেখতে মনটা আকুলি বিকুলি করে সব সময়।’

‘এখানে কেমন আছেন আপনি?’

মৌনতায় কেটে যায় কিছুক্ষণ। তারপর চিরচেনা শিক্ষকের স্বর তার, ‘বৃদ্ধাশ্রমে থাকার চেয়ে একজন মানুষের ভিক্ষা করে খাওয়া অনেক ভালো।’

চাঁদপুরের বিষনদী গ্রামের ইয়াকুব আলী খান যোগাযোগ কর্মকর্তা ছিলেন বাংলাদেশ বিমানের। তিন ছেলে দুই মেয়ে- কারও সংসারেই ঠাঁই হয়নি তার। জীবনের শেষ দিনগুলো তাই এই আশ্রমে। ভালোবাসা আর যত্নে ভালোই আছেন তিনি।

বয়স্ক পুনর্বাসন এই কেন্দ্রে রয়েছেন এরকম আড়াইশ’ নারী-পুরুষ। এক কাপড়ে কোনো প্রবীণ যদি এই আশ্রমে এসে পৌঁছতে পারেন, বাকি কাজ কর্তৃপক্ষের।

প্রভাতী প্রার্থনার মধ্য দিয়ে প্রবীণদের দিন শুরু হয় এখানে। এরপর হাঁটতে বের হন তারা। সকাল ৮টার মধ্যে নাশতা শেষ। এরপর কেউ লুডুতে ব্যস্ত, কেউ দাবায়। দুপুর হয়ে যায় একসময়। গোসল সেরে ফের প্রার্থনা। খাবার পর গল্প-গুজব। সন্ধ্যায় মাগরিব, টিভিতে চোখ। এশার নামাজ শেষে রাতের খাবার।

সব হারানো বাবা-মায়ের সন্তান হয়ে এই প্রবীণদের বুকে আগলে রেখেছেন খতিব আবদুল জাহিদ মুকুল। প্রায় ১শ’ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘মুকুলের বৃদ্ধাশ্রম’। ভেতরে নানা জাতের অসংখ্য গাছ। ফুল ফলের বাগান, রয়েছে পুকুর। আঙিনাজুড়ে বসার বেঞ্চ। ইট বিছানো রাস্তা, অন্ধকার দূর করতে লাইট। পাখির কলকাকলিতে প্রবীণদের ঘুম ভাঙে ভোর বেলা। এ যেন এক অন্য ভুবন, ভিন্ন গ্রহ। পুকুরের সামনে মসজিদ, অজুখানা, প্রায় ১২ বিঘা জমিতে কবরস্থান। আশ্রমের তত্ত্বাবধায়ক আবু শরীফ বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৫৩৭ জন প্রবীণের মৃত্যু হয়েছে আশ্রমে। বেশিরভাগকেই দাফন করা হয়েছে এখানেই। মৃত্যুর পর স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। তারা ইচ্ছে করলে লাশ নিয়ে যেতে পারেন। তবে বেশির ভাগ স্বজনই লাশ নিতে আসেন না।’

ছেলেবেলায় মুকুল একদিন দেখলেন- বাচ্চা কোলে নিয়ে এক বৃদ্ধা কাঁদছেন। কাছে গিয়ে কান্নার কারণ জানতে চান তিনি। বৃদ্ধা জানালেন, সন্তানরা বাড়িতে রাখতে চান না তাকে। এ কারণে এই নাতিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন। নাতিরা যেমন তাকে ছাড়তে চায় না, তিনিও তেমনি নাতিদের ছেড়ে কোথায় থাকবেন, ভেবে পান না। বৃদ্ধার এই অসহায়ত্বের কথা শুনে মুকুল আপ্লুত হয়ে পড়েন। মনে প্রগাঢ় স্বপ্ন বোনেন, দৃঢ় প্রতিজ্ঞাও গেঁথে ফেলেন মননে- বড় হয়ে এসব অসহায় প্রবীণের জন্য কিছু একটা করবেন তিনি, সন্তান থাকার পরও যাদের না থাকার অবস্থা, তাদের সন্তান হয়ে আশ্রয় দেবেন তিনি।

পাবনার শ্রীপুর গ্রামের খতিব আবদুল হামিদের ছেলে খতিব আবদুল জাহিদ মুকুল বলেন, ‘সেই লালিত স্বপ্নের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাই ১৯৮৭ সালে। উত্তরার আজমপুরে ১২টি কক্ষ ভাড়া নিয়ে শুরু করি প্রথমে। পরে গাজীপুরের এই মণিপুর কুড়িবাড়ি এলাকায় ১শ’ বিঘা জমি কিনে গড়ে তুলি বৃদ্ধাশ্রম। ১৯৯৫ সালের ২১ এপ্রিল শান্তিতে নোবেল পাওয়া মাদার তেরেসা উদ্বোধন করেন এটি।’

১৯৫৬ সালে বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন মুকুল; কিন্তু বেড়ে ওঠেন পাবনায়। এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ঢাকা এসে সিদ্ধেশ্বরী কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে পাড়ি জামান প্রবাসে। পাঁচ বছর আবুধাবি কাটিয়ে দেশে ফিরে শুরু করেন তৈরি পোশাকের ব্যবসা। গড়ে তোলেন গিভেন্সি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি শিল্প গ্রুপ। মুকুল বলেন, ‘গভীর রাতে প্রায়ই শহর ঘুরতে বের হই। রাস্তায় একা কোনো প্রবীণকে ঘুমাতে দেখলে নিজের গাড়িতে করে নিয়ে আসি আশ্রমে। পতিতালয়ের বৃদ্ধা, চা বাগানের প্রবীণ, শ্রমজীবী প্রবীণদেরও নিয়ে আসি। আশ্রমের সব বাসিন্দাই বাবা বলে ডাকেন আমাকে।’ তৃপ্তিছোঁয়া মুখ মুকলের, পুণ্যতার পূর্ণতায় চোখও, ‘এটা আমার পরম পাওয়া।’

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর